১৯২৩ সাল। ছাপার অক্ষরে নেমে এল এক অদ্ভুত বই। অথচ লেখক তখন শয্যাশায়ী, শরীরে অসুখের জ্বালা। ‘আবোল তাবোল’ তবু প্রকাশ পেল, নাম শুনেই বোঝা যায় কেমন বই। অদ্ভুত নাম।
এই বইয়ের ভেতরেই আছে রামগরুড়ের ছানা। যে ছানার একটাই কাজ, হাসি ঘৃণা করা। হাসির খবর পেলেই ভয়, মিট্মিটিয়ে চোখ, কান পেতে শোনা।
এই লেখায় থাকছে সেই বিখ্যাত ছড়াটি, সুকুমার রায়ের এক চিলতে পরিচয়। ভেতরের মজাও।
সুকুমার রায় কে ছিলেন?
৩০ অক্টোবর ১৮৮৭, কলকাতায় জন্ম। বাবা উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী, ছাপাখানা আর ছোটদের জগতের মানুষ। ছেলে সত্যজিৎ রায়, পৃথিবীখ্যাত চলচ্চিত্রকার।
সুকুমার ইংল্যান্ড থেকে ছাপার আধুনিক কৌশল শিখে ফিরে আসেন। সন্দেশ পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, সেখানেই ছোটদের জন্য লিখেছেন অসংখ্য ছড়া আর গল্প।
লেখককে আরও চেনার জন্য দেখুন উইকিপিডিয়ার সুকুমার রায় পাতা।
‘আবোল তাবোল’ কী ধরনের বই?
১৯২৩ সালে প্রকাশ, মৃত্যুর ঠিক আগে। ছড়া, গল্প, নাটক মিলিয়ে বিচিত্র সব রচনা, শিশুসাহিত্যে নয়া যুগের সূচনা।
নামটা নিজেই যেন ছড়া, আবোল তাবোল মানেই অবাস্তব, অদ্ভুত, মজার জগৎ, রামগরুড়ের ছানা সেই জগতেরই বাসিন্দা।

ছড়ার ভেতরের মজা
এই ছড়ায় হাসি মানা! রামগরুড়ের ছানারা হাসে না, হাসতে তাদের মানা। হাসির কথা শুনলেই বলে, ‘হাসব্ না-না, না-না’।
মজার ব্যাপার। হাসিকে এত ভয় পায় যে দখিন হাওয়ার সুড়সুড়িতেও নড়ে ওঠে, মেঘের কোণে হাসির বাষ্প শোনে কান পেতে।
শেষ পঙক্তিতে বাঁক, রামগরুড়ের বাসা ধমক দিয়ে ঠাসা, সেথায় নিষেধ হাসা। হাসির বিরুদ্ধে এত কড়াকড়ি, অথচ পড়ে হাসি থামে না। অদ্ভুত তো?
রামগরুড়ের ছানা: পুরোটা পড়ুন
পড়ুন ছড়াটি, নিয়ম মেনে হাসি চেপে।
রামগরুড়ের ছানা, হাসতে তাদের মানা,
হাসির কথা শুনলে বলে, ‘হাসব্ না-না, না-না’।
সদাই মরে ত্রাসে, ওই বুঝি কেউ হাসে!
এক চোখে তাই মিট্মিটিয়ে তাকায় আশে পাশে।ঘুম নাহি তার চোখে, আপনি বকে বকে
আপনারে কয়, ‘হাসিস্ যদি মারব কিন্তু তোকে!’
যায় না বনের কাছে, কিম্বা গাছে গাছে,
দখিন হাওয়ার সুড়সুড়িতে হাসিয়ে ফেলে পাছে!সোয়াস্তি নেই মনে, মেঘের কোণে কোণে
হাসির বাষ্প উঠছে ফেঁপে, কান পেতে তাই শোনে।
ঝোপের ধারে ধারে রাতের অন্ধকারে
জোনাক্ জ্বলে আলোর তালে হাসির ঠারে ঠারে।হাসতে হাসতে যারা হচ্ছে কেবল সারা
রামগরুড়ের লাগছে ব্যথা, বুঝছে না কি তারা?
রামগরুড়ের বাসা ধমক দিয়ে ঠাসা,
হাসির হাওয়া বন্ধ সেথায়, নিষেধ সেথায় হাসা।
স্বীকার করুন তো। অন্তত একবার হাসলেন, রামগরুড়ের ছানা তা জানে না।
কেন আজও এত জনপ্রিয়?
প্রায় একশো বছর পেরিয়েও এই ছড়া তাজা। স্কুলের বই, অনুষ্ঠানের আবৃত্তি, সর্বত্র রামগরুড়ের ছানা। পুরনো হয়নি।
আবোল তাবোলের জাদুই এমন, পাগলামির ভেতরে লুকানো তীক্ষ্ণ মজা, শিশু-বড় সবার টানে।
উপসংহার
একটা ছড়া, এক পাখির ছানা, আর হাসি নিয়ে এক অদ্ভুত বারণ। সুকুমার রায়ের কলমে এতটুকুও পুরনো হয় না। পড়ুন, হাসুন, আর ছানাদের মতো না হাসার ভান করুন।
আরও পড়ুন: সুকান্ত ভট্টাচার্যের অমর কাব্যকথা এবং কামিনী রায়ের জীবনী








