মহালয়ার ভোর মানেই কলকাতায় উৎসবের শুরু। এই বছর ১০ অক্টোবর, শনিবার মহালয়া, তার পর থেকেই সিটি জুড়ে সেজে ওঠে দুর্গাপুজো মণ্ডপ।
প্যান্ডেল হপিংয়ের মজা আলাদা। কোথায় যাবেন, কখন যাবেন, ভিড় এড়াবেন কী করে, এই হিসেব না মিললে অর্ধেক আনন্দ মাটি। এই লেখায় এক ঝলকে পেয়ে যাবেন কলকাতার মণ্ডপ দর্শনের পুরো হদিশ।
কবে থেকে মণ্ডপ ঘুরতে শুরু করবেন?

মহালয়ার দিনেই বেশির ভাগ প্রতিমার চোখ আঁকা হয়ে যায়। তার পরের দিন থেকেই মণ্ডপে মণ্ডপে সাজো সাজো রব। তাই ষষ্ঠীর আগের ২-৩ দিনই আসলে সেরা সময়। ভিড় কম। ছবির জায়গা খোলা। প্রতিমাও প্রায় তৈরি।
ষষ্ঠীর সন্ধে থেকে অবশ্য পুরোদমে শুরু। আলো জ্বলে ওঠে, নামে দর্শনার্থীর ঢল। মূল পুজোর দিনগুলোতে ভিড়ের চেহারাই বদলে যায়। কবে ষষ্ঠী, কবে দশমী, সেই পুরো দিনপঞ্জি আছে আমাদের আগের লেখায়। দুর্গাপুজোর ইতিহাস আর রীতিনীতি নিয়ে বিস্তারিত পড়তে পারেন উইকিপিডিয়ার দুর্গাপূজা পাতায়।
কলকাতার ১০ দর্শনীয় দুর্গাপুজো মণ্ডপ, কোন কোন এলাকায়?
চোখে দেখে নিন। তার পর রায় দিন।
- বোসপুকুর সার্বজনীন। উত্তর কলকাতার এই প্যান্ডেল প্রতি বছর বিশাল থিমের জন্য বিখ্যাত।
- সূর্য সেন স্ট্রিট। ঢাক আর আলোর খেলা দেখতে এখানেই আসতে হয়। ছোট্ট গলি, কিন্তু ভিড়টা বিশাল।
- একডালিয়া এভারগ্রিন। কাঠামো আর কারুকার্যে এ যেন আলাদা এক জগৎ।
- হাতিবাগান সর্বজনীন। পুরনো ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিক ঝলক। ঢোকার মুখেই দাঁড়িয়ে যেতে হয়।
- কলেজ স্কোয়ার। প্রায় একশো বছরের পুরনো পুজো, ভিন্টেজ প্রেমীদের জন্য মাস্ট।
- মহম্মদ আলী পার্ক। নজরকাড়া সাজে প্রতি বছর নতুন ছক। নিখুঁত কারিগরি, তাই ভিড় টেনে নেয়।
- শ্যামবাজার ৫ তারকা। নামে পাঁচ তারা, কাজেও তারকা-মানের।
- লেক মল। তরুণ দর্শনার্থীদের ভিড়, আলোর মধ্যে ছন্দ। সন্ধে নামলেই এখানে প্রাণ।
- চেতলা অগ্নিশিবা। দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম বড় নাম।
- কুমোরটুলি। এখানে প্যান্ডেল নয়, প্রতিমা গড়ার কারখানা। সপ্তমীর আগে এসে কারিগরদের হাতের কাজ দেখে যান।
মনে রাখবেন, প্যান্ডেল ঘুরতে ঘুরতে রাত পেরিয়ে যেতে পারে। তাই ছোট একটা তালিকা বানিয়ে বেরোন। ভালো লাগবে।
দিনের কোন সময়টা সেরা?
সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টে। এই সময় ভিড় থাকে তুলনামূলক কম। যাঁরা ছবি তুলতে ভালোবাসেন, তাঁদের জন্য সোনার সময়। আলোও থাকে মোলায়েম।
সন্ধ্যা ৭টা থেকে ৯টা আলোর ঝলকানিতে ভরে উঠলেও, ভিড় আর জ্যাম দুটোই বেড়ে যায়। এড়াতে চাইলে বেরোন রাত ১১টার পরে। অফিস ফেরত ভিড় তখন ছেড়ে গেছে, আলো তখনো জ্বলছে।
সব প্যান্ডেল অবশ্য রাত ১২টা পর্যন্ত খোলা থাকে না। আগে জেনে নিলে মন্দ নয়।
মণ্ডপ ঘোরার সময় কী কী মাথায় রাখবেন?
ভিড়ের মধ্যে মোবাইল আর মানির দিকে চোখ রাখুন। এমন দিনে হাতের ব্যাগ খোলা রাখা ঠিক নয়। ছোট নয় ব্যাপারটা।
বাচ্চাদের হাত চেপে ধরুন। কাঁধে তুলে নেওয়ার লোভ সামলান।
কিছু প্যান্ডেলের ভেতরে জুতো খোলার নিয়ম আছে। বাইরে নিয়ম লেখা থাকে। একবার দেখে নিন।
ছবি তুলতে গিয়ে অন্যের সামনে দাঁড়িয়ে যাবেন না। একটু অপেক্ষা করুন। তার পর ক্লিক। সবারই তো সমান অধিকার।
বয়স্ক কেউ থাকলে ভোরের সময়টাই নিরাপদ। ভিড় তখন কমে গেছে। শরীরও ভালো থাকবে।
দূরের প্যান্ডেলে যেতে মেট্রোই সবচেয়ে সহজ। নর্থ-সাউথ লাইন ধরে অর্ধেক কলকাতা হয়ে যায় হাঁটাপথ।
খিদে পেলে? মণ্ডপের খাবারই চলবে
পুজো মানেই খাবারের মেলা। লুচি-আলুরদম থেকে চাউমিন, ফুচকা থেকে পায়েস। প্রতিটা বড় প্যান্ডেলের সামনেই সার বেঁধে স্টল। গন্ধই বলে দেবে।
রোল আর ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের গন্ধ হ্যাঁচকা টানে। কিন্তু একটু সাবধান। যে স্টলে দর্শনার্থী বেশি, সেখানেই খাবার তাজা।
উপসংহার
মণ্ডপ দর্শন মানে শুধু ছবি তোলা নয়, শিল্প আর উৎসবের মিশেল। মহালয়ার ভোর থেকে দশমীর বিসর্জন, পুরোটা জুড়ে কলকাতা বদলে যায়। এবার ঠিক করে রাখুন, কোন কোন এলাকায় যাবেন। বাকিটা ভিড়ের মজায় মিশে যাওয়ার।
আরও পড়ুন: দুর্গাপুজো ২০২৬: ষষ্ঠী থেকে দশমীর দিনক্ষণ। সাজের হদিশ: দুর্গাপুজোয় কোন দিন কী পরবেন।






