রক্তদান নাকি ব্যবসা? (Rokto Dan Jibon Dan)

0

রক্তদান জীবনদান(Rokto Dan Jibon Dan)। কিন্তু সত্যিই কি আমাদের দেওয়া রক্ত কোনও মুমূর্ষ রোগীর জীবন বাঁচাতে পারছে?

Rokto Dan Jibon Dan

যুগ পাল্টেছে, এগিয়েছে সমাজব্যবস্থা। মানুষের মধ্যে আগের তুলনায় অনেক বেশী সচেতনতা বেড়েছে। সত্যিই এখন রক্ত নিয়ে মানুষের জাত-পাত, ভেদাভেদ অনেক কমে গিয়েছে। মানুষ বুঝতে শিখেছে রক্তদানের প্রয়োজনীয়তা, কয়েক ফোঁটা রক্ত দিয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে মৃতপ্রায় কোনো ব্যক্তির নিকট। আধুনিক এবং সুস্থ সমাজব্যবস্থা’র জন্য এটা এক ধরণের সুসংবাদ বলা যায়।

 

কেনো রক্তের প্রয়োজন?

চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতি’র সাথে সাথে অনেক বিরল প্রকারের রোগ আবিষ্কার এবং রোগের চিকিৎসা আবিষ্কার হচ্ছে। এমন’ই একটি রোগের নাম ‘থ্যালাসেমিয়া’। সাধারণত এটি একপ্রকার জিনগত রোগ, যাতে রোগীর রক্তে হিমোগ্লোবিন প্রস্তুত ক্ষমতা কমে যায়। এই রোগ বৃহৎ আকার ধারণ করলে অনেক সময় অঙ্গচ্ছেদ’ও করতে হতে পারে। নিয়মিত রক্ত প্রদানের মাধ্যমে এই রোগ কিছুটা পরিমান নিয়ন্ত্রনে আনা সম্ভব।

এছাড়া, প্রাকৃতিক বিপর্যয় বা যে কোনও দুর্ঘটনার ফলে অনেক সময়’ই যে’কেও গুরুতরভাবে আহত হয় প্রতিদিন’ই। শরীর থেকে অনেক পরিমান রক্ত বেরিয়ে যাওয়াই তখন তাদের’কে বাঁচাতে প্রয়োজন হয় রক্ত।

 

“রক্তদান মহৎদান, রক্তের কোনো ধর্ম হয়না…”__ইত্যাদি অনেক ধরণের কথা আমরা আমাদের চলা-ফেরার পথে শুনতে পাই, কোনো’না’কোনো রক্তদান শিবিরের প্রচারে। কিন্তু ২ মিনিটের জন্য দাড়িয়ে ক’জন ভাবি, সত্যিই আমাদের রক্তের প্রতিটা বিন্দু কোনো মূমূর্ষ রোগীর উপকারে লাগছে কি?

 

সাধারণ মানুষেরা হয়তো ধারণা’ই করতে পারবে না যে প্রতি মুহূর্তে কী পরিমাণ ব্যবসা চলছে তাদের দেওয়া রক্ত নিয়ে, কতো পরিমাণ রক্ত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত কতৃপক্ষের অবহেলায়। যে সৎ উদ্দেশ্য সাধারণ মানুষ সাগ্রহে রক্তদান করছে তা নিয়ে চলছে কোটি কোটি টাকার ব্যবসা, নয়তো বা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে সেই রক্ত।

 

একটু ভালো করে ভেবে দেখলে’ই সব’টা বোঝা যাবে।

প্রতিদিন’ই পশ্চিমবঙ্গের কোনো’না’কোনো জেলায় আয়োজিত হচ্ছে রক্তদান শিবির। আবার ১৫’ই আগস্ট, ২৬’শে জানুয়ারি, ২৫’শে ডিসেম্বর ইত্যাদি বিশেষ বিশেষ তারিখে বিভিন্ন স্থান মিলে কয়েক’শো রক্তদান শিবির আয়োজিত হয়ে থাকে। পশ্চিমবঙ্গের মতো ভারতের এমন প্রতিটা রাজ্যেই আয়োজিত হয় অসংখ্য রক্তদান শিবির। সারা ভারতে কয়েক লক্ষ সাধারণ মানুষ রক্ত দান করে চলেছে। তা সত্ত্বেও, যখন’ই আমাদের ঘরের বা প্রতিবেশী কোনও কেও গুরুতরভাবে জখম হয়ে কয়েকফোঁটা রক্তের অভাবে মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়ে, কেনো দ্রুত রক্তের ব্যবস্থা করে ওঠা সম্ভব হয়না? ব্লাড ব্যাংক-এ কেনো রক্ত পাওয়া যায়না প্রয়োজনমতো? 

 

 

রক্তদান শিবিরে সাধারণ মানুষ স্বেচ্ছায় বিনামূল্যে রক্ত দান করলেও বাস্তবে কখনো’ই সেই রক্ত সম্পূর্ণ বিনামূল্যে গিয়ে পৌঁছোয়না কোনো গুরুতর আহত ব্যক্তির নিকট। সেই রক্ত নিয়ে কোটি কোটি টাকার ব্যবসা চলছে প্রতিনিয়ত; শুধু দেশে’ই নয়, দেশের বাইরেও কয়েক কোটি টাকা’য় লেন-দেন হয় সেই রক্ত।

 

তাহলে কি রক্তের অভাবে সকলে মারা যাচ্ছে?

না। আমাদের দেশে এখনও এমন অনেক মানুষ আছেন যারা যে’কোনো বিপদে মানুষের পাশে দাড়াতে প্রস্তুত, তাদের উদ্যোগে এমন অনেক ছোটো ছোটো ব্লাডমেট’স গ্রুপ সবসময় বড়ো বড়ো হাসপাতালের সাথে যোগাযোগ রেখে চলে। যখন’ই এইসব সংস্থা’গুলোর কাছে হাসপাতাল থেকে খবর যায় যে রক্তের প্রয়োজন, এরা প্রয়োজনমতো ব্লাডমেট খুঁজে যতো দ্রুত সম্ভব রোগীর পরিবারের কাছে পৌঁছে যায় এবং রক্তদানের মাধ্যমে বাঁচিয়ে তোলে একজন মৃতপ্রায় ব্যক্তি’কে।

 

এছাড়া, প্রচুর পরিমান রক্ত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে কতৃপক্ষের অবহেলায়। গ্রামাঞ্চলে যে’সব রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়, তার বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কোনও পরিক্ষা-নিরিক্ষা ছাড়াই মানুষের কাছ থেকে নেওয়া হয় রক্ত। পরে এই রক্ত আর কোনো কাজেই লাগেনা, কারণ তার মধ্যে অনেক সময়’ই গুরুতর কোনো রোগের জীবাণু থেকে যাওয়ার সম্ভবনা থাকে। ফলে সেই রক্ত পুরোপুরিভাবেই অগ্রহণযোগ্য হয়, এবং নষ্ট হয়ে যায়।

 

 

 

তাহলে কি রক্তদান করা উচিত নয়?

না; সেটার অর্থ, গুটিকতক স্বার্থান্বেষী ব্যক্তির কারণে দেশ ও দেশবাসীর প্রতি চরম অন্যায় হবে। আমাদের উচিত এটা নজর রাখা যে আমাদের স্বেচ্ছাই দান করা রক্ত যেনও সত্যিই পৌঁছে যায় কোনো মূমূর্ষ রোগীর কাছে।

সরকার’ও যাতে এ’ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়, সেই দিকেও নজর রাখতে হবে। প্রয়োজন হলে, আন্দোলনের মাধ্যমে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে।

 

মনে রাখতে হবে… এক ফোঁটা রক্ত বাঁচিয়ে তুলতে পারে একজন মূমূর্ষ ব্যক্তির প্রাণ।

আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
মন্তব্য
Loading...