২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাস। কলকাতার আকাশে বর্ষার শেষ টাপুর টুপুর। আর ঠিক সেই মরসুমেই হলজুড়ে চলছে সৃজিতের ‘উইঙ্কল টুইঙ্কল’।
ছবির প্রাণভোমরা ঋত্বিক চক্রবর্তী। এই অভিনেতার কথা বললে মনে আসে, প্রায় দু’দশক ধরে পর্দায় নিজের জায়গা করে নেওয়ার কথা। সেই পথটা এক লাইনের নয়, তাই ঋত্বিক চক্রবর্তীর জীবনীটা একবার খুঁটিয়ে দেখা যাক। কে জানে, চেনা কোনো চরিত্রের পেছনের মানুষটাও ধরা পড়ে যাবে।
| জন্ম তারিখ | ৩১ মার্চ ১৯৭৭ |
| জন্মস্থান | বারাকপুর, উত্তর চব্বিশ পরগনা |
| পেশা | অভিনেতা |
| প্রথম ছবি | ‘পাগলা প্রেমী’ (২০০৭) |
| স্ত্রী | অপরাজিতা ঘোষ দাস |
| বড় পুরস্কার | ফিল্মফেয়ার বাংলা সেরা অভিনেতা, ‘শব্দ’-এর জন্য (২০১৪) |
| উল্লেখযোগ্য ছবি | শব্দ, নগরকীর্তন, ভিঞ্চি দা, জ্যেষ্ঠপুত্র, উইঙ্কল টুইঙ্কল |
| সামাজিক মাধ্যম | ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল, এক্স প্রোফাইল |
শুরুর দিনগুলো কেমন ছিল?
বারাকপুরের ছেলেটা থিয়েটার থেকেই শুরু, ছেলেবেলায় বন্ধুদের ‘রূপকলা কেন্দ্র’ ছাত্র ছবি বানাত, তিনিও সেখানে অভিনয়ের টান টের পান। তবে সরাসরি ক্যামেরার সামনে নন, শুরুটা করেছিলেন ধারাবাহিকের স্ক্রিপ্ট লেখা দিয়ে।
২০০৩ সালে সেটাও ছেড়ে দেন। ভরসা? শুধুই নিজের ওপর।
আঞ্জন দত্তের টেলিফিল্ম, কিছু ধারাবাহিকেও কাজ। তারপর ‘রাতুল ও রানি’ ছবিতে বড় সুযোগ। কিন্তু প্রযোজনার জটে ছবিটা আর মুক্তি পায়নি। দুঃখের খবর বটে।
বড় পর্দায় অভিষেক আর প্রথম সাফল্য
২০০৭ সালে ‘পাগলা প্রেমী’-তে পর্দায় নাম, চরিত্র সূর্য। এরপর একে একে ‘চলো লেটস গো’, ‘ক্রস কানেকশন’, ২০১০ সালে রাজ চক্রবর্তীর ‘লে চাক্কা’-য় দেবের পাশে দ্বিতীয় প্রধান ভূমিকা।
আসল মোড়টা এল ২০১২ সালে। সৃজিতের ‘শব্দ’-য় তিনি তারক দত্ত, এক সাউন্ড ডিজাইনার। চরিত্রটা তাকে নিয়ে গেল ফিল্মফেয়ার বাংলার সেরা অভিনেতার পুরস্কারে, ২০১৪ সালে।

২০১৩-২০১৯: ঋত্বিক চক্রবর্তীর জীবনী বদলে দেওয়া ছবি
২০১৩ সালেই এক বছর ছ’টি ছবি। এরপর ‘এবার শবর’-এ পান্তু হালদার, ‘নির্বাক’-এ মৃত্যুঞ্জয় কর্মকার। আর ‘হার হার ব্যোমকেশ’ আর ‘ব্যোমকেশ পওরবো’-য় অজিত বন্দ্যোপাধ্যায়, ব্যোমকেশের বিশ্বস্ত সঙ্গী। কথাটাই আলাদা।
২০১৬ সালে ‘সাহেব বিবি গোলাম’-এর জাভেদ তাকে এনে দেয় ফিল্মফেয়ার ইস্টের সেরা সহ-অভিনেতার পুরস্কার। ২০১৭ সালে ‘নগরকীর্তন’-এ মধু, চরিত্রটা যতই অন্যরকম, চোখের সামনে ততই বিশ্বাসযোগ্য, কেরিয়ারের পুরো পরিক্রমা উইকিপিডিয়া পাতায় দেখে নিতে পারেন।
২০১৯ সালটাও জমজমাট। ‘ভিঞ্চি দা’-য় আদি বসু, ‘জ্যেষ্ঠপুত্র’-এ পার্থ। ‘জ্যেষ্ঠপুত্র’-এর জন্য ২০২১ সালে আবার ফিল্মফেয়ার ইস্টের সেরা সহ-অভিনেতা।
সম্প্রতি: ‘উইঙ্কল টুইঙ্কল’ আর ২০২৬-এর ব্যস্ত লাইনআপ
৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ মুক্তি পেল ‘উইঙ্কল টুইঙ্কল’। ঋত্বিক এখানে সব্যসাচী সেন। ছবির ‘না থাকা প্রিয়’ গানটাও স্রোতে ভাসিয়ে নিয়েছে দর্শকদের। গানটা এখনো কানে বাজে।
শুরুটা হল মাত্র। ২০২৬-এ হাতে আরও চারটে ছবি, ‘ফেরা’, ‘এখানে অন্ধকার’, ‘পাহাড়গঞ্জ হল্ট’, ‘কাবাডি কাবাডি’। ২০২১ সালে নিজের প্রযোজনার ওয়েব সিরিজ ‘বিরোহী’-ও করেছেন।
দর্শক কেন তাকে এত ভালোবাসেন?
প্রশ্নটা সহজ নয়। ঋত্বিক মানেই শুধু নায়ক নন, তিনিই চরিত্র, ঘাতক, গোয়েন্দার সঙ্গী, শিল্পী, যে চরিত্রই হোক, তাকে বিশ্বাস করা যায়।
সত্যি কথা। নিজের কথা কম বলেন। বোঝান কাজ দিয়েই। সেটাই তার জনপ্রিয়তার রহস্য।
উপসংহার
বারাকপুরের ছেলেটা আজ টলিউডের অন্যতম ব্যস্ত অভিনেতা। ৪৯ পেরিয়েও যে গতিতে তিনি চরিত্র বদলাচ্ছেন, তাতে মনে হয় বহু বছর পর্দাজুড়ে থাকবেন। পরের ছবিগুলোর অপেক্ষা, আর এটাই টলিউড প্রেম।
আরও পড়ুন
কোয়েল মল্লিকের জীবনী: রাজ্যসভা ছেড়ে টলিউডে ফেরা টালি-কুইন
‘দেশু ৭’: এক দশক পর এক ফ্রেমে দেব-শুভশ্রী, ১৬ অক্টোবর মুক্তি








