আধার কার্ডে নাম, ঠিকানা বা জন্মতারিখের ভুল? থাকতে পারে তো। আর ভুল সারাতে আগে খরচও লাগত। এবার তবে সুযোগ ফ্রি। কারণ, UIDAI বাড়িয়ে দিয়েছে ফ্রি আপডেটের সময়সীমা। আগামী ১৪ জুন ২০২৭ পর্যন্ত ঘরে বসেই বদলে ফেলতে পারবেন এই তথ্য। জেনে নিন খুঁটিনাটি।
ফ্রি মানেই শুধু টাকা বাঁচানো নয়। সময়ও বাঁচবে। নাম, ঠিকানা, জন্মতারিখ বা লিঙ্গ সংশোধনের জন্য আর সেবা কেন্দ্রে ছুটতে হবে না, ইন্টারনেট আর একটা স্মার্টফোন থাকলেই চলবে। কোন কোন নথি লাগবে, কীভাবে করবেন, চলুন ধাপে ধাপে দেখা যাক।
কী কী আপডেট করা যাবে ফ্রিতে?
আধারে মূলত চারটি তথ্য আপডেট করা যায়। নাম, জন্মতারিখ, লিঙ্গ আর ঠিকানা। এই চারটিই এবার অনলাইনে বদলানো যাবে, তাও ফ্রি। প্রমাণ হিসেবে নথি আপলোড করতে হবে। আর কী চাই!

কিন্তু ছবি, আঙুলের ছাপ বা চোখের মণির ছবি বদলাতে গেলে যেতে হবে সেবা কেন্দ্রে। সেই কাজে ফি লাগে, তাই প্রথমে ঠিক করুন আপনার কোনটা দরকার। তার পর পদ্ধতি বেছে নিন। বুঝলেন তো?
অনলাইনে আপডেটের পদ্ধতি কী?
সব কাজই হবে UIDAI-র দাপ্তরিক পোর্টাল থেকে। কাজ শুরু করুন myAadhaar পোর্টাল খুলে। ১২ সংখ্যার আধার নম্বর আর মোবাইলের ওটিপি দিয়েই লগ ইন। এর পর বেছে নিন উপরের ‘আপনার আধার আপডেট করুন’ অপশনটি। সহজ তো!
কোন ফিল্ড বদলাবেন, সেটা আগে ঠিক করুন। তার পর নিচের ধাপগুলো মেনে চলুন। সবচেয়ে আগে লগ ইন করে ‘আপডেট’ অপশনে ক্লিক করুন। এর পর যে তথ্য বদলাতে চান, সেটা বেছে নিন। এবার নথির স্ক্যান কপি আপলোড করুন। একবার দেখে নিন, তার পর জমা দিন। সঙ্গে সঙ্গে পাবেন একটা URN, মানে আপডেট রিকোয়েস্ট নম্বর। ওই নম্বর দিয়ে লগ ইন করে স্ট্যাটাসও দেখা যায়। এতটুকুই।
কী কী নথি লাগবে?
ঠিকানা বদলাতে চাইলে জমা দিন পাসপোর্ট, ভোটার কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ব্যাংকের পাসবুক বা রেশন কার্ডের কপি। নাম আর জন্মতারিখের জন্য পাসপোর্ট, ম্যাট্রিকের সার্টিফিকেট কিংবা জন্মসনদ জমা দিতে হবে। দরকারি ফাইলগুলো হাতের কাছেই রাখুন। সোজা কথা।
নথির কপি যত পরিষ্কার হবে, আপডেট তত জলদি হবে। ঝাপসা ছবি মানেই ফের জমা দেওয়া, তাই আলোর সামনে ছবি তুলুন। সত্যি কথা।
আপডেটের খরচ কত, কত দিন লাগে?
১৪ জুন ২০২৭ পর্যন্ত এই অনলাইন আপডেট সম্পূর্ণ ফ্রি। তার মানে এক পয়সাও দিতে হবে না। আর নতুন কার্ডটা হাতে চাইলে মাত্র ৫০ টাকা দিয়ে মিলবে পিভিসি কার্ড। ডিজিটাল কপি, মানে e-Aadhaar, তো একদম ফ্রি। কত দিন লাগবে সেটার নিশ্চয়তা নেই। URN নম্বর দিয়ে চেক করে যান।
কেন এখনই করে ফেলবেন?
মনে রাখুন, এই ফ্রি সুবিধা চিরকাল থাকবে না। ব্যাংক, সিম, ভোটার তালিকা কিংবা চাকরির কাগজপত্র, অনেক জায়গাতেই আধারের তথ্য মিলিয়ে দেখা হয়। পুরনো ভুল থাকলে কাজ আটকে যেতে পারে। সময় থাকতে গুছিয়ে নিন। এ সময়টাই সেরা।
আরও পড়ুন: রেশন কার্ডের e-KYC গাইড আর আধারের ম্যান্ডেটরি বায়োমেট্রিক আপডেটের খবর।








