মাত্র কয়েক দিন পরেই ঘরে ঘরে উঠবে গণপতি বাপ্পার আহ্বান। গণেশ চতুর্থী ২০২৬ পড়ছে সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর। বাংলা মাসের হিসেবে ২৮ ভাদ্র। এই একটা দিনেই বাধা ভাঙে, নতুন কাজ শুরু হয়, মন ভরে ওঠে ভরসায়।
গণেশ হলেন বিঘ্নহর্তা। তাই রীতিই বলে, কোনও পুজোর আগে প্রথমে গণেশের বন্দনা। কাজ শুরুর আগে, সংসারের নতুন উদ্যোগে, এমনকি পরীক্ষার হলে ঢোকার আগেও বহু মানুষ মনে মনে শুধুন তাঁর নাম। কোন মন্ত্র, কখন, কীভাবে পড়বেন? গুছিয়ে বলছি।
গণেশ চতুর্থী ২০২৬ কবে, পুজোর সময় কতটা?
তিথি অনুযায়ী চতুর্থী শুরু হচ্ছে ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টা ৮ মিনিটে, শেষ হবে ১৫ সেপ্টেম্বর সকালে। পঞ্জিকার হিসেবে সোমবারটাই মূল পুজোর দিন। ঘরে মাটির গণেশ বসাবেন যারা, তাঁদের জন্য সকালটাই শ্রেয়।
| কী | কবে / কতটা |
| গণেশ চতুর্থী ২০২৬ | সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর |
| বাংলা তারিখ | ২৮ ভাদ্র |
| চতুর্থী তিথি শুরু | সকাল ৭টা ৮ মিনিট |
| বিসর্জন | অনন্ত চতুর্দশীতে |

গণেশের বীজ মন্ত্র আর প্রণাম মন্ত্র
সবচেয়ে ছোট, সবচেয়ে জনপ্রিয় মন্ত্রটাই বীজ মন্ত্র। ছয়টা অক্ষর। মুখস্থ থাকলে যে কোনও সময়, যেখানে সেখানেই পড়া যায়। কথাটা ছোট, জাদুর মতো। রোজ সকালে কাজে বেরোনোর আগে একবার উচ্চারণ করাকে শুভ মনে করা হয়।
ওম গং গণপতয়ে নমঃ
আর প্রণাম মন্ত্রটা হল একদণ্ড মহাকায়। একদণ্ড, লম্বোদর, গজানন, বিঘ্নবিনাশক, হেরম্ব। প্রতিটা নামের পেছনে একটা করে গল্প আছে। উচ্চারণ করতে করতে মনে হয়, দেবতাকে কাছে ডাকা হচ্ছে নাম ধরে।
একদণ্ডং মহাকায়ং লম্বোদর গজাননম।
বিঘ্নবিনাশকং দেবং হেরম্বং প্রণমাম্যহম।
কাজের বাধা দূর করতে বক্রতুণ্ড মন্ত্র
নতুন ব্যবসা, নতুন বাড়ি, নতুন চাকরির ইন্টারভিউ। কোনও কাজ শুরুর আগে এই মন্ত্রটাই বেশি শোনা যায়। মন্ত্রের কথাটাই শুনুন। প্রার্থনা একেবারে সোজা। সব কাজে আমার কোনও বাধা থাকুক না। এই আশীর্বাদটাই তো চাই সবার আগে।
ওম বক্রতুণ্ড মহাকায় সূর্যকোটি সমপ্রভ।
নির্বিঘ্নং কুরু মে দেব সর্বকার্যেষু সর্বদা।
গণেশ গায়ত্রী আর সিদ্ধিদাতা মন্ত্র
বড়জোর একাগ্র মন নিয়ে পড়লে গায়ত্রী মন্ত্রটা দিনে একবার। এর সঙ্গে সিদ্ধিদাতা গণেশের প্রণাম মন্ত্রও পড়া যায়, সর্ববিঘ্ন বিনাশয় সর্বমঙ্গল হেতবে। মানেটাও সাফ, সব বিঘ্ন দূর করুন, সব মঙ্গল করুন। নিয়ম মাত্র সোজা। আলাদা করে কোনও জটিল আচার তো নেই।
ওম একদণ্তায় বিদ্মহে বক্রতুণ্ডায় ধীমহি তন্নো দন্তিঃ প্রচোদয়াৎ।
পুজোর নিয়ম, ফল আর ভোগ কী কী?
গণেশ পুজোয় নিয়ম খানিকটা সোজাসাপ্টা। স্নান সেরে মুখে তিলক, মুখোমুখি বসে কড়ি দিয়ে দেবতার স্নান করানো, তারপর লাল ফুল, দর্বা, ধূপপ্রদীপ আর নৈবেদ্য। প্রসাদের তালিকায় একেবারে আগে থাকে মোদক। কথাই আছে, গণেশের সবচেয়ে প্রিয় এই খাবার। বাজারে কিনবেন বা ঘরে বানাবেন, সঙ্গে থাকুক নারকেল, কলা আর খোঁয়া। সন্ধ্যায় ২১ টি দর্বা আর মোদক নিবেদন করাই প্রচলিত নিয়ম। উত্তর ভারতে অনেকে সন্ধ্যায় চাঁদকে চোখে পড়তে দেন না, চাঁদদোষ কথাটা আজও প্রচলিত।
এবার হিসেবটা সোজা। মনে রাখার সুবিধার জন্য একটু গুছিয়ে দিই।
- রোজ সকালে বীজ মন্ত্র, ১১ বার বা ২১ বার
- বড় কাজ শুরুর আগে বক্রতুণ্ড মন্ত্র
- পুজোর দিনে প্রণাম মন্ত্র আর গণেশ গায়ত্রী
- ভোগে মোদক, দর্বাঘাস, লাল ফুল আর দুর্বা
মোদক নিয়ে পড়তে গেলে তো বাধাই নেই। কেউ ভাতের পিঠে বানায়, কেউ নকুলে, কেউ আবার সন্দেশের স্বাদে। প্রসাদের থালাটা যত রঙিন, উৎসবও তত জমে।
উপসংহার
সংক্ষেপে ফিরে আসি। গণেশ চতুর্থী ২০২৬ সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর, তিথি শুরু সকাল ৭টা ৮ মিনিটে। বীজ মন্ত্রটা মুখস্থ থাক, বাকিটা যেমন সুবিধে। যেখানে যখনই বিপদে পড়বেন, মনে মনে শুধুন গণপতি বাপ্পার নাম। মায়ার সেই ডাক, গণপতি বাপ্পা মোরিয়া। এরপর কাজে নামার আগে দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সব তারিখটাও এক নজরে দেখে নিন। শুভ গণেশ চতুর্থী!








