বর্ষার কবি রবীন্দ্রনাথ; রবীন্দ্রনাথের বর্ষার গান-কবিতা-প্রবন্ধ

0

কবি মাত্রেই কিছু না কিছু রোমান্টিক। কবি তার জগতের পাশাপাশি কল্পনায় এক জগৎ তৈরী করেন। যেখানে কোন সীমানা থাকে না। তেমনি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। গত ২২ শে শ্রাবণ কবি গুরুর মৃত্যুবার্ষিকীতে বং দুনিয়ার পক্ষ থেকে সশ্রদ্ব নমস্কার।

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গানের পাশাপাশি প্রবন্ধ রচনা করেছেন। বর্ষার অপরূপ বর্ণনা পাওয়া যায় তার নববর্ষা, কেকাধ্বনি প্রবন্ধে। নববর্ষায় মূলত কালিদাসের মেঘদূত নিয়ে আলোচনা করেছেন।

বাঙালির চিত্তে বর্ষার যে কত ছন্দ, ভাব সঞ্চার করতে পারে তার পরিচয় মেলে রবীন্দ্রনাথে গানে। সংখ্যার বিচারে বর্ষাকে নিয়ে রবীন্দ্রনাথের লেখা ১১২টি।

গহন ঘন ছাইল গগন ঘনাইয়া আবার কখনো আষাঢ়সন্ধ্যা ঘনিয়ে এল, গেল রে দিন বয়ে বা আজ বারি ঝরে ঝরঝর ভরা বাদরে। বর্ষা মানুষকে উদাস করে তেমনিও রবীন্দ্রনাথও উদাসি হয়েছেন বিদায় বেলার কথা বলেছেন আমার দিন ফুরালো ব্যাকুল বাদলসাজেঁ। বর্ষার মনের যত যেন বলতে মন চায় তবু বলা যায় তাই মনটা ভার হয়ে থাকে তাই হয়ত কবি বলেন “আজ কিছুতেই যায় না মনের ভার।“

বর্ষার পাশাপাশি ঝড়ও কবিকে করেছে আলোড়িত তাই কবির গানের ভাষায় “ওরে ঝড় নেমে আয়, আয় রে আমার শুকনো পাতার ডালা” আবার “ওই-যে ঝড়ের মেঘের কোলে” সারা রাত বর্ষার শেষে কবির মনকে করে আন্দোলিত। কবি গেয়ে উঠেন “আজি বর্ষারাতের শেষে”। বর্ষার শেষে সকাল বেলায় মেঘ কেটে গেলে যেমন সবার ভাল লাগে তেমনি কবি বলে উঠেন “আজি মেঘ কেটে গেছে সকালবেলায়”

প্রবন্ধ, গান রচনার পাশাপাশি কবিগুরুর কবিতা থেকে বর্ষা বাদ পড়েনি। তাই তিনি আষাঢ় কবিতায় বলেছেন “নীল নবঘনে আষাঢ়গগনে; তিল ঠাঁই আর নাহি রে।“ আবার বর্ষার দিনে বলে বলেছেন “এমন দিনে তারে বলা যায়, এমন ঘনঘোর বরিষায়!” বর্ষার দিনে কবির বলতে মন চায় কিন্তু কাছে তো কেউ থাকে না। তাই কবি বাদল কবিতায় বলেন “একলা ঘরে বসে আছি, কেউ নেই কাছে”। এরকমই ভাবে কবিগুরু আত্মস্বর, উপকথা, একাল ও সেকাল, নদীযাত্রা কবিতা রচনা করেছেন।

কবিগুরুর বিখ্যাত কবিতা সোনার তরী যা এই বর্ষাকে নিয়ে রচিত। এখানে কবি বলেন “গগনে গরজে মেঘ, ঘন বরষা। কূলে একা বসে আছি, নাহি ভরসা। রাশি রাশি ভারা ভারা ধান-কাটা হল সারা, ভরা নদী ক্ষুরধারা খরপরশা- কাটিতে কাটিতে ধান এল বরষা।

বাঙ্গালীর কর্মক্ষেত্র সহ সর্বত্রই বর্ষার অপরিসীম মূল্য। এসময় ধান চাষ করা হয়। কৃষকেরা তার জমিকে মনে করে এসময়ে যৌবনবতী হয়ে উঠে। কৃষকেরা ধান লাগিয়ে বাড়িতে এসে রচনা করে পালা, গান, কবিতা। তার থেকে বাদ যাননি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। বর্ষার দিনে কবিগুরুকে আমাদের পক্ষ থেকে সশ্রদ্ধ নমস্কার।

আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
মন্তব্য
Loading...