কলকাতার বুক চিরে বয়ে গেছে হুগলি নদী। তার পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা বাবুঘাটের নামটা শুনলেই চোখে ভাসে হাওড়া যাওয়ার নৌকোর ভিড়। এবার সেই ঘাট থেকেই ওঠা যাবে অন্য এক যাত্রায়। গন্তব্য? নদিয়ার মায়াপুর।
হুগলি নদী ধরে পর্যটনের যে বড় পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য সরকার, তার প্রথম পদক্ষেপ এই বাবুঘাট-মায়াপুর ফেরি। পথে জুড়বে দক্ষিণেশ্বর, বেলুড় মঠ, শ্রীরামপুর, চন্দননগর, ব্যান্ডেলের মতো নদীতীরের পরিচিত নামগুলো। ভ্রমণ পছন্দ করেন যাঁরা, তাঁদের জন্যই আজকের খবরটা জমজমাট। দারুণ খবর!
কোথা থেকে কোথায় যাবে ফেরি?
পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ জানিয়েছেন, বাবুঘাট-মায়াপুর রুটে চলবে দুটি হাইব্রিড ডিজেল-ইলেকট্রিক ফেরি। প্রতিটি ফেরিতে একশো জন করে যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন।
ফেরি দুটি বানাচ্ছে কলকাতার গার্ডেন রিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স। খবরটা নিশ্চিত, কারণ ওই প্রতিষ্ঠানের দাপ্তরিক ঘোষণাতেই আছে এই তথ্য। আর এই ভেসেলগুলোকে ঘিরেই গড়ে উঠছে গঙ্গার ধারে ছোট্ট ইউরোপ নামের পর্যটন করিডর। কথা সত্যি।
কলকাতা থেকে মায়াপুর পর্যন্ত পুরো রুটটাই যুক্ত হবে এক পথে। মানে, এক ভ্রমণেই মিলবে ধর্ম, ইতিহাস আর স্থাপত্যের স্বাদ।

পথে চোখে পড়বে কোন কোন জায়গা?
ফেরি ছাড়বে বাবুঘাট থেকে। প্রথম ধাপে চোখে পড়বে দক্ষিণেশ্বরের মন্দির আর বেলুড় মঠের স্থাপত্য। তারপর ওপারে শ্রীরামপুর, চন্দননগর, ব্যান্ডেলের মতো শহর, ঔপনিবেশিক যুগের চিহ্ন যেখানে আজও টিকে আছে। ব্যারাকপুর পেরিয়ে শেষে মায়াপুর, ইসকনের বিশ্বসদর।
ব্যারাকপুরে পর্যটন দফতর গড়ে তুলছে উৎসধারা পার্ক। সেখানে আলো-শব্দের অনুষ্ঠান দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হবে স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস।
সবুজ ফেরিতে চড়ে এক ভ্রমণেই গঙ্গার দুই পাড় ঘুরে আসা যাবে। নদীর মাঝ থেকে শহর দেখার মজাই আলাদা। এমন অভিজ্ঞতা এবারই প্রথম পেতে চলেছে বাংলার মানুষ। মজার!
জেটি আর চার্জিং স্টেশন কোথায় হবে?
ফেরি দুটি সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব। লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি, সোলার প্যানেল, অগ্নিনির্বাপণ আর জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম, সবই থাকবে জাহাজে।
ভারতীয় রেজিস্টার অফ শিপিং-এর ছাড়পত্রও আছে এই ভেসেলগুলোর। ব্যারাকপুর, শ্রীরামপুর, চন্দননগর আর হুগলিতে তৈরি হতে পারে চার্জিং স্টেশন। কলকাতা, ব্যারাকপুর, শ্রীরামপুর, চন্দননগর, হুগলি, কালনা, নদিয়া আর বরানগরে হবে নতুন জেটি। পরিকাঠামো গড়ে তুলবে পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগম। এত কিছু!
অপেক্ষা শুধুই।
ভাড়া কত? কবে চালু হবে?
ভাড়া নিয়ে এখনও সরকারিভাবে কিছু জানানো হয়নি। রুট চালুর নির্দিষ্ট তারিখও নেই। তবে প্রস্তুতি যে জোরকদমে এগোচ্ছে, ফেরি কেনার ঘটনাই তার প্রমাণ। আপডেট আসুক।
দুর্গাপুজোর আগে ব্যারাকপুরের উৎসধারা পার্ক চালুর চেষ্টা চলছে। তারপর ধীরে ধীরে চালু হবে নতুন রুটগুলো, মনে করছে পর্যটন দফতর।
জলপথ পর্যটন মানে শুধু ঘোরাঘুরি নয়। মাঝি, গাইড, হোটেল, স্থানীয় বিক্রেতা, সবার জন্যই নতুন কর্মসংস্থান খুলবে। নদীতীরের ছোট শহরগুলোর চেহারাও বদলে যেতে পারে। হুগলির এই নতুন রুটটা তাই শুধু ভ্রমণপিপাসুদের নয়, গোটা রাজ্যের জন্যই খবর। সেটাই বড় কথা।
আরও পড়ুন: সুন্দরবন ভ্রমণের খরচ, রুট ও পারমিটের গাইড
আরও পড়ুন: পুজোর বিশেষ ট্রেনের রুট ও তারিখের খুঁটিনাটি।








