যাত্রীদের জন্য সুখবর। উত্তরবঙ্গ থেকে এবার, সরাসরি দক্ষিণ ভারত! ৪টি নতুন অমৃত ভারত এক্সপ্রেস চালু হয়েছে। ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬-এ মালদা টাউন স্টেশন থেকে এই ট্রেনগুলির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
কাজ, পড়াশোনা বা ব্যবসার কারণে যাঁরা বেঙ্গালুরু, মুম্বই কিংবা তামিলনাড়ু যাতায়াত করেন, তাঁদের জন্য বড় সুবিধা। নিউ জলপাইগুড়ি আর আলিপুরদুয়ার থেকে এবার সরাসরি ট্রেন পাবেন। কোন ট্রেন কবে ছাড়ে, ভাড়া কত, টিকিট বুক করবেন কীভাবে, জেনে নিন খুঁটিনাটি।
অমৃত ভারত এক্সপ্রেস কী?
সংক্ষেপে বললে, দূরপাল্লার বাজেট ট্রেন। নন-এসি স্লিপার ও জেনারেল কোচ নিয়ে চলে অমৃত ভারত। বিশেষত্ব হলো ট্রেনের দু-প্রান্তে দুটি লোকোমোটিভ থাকে, তাই টান আর ঠেলা দুটোই। ২২টি কোচে মোবাইল চার্জিং পয়েন্ট, বায়ো-ভ্যাকুয়াম শৌচালয়, সিসিটিভি ক্যামেরা আর অগ্নি নিরাপত্তার ব্যবস্থা আছে।
ভাড়া যে হারে, সেটাই আসল কথা। প্রতি ১,০০০ কিলোমিটারে গড়ে ৫০০ টাকা। গতিশীল দামের খেলা নেই। সাধারণ মানুষের কাছেই এই ট্রেন। ধারণা আর ইতিহাস সম্পর্কে আরও জানতে উইকিপিডিয়ার অমৃত ভারত এক্সপ্রেস পাতা দেখে নিতে পারেন।
কোন কোন রুটে চালু হলো নতুন ট্রেন?
এবার মোট ৯টি নতুন অমৃত ভারত এক্সপ্রেস চালু হয়েছে। এগুলির সূচনা পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম থেকে, মোট ৭টি রাজ্য ছুঁয়ে চলবে ট্রেনগুলি। তার মধ্যে ৪টি পেয়েছে উত্তরবঙ্গ, নিউ জলপাইগুড়ি থেকে নাগেরকয়েল ও তিরুচিরাপল্লি। আলিপুরদুয়ার থেকে বেঙ্গালুরু ও মুম্বই।
| রুট | ট্রেন নম্বর | ছাড়ার দিন-সময় | পৌঁছানোর সময় |
|---|---|---|---|
| নিউ জলপাইগুড়ি থেকে নাগেরকয়েল | ২০৬০৩ | প্রতি বুধবার বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিট | তৃতীয় দিন রাত ১১টা |
| নিউ জলপাইগুড়ি থেকে তিরুচিরাপল্লি | ২০৬০৯ | প্রতি শুক্রবার বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিট | তৃতীয় দিন বিকেল ৪টা ১৫ মিনিট |
| আলিপুরদুয়ার থেকে বেঙ্গালুরু | ১৬৫৯৮ | প্রতি সোমবার রাত ১০টা ২৫ মিনিট | চতুর্থ দিন ভোর ৩টা |
| আলিপুরদুয়ার থেকে মুম্বই (পনভেল) | ১১০৩২ | প্রতি বৃহস্পতিবার ভোর ৪টা ৪৫ মিনিট | তৃতীয় দিন ভোর ৫টা ৩০ মিনিট |

ফেরার পথের সময়সূচি কেমন?
দক্ষিণ থেকে ফেরার ট্রেনও আছে। আসল কথায় আসি। ২০৬০৪ নাগেরকয়েল থেকে প্রতি রবিবার রাত ১১টায় ছাড়ে, চতুর্থ দিন ভোর ৫টায় নিউ জলপাইগুড়ি পৌঁছয়, আবার ২০৬০১ তিরুচিরাপল্লি থেকে প্রতি বুধবার ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে ছাড়ে।
বেঙ্গালুরু থেকে ১৬৫৯৭ প্রতি শনিবার সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে বেরোয়, মুম্বইয়ের পনভেল থেকে ১১০৩১ প্রতি সোমবার দুপুর ১১টা ৫০ মিনিটে ছাড়ে। সময়সূচি মাঝেমধ্যে বদলায়, তাই যাওয়ার আগে একবার চেক করে নেওয়াই ভালো।
ভাড়া কত?
প্রতি ১,০০০ কিলোমিটারে প্রায় ৫০০ টাকা। খাঁটি কথা। ছোট রুটে খরচ আনুপাতিকভাবে কম হয়। গতিশীল দামের খেলা নেই বললেই চলে। সাশ্রয়ী তো বটেই।
সত্যি কথা। সাধারণ ট্রেনের তুলনায় সুবিধা একটু বেশি। মোবাইল চার্জিং পয়েন্ট, পরিষ্কার শৌচালয়, সুরক্ষার জন্য ক্যামেরা। দীর্ঘ যাত্রায় এগুলো বড় কথা।
টিকিট বুক করবেন কীভাবে?
সাধারণ ট্রেনের মতোই। রেলের অফিসিয়াল টিকিট বুকিং সাইট বা অ্যাপে গিয়ে রুট আর তারিখ দিয়ে সার্চ করুন। আগাম ৬০ দিন পর্যন্ত অগ্রিম বুকিং মেলে।
উৎসবের মরসুমে চাপ বাড়ে। পুজোয় হাজার হাজার যাত্রী দক্ষিণ আর পশ্চিম থেকে বাড়ি ফেরেন, তাই টিকিট চাইলে আগেভাগেই প্ল্যান করুন, দেরি করলে ওয়েটিংয়ের পালা শুরু।
আরও কী কী চালু হলো?
একই অনুষ্ঠানে চালু হলো দেশের প্রথম ভ্যান্ডে ভারত স্লিপার ট্রেন। হাওড়া-কামাখ্যা রুটে। হাওড়া থেকে কামাখ্যা যেতে এখন ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট কম সময় লাগে। নতুন প্রযুক্তির এই ট্রেনের খুঁটিনাটি এই লেখায় জেনে নিতে পারেন।
এছাড়া রাধিকাপুর ও বালুরঘাট থেকে বেঙ্গালুরু পর্যন্ত দুটি নতুন এক্সপ্রেসও চালু হয়েছে। দারুণ খবর। উত্তরবঙ্গের রেল অবকাঠামোতেও বড় বিনিয়োগ। বালুরঘাট-হিলি নতুন রেললাইন সহ মোট ৩,২৫০ কোটি টাকার প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হয়েছে। নতুন কুঁচবিহার-বামনহাট ও নতুন কুঁচবিহার-বক্সিরহাট রুটে বিদ্যুতায়নও সম্পন্ন। পুরো তালিকা সরকারি বিবৃতিতে আছে, চাইলে পড়ে দেখতে পারেন।
উপসংহার
উত্তরবঙ্গের কর্মী, ছাত্র আর ব্যবসায়ীদের জন্য এ বড় সুযোগ। কম খরচে, সরাসরি। দক্ষিণ ও পশ্চিম ভারত এখন অনেক কাছে। পুজোর বাড়তি চাপেও নতুন ট্রেনে কিছুটা স্বস্তি মিলবে বলে আশা।
আরও পড়ুন: পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর-পূর্ব ভারত ভ্রমণ গাইড: সেরা ট্রেন, বাস ও পর্যটন








