পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এমন এক জায়গা আছে যেখানে আপনি ফুটন্ত গরম জলের প্রস্রবণ দেখতে পাবেন! হ্যাঁ, ঠিক শুনেছেন। বক্রেশ্বর তার উষ্ণ প্রস্রবণ আর প্রাচীন মন্দিরের জন্য বিখ্যাত। কলকাতা থেকে মাত্র কয়েক ঘণ্টার দূরত্বে এই জায়গাটি একদিনের ভ্রমণের জন্য দারুণ অপশন।
বক্রেশ্বর শুধু একটি পর্যটন কেন্দ্র নয়, এটি একটি শক্তিপীঠও বটে। এখানে রয়েছে একাধিক মন্দির আর দশটি উষ্ণ প্রস্রবণ যার প্রত্যেকটির আলাদা নাম ও মহিমা আছে। পৌরাণিক কাহিনী, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর ধর্মীয় আবহ, সব মিলিয়ে বক্রেশ্বর সত্যিই ঘুরে দেখার মতো একটা জায়গা।
বক্রেশ্বর কেন বিখ্যাত?
বক্রেশ্বর মূলত বিখ্যাত তার উষ্ণ প্রস্রবণ এবং প্রাচীন শিব মন্দির এর জন্য। বিজ্ঞানীদের মতে, এই প্রস্রবণের জলের তাপমাত্রা ৫০° থেকে ৭০° সেলসিয়াস পর্যন্ত হয়। এই জলে প্রচুর পরিমাণে গন্ধক ও খনিজ পদার্থ আছে, যা বিভিন্ন চর্মরোগের জন্য উপকারী বলে মনে করা হয়।
শুনলে অবাক হবেন, এখানে মোট ১০টি উষ্ণ প্রস্রবণ আছে। এদের মধ্যে অগ্নিকুণ্ড, ভৈরবকুণ্ড, ব্রহ্মকুণ্ড, কাশীকুণ্ড, সপ্তমুখী কুণ্ড সবথেকে বিখ্যাত। প্রতিটি কুণ্ডের নিজস্ব কাহিনী আছে। স্থানীয়দের মতে, এই কুণ্ডগুলোতে স্নান করলে চর্মরোগ সেরে যায়।
বক্রেশ্বর মন্দির ও শক্তিপীঠ
বক্রেশ্বর একটি ৫১ শক্তিপীঠের অন্যতম। পুরাণ অনুযায়ী, এখানে দেবী সতীর ভ্রূযুগল পড়েছিল। তাই এই পীঠের নাম বক্রেশ্বরী। এখানে একটি প্রাচীন শিব মন্দির রয়েছে যার নাম বক্রনাথ মন্দির। মন্দিরের স্থাপত্যশৈলী দেখলে মুগ্ধ হতে বাধ্য।

কলকাতা থেকে বক্রেশ্বর যাওয়ার উপায়
কলকাতা থেকে বক্রেশ্বরের দূরত্ব প্রায় ২৪০ কিলোমিটার। যাতায়াতের জন্য একাধিক উপায় আছে। আপনি চাইলে ট্রেন, বাস অথবা নিজের গাড়ি নিয়েও যেতে পারেন। সবচেয়ে সহজ এবং সস্তা উপায় হল ট্রেনে যাওয়া।
ট্রেনে যাতায়াত
প্রথমে হাওড়া স্টেশন থেকে সিউড়ি বা রামপুরহাট যাওয়ার ট্রেন ধরুন। হাওড়া-সিউড়ি রুটে একাধিক ট্রেন আছে। সিউড়ি থেকে বক্রেশ্বরের দূরত্ব প্রায় ২৫ কিলোমিটার। সিউড়ি থেকে বাস বা টোটো করে বক্রেশ্বর পৌঁছে যেতে পারেন। মোট সময় লাগবে ৪-৫ ঘণ্টা। ভাড়া পড়বে ২০০-৩০০ টাকার মতো।
বাসে যাতায়াত
কলকাতার ধর্মতলা অথবা শ্যামবাজার বাস স্ট্যান্ড থেকে সিউড়ি যাওয়ার বাস পাওয়া যায়। এসবিএসটিসি এবং বেসরকারি বাস দুটোই আছে। সিউড়ি থেকে বক্রেশ্বর যাওয়ার জন্য লোকাল বাস বা ভাড়াগাড়ি পাওয়া যায়। নিজের গাড়ি থাকলে এনএইচ ১৯ ধরে পাঁশকুড়া, বর্ধমান হয়ে সিউড়ি, তারপর বক্রেশ্বর পৌঁছাতে পারেন।
বক্রেশ্বরে দর্শনীয় স্থান ও থাকার ব্যবস্থা
বক্রেশ্বরে আসলে বেশ কিছু জিনিস দেখার আছে। প্রথমেই যান বক্রনাথ মন্দিরে। এরপর ঘুরে দেখুন দশটি উষ্ণ প্রস্রবণ। বিশেষ করে অগ্নিকুণ্ড আর কাশীকুণ্ড খুবই বিখ্যাত। কাছাকাছি ফুল্লরা মন্দির এবং হংসেশ্বরী মন্দির ও দেখতে পারেন।
থাকার জন্য বক্রেশ্বরে পর্যটন বাংলোর ব্যবস্থা আছে। পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন বিভাগের বক্রেশ্বর ট্যুরিস্ট লজে থাকতে পারেন। এছাড়া সিউড়ি এবং রামপুরহাটেও থাকার জন্য ভালো হোটেল আছে। সেরা সময় অক্টোবর থেকে মার্চ মাস। এই সময় আবহাওয়া মনোরম থাকে আর ভ্রমণের জন্য উপযুক্ত।
উপসংহার
বক্রেশ্বর পশ্চিমবঙ্গের এমন একটি জায়গা যেখানে ধর্ম, ইতিহাস আর প্রকৃতি একসাথে মিশে আছে। কম খরচে, একদিনেই ঘুরে আসা যায় এই জায়গাটি। সপ্তাহান্তে একটু ঘুরে আসার জন্য বক্রেশ্বর হতে পারে দারুণ এক অপশন। আরও পড়ুন: দার্জিলিং ভ্রমণ গাইড।
আপনি কি বক্রেশ্বর ঘুরে এসেছেন? আপনার অভিজ্ঞতা কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আর হ্যাঁ, গরমের ছুটিতে বক্রেশ্বর যাওয়ার প্ল্যান করলে অবশ্যই আগে থেকে থাকার ব্যবস্থা করে নেবেন। শুভ ভ্রমণ!








