পুজোর ছুটিতে বাড়ি ফেরা, না হয় ঘুরতে যাওয়া, দুটোর ভাবনাই এখন সবার মাথায়। টিকিট না পেলে আনন্দ অর্ধেক হয়ে যায়। এবার পুজোর বিশেষ ট্রেনে সেই দুশ্চিন্তা কাটাতে এগিয়ে এসেছে রেল।
পূর্ব রেল আর দক্ষিণ-পূর্ব রেল মিলে ঘোষণা করেছে ৫০০-র বেশি যাত্রা, মহালয়া পেরোলেই যাত্রীদের চাপ বাড়ে। আপনার রুটের ট্রেনটা কোন দিন, কখন, ভাড়া কত, সব এক জায়গায় জেনে নেওয়া যাক।
কোন কোন রুটে চলবে পুজোর বিশেষ ট্রেন?
উত্তরবঙ্গ আর উত্তর-পূর্বের পথে আছে হাওড়া-লুমডিং, কলকাতা-নিউ জলপাইগুড়ি, শিয়ালদহ-আলিপুরদুয়ার। বিহারের দিকে হাওড়া-রক্সৌল, শিয়ালদহ-পাটনা, শিয়ালদহ-সীতামঢ়ী, কলকাতা-মধুবনী। ওড়িশার সৈকতের টানে মালদা টাউন-দীঘা ছাড়াও শালিমার-পুরী, শালিমার-খুরদা রোড।
সবচেয়ে নজর কাড়ছে হাওড়া-লুমডিং আর কলকাতা-নিউ জলপাইগুড়ি স্পেশাল। দুটোই চলবে অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে নভেম্বরের শেষ পর্যন্ত। ট্রেনের নম্বরগুলোও নতুন, ০-সিরিজের, আগের নিয়মিত ট্রেনের থেকে একদম আলাদা।
হাওড়া-লুমডিং ও নিউ জলপাইগুড়ি স্পেশালের খুঁটিনাটি
০৩০০৫ হাওড়া-লুমডিং পুজো স্পেশাল প্রতি শুক্রবার সকাল ৭টা ১৫-তে হাওড়া ছাড়বে, ১৬ অক্টোবর থেকে ২৭ নভেম্বর। বাঁদেল, নবদ্বীপ ধাম, কাটোয়া, আজিমগঞ্জ, নতুন ফারাক্কা, মালদা টাউন ঘুরে পরদিন সকাল ৮টায় লুমডিং।
ফেরার পথে ০৩০০৬ লুমডিং ছাড়বে প্রতি শনিবার সকাল ১১টায়, ১৭ অক্টোবর থেকে ২৮ নভেম্বর। সব মিলিয়ে এই রুটে ৭টি যাত্রা, জেনারেল, স্লিপার, এসি সব কামরাই থাকছে। পাহাড়ের প্ল্যান থাকলে ধরুন কলকাতা-নিউ জলপাইগুড়ি স্পেশালটা।
০৩১২৯ প্রতি শনি ও রবিবার রাত ১১টা ১০-এ ছাড়ে, পরদিন ১০টা ৪৫-এ নিউ জলপাইগুড়ি পৌঁছয়। বুকিং খোলেনি এখনও।
ফিরতি ০৩১৩০ রবি-সোমবার ১২টা ৪৫-এ ছাড়ে, ১৭ অক্টোবর থেকে ২৯ নভেম্বর চলবে দুটো ট্রেনই।
ভাড়া কত, টিকিট কোথায় পাবেন?
ভাড়ার ক্ষেত্রে একটু সতর্ক থাকুন, বিশেষ ট্রেন মানেই রেল নেয় অতিরিক্ত চার্জ। স্লিপার আর এসি কামরায় ভাড়া বাড়ে ৩০ শতাংশ, সেকেন্ড সিটিংয়ে ১০ শতাংশ। নিয়মটা রেলের নিজস্ব, একে বলে ট্রেন অন স্পেশাল ফেয়ার।
টিকিট পাবেন আইআরসিটিসি-র সরকারি সাইটে, বুকিং খুললে সেখানেই প্রথম ভিড়টা। পুজোর আগে বারবার সাইটে নজর রাখুন, নিয়মিত ট্রেন ফুল দেখালে বিশেষ ট্রেনগুলোই তখন কাজের।
টিকিট কাটার আগে কয়েকটা জরুরি কথা
মনে রাখবেন, বিশেষ ট্রেনে বয়স্ক বা ছাত্রছাত্রীদের ভাড়া ছাড় নেই। নিয়মটা আগে জানা থাকলে বুকিংয়ের সময় ধাক্কা লাগবে না। সেটাই বড় কথা।
নম্বরটা লিখে রাখুন। ০-সিরিজের ট্রেন প্ল্যাটফর্মে খুঁজে পাওয়াটা কিন্তু বলে কথা, নম্বর থাকলেই সহজ।
ভিড়ের দিনে মেট্রো আর বাসেও চাপ পড়বে, তাই ট্রেনের সময়ের অন্তত এক ঘণ্টা আগে স্টেশনে পৌঁছে যান। দীর্ঘযাত্রায় সঙ্গে জল আর হালকা খাবার রাখুন। আরাম তো তখনই।
উপসংহার
পুজোর আনন্দ প্ল্যানটা যেন টিকিটের অভাবে মাটি না হয়, সেজন্য বুকিং শুরুর ঘোষণা এলেই নিজের রুটের ট্রেনটা আগে দেখে নিন। ব্যস, এটুকুই খুঁটিনাটি।
আরও পড়ুন: দীঘা ভ্রমণ গাইড আর কলকাতার দুর্গাপুজো মণ্ডপ গাইড।








