পুজো মানেই মণ্ডপ, আলো, আর ভোগ। ঢাকের শব্দের সঙ্গে মিশে থাকে খিচুড়ির গন্ধ। বাঙালির কাছে দুর্গাপুজো শুধু ঠাকুর দেখা নয়, পেটপুজোও বটে।
অষ্টমীর দুপুর মানেই কলাপাতায় গরম গরম খিচুড়ি। জেনে নিন, মায়ের ভোগের থালায় ঠিক কোন কোন পদ থাকে।
পুজোর ভোগে মূলত কী কী থাকে?
পুরোটাই নিরামিষ।
মায়ের ভোগে মাছ-মাংসের জায়গা নেই। ভোগের খিচুড়ি, লাবড়া, চাটনি আর পায়েস, এই চার পদে চলে মূল আয়োজন। তার সঙ্গে থাকে ভাজা। কখনও লুচি, কখনও ছোলার ডাল। মণ্ডপভেদে মেনু বদলালেও এই চারটে থাকবেই।
খিচুড়ি কেন ভোগের রাজা?
সকালে উপোস থেকে দুপুরে ভোগ রাঁধার রীতি বহু পুরনো। গোবিন্দভোগ চাল, সোনামুগ ডাল, ঘি, আদা, কাঁচা লঙ্কা, এই মিশেলেই অমৃত স্বাদের ভোগের খিচুড়ি। স্বাদই বলে দেবে।
কাঠের উনুনে পিতলের হাঁড়িতে রান্না হলে স্বাদ আরও বাড়ে। মাটির হাঁড়ির গন্ধই আলাদা। খিচুড়ি সহজে হজম হয়, তাই ভোগে এর কদর এত। সেকথা সবাই জানে।

লাবড়া, চাটনি, পায়েস, বাকি পদগুলো কেমন হয়?
লাবড়া মানেই নানা সবজির মিশেল।
ফুলকপি, আলু, বাঁধাকপি, মটরশুঁটি, কুমড়ো, পটল সব একসঙ্গে কষিয়ে রান্না। লাবড়া-র সংগতেই খিচুড়ির স্বাদ দ্বিগুণ। চাটনি সাধারণত টক-মিষ্টি। টমেটো, আমসত্ত্ব, কিশমিশ, খেজুর দিয়ে তৈরি হয়। শেষপাতে পায়েস। তা ছাড়া ভোগ অসম্পূর্ণ।
কোন পুজোয় কী ভোগ, রকমফেরটা কেমন?
রকমফের কিন্তু অনেক। আদ্যাপীঠ, কালীঘাট, দক্ষিণেশ্বর, তারাপীঠ, মন্দিরভেদে ভোগের মেনু আলাদা। বাড়ির পুজোয় দেখা মেলে লুচি, ছানার তরকারি, নারকেল নাড়ু, সন্দেশের।
পল্লি অঞ্চলে ভোগে থাকে মুগমাখা, বাতাসা, কলা। দুর্গাপুজোর ইতিহাস আর রীতি নিয়ে বিস্তারিত পড়তে পারেন বাংলা উইকিপিডিয়ার দুর্গাপূজা পাতায়।
উপসংহার
ভোগ শুধু খাবার নয়, ভক্তিরই অংশ। মায়ের থালার প্রতিটি পদে থাকে ভালোবাসার মশলা। এবার পুজোয় মণ্ডপে ভোগ খেতে গেলে চারটে পদ চোখে পড়বেই।
আরও পড়ুন: কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর তারিখ, তিথি ও নিয়ম এবং দুর্গাপুজোর খরচ বাঁচানোর হিসাব








