শুয়ে শুয়ে হাওড়া থেকে গুয়াহাটি মাত্র ১৪ ঘণ্টায়। ভারতের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন এই হাওড়া-কামাখ্যা রুটে চলে, আর সেটাই এখন দেশের একমাত্র যে ট্রেনে রাত কাটিয়ে ভোরবেলা গন্তব্যে নামা যায়। পুজোর ছুটিতে উত্তরবঙ্গ বা আসাম যাওয়ার কথা ভাবলে এটা অন্যতম সেরা বিকল্প। কথাটাই আলাদা।
বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনটা কোনটা?
ট্রেন নম্বরটা ধরো, ২৭৫৭৫ আর ২৭৫৭৬। হাওড়া থেকে ছাড়ে ২৭৫৭৫, ফেরার পথে আসে ২৭৫৭৬।
৯৬৮ কিলোমিটার পথ মোটামুটি ১৪ ঘণ্টায়, আর পুরোনো ট্রেনের চেয়ে প্রায় ৬ ঘণ্টা কম। সত্যি কথা। এর আগে এই রুটে স্লিপার বন্দে ভারত ছিলই না, রেল বলছে নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। উইকিপিডিয়ার এই পাতাটা দিয়ে নিশ্চিত হতে পারো পুরো ইতিহাস।
হাওড়া থেকে কামাখ্যা: সময় কত?
২৭৫৭৫ হাওড়া ছাড়ে সন্ধ্যে ৬টা ২০ মিনিটে, পৌঁছয় পরদিন সকাল ৮টা ২০ মিনিটে। উল্টো দিকে ২৭৫৭৬ কামাখ্যা থেকে সন্ধ্যে ৬টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে হাওড়ায়।
সপ্তাহে ছয় দিন চলে।
ভাড়া কত? কোন ক্লাসে যাবেন?
ভাড়া দেখার আগে একটা খবর, ট্রেনে আছে ১৬টা কোচ আর ৮২৩ জন যাত্রীর জায়গা। তার মধ্যে ১১টা তিন টায়ারের এসি কামরা, ৪টা দুই টায়ার, আর ১টা ফার্স্ট ক্লাস। নীচের টেবিলে সোজাসুজি চোখ রাখো। কোন ক্লাসে বসবেন, সেটা ভাড়া ছাড়াও আপনার চাহিদার উপর নির্ভর করে।
| ক্লাস | ভাড়া (কামাখ্যা থেকে হাওড়া) |
|---|---|
| ফার্স্ট এসি (১এ) | ₹৩,৮৫৫ |
| টু টায়ার (২এ) | ₹৩,১৪৫ |
| থ্রি টায়ার (৩এ) | ₹২,৪৩৫ |
আরও একটু খরচ কমাতে চাইলে ৩এ-তেই বসা ভালো, সুবিধা ওই একই। ভাড়ার খবর আর টিকিটের জন্য সরকারি আইআরসিটিসি পোর্টালে ঢুঁ মেরে নিশ্চিত হয়ে নাও।
কী কী স্টেশনে দাঁড়ায়?
এই রুটে দাঁড়ায় মোট ১৩টা স্টেশন। বাঁদেল, নবদ্বীপ ধাম, কাটোয়া, আজিমগঞ্জ, নিউ ফারাক্কা, মালদা টাউন, আলুয়াবাড়ি রোড, নিউ জলপাইগুড়ি, জলপাইগুড়ি রোড, নিউ কোচবিহার, নিউ আলিপুরদুয়ার, নিউ বনগাঁও আর রংিয়া। মজার ব্যাপার।
এর মধ্যে নিউ জলপাইগুড়ি সবার বেশি দরকারি। ওখান থেকে শুরু দার্জিলিং, কালিম্পং কিংবা সিকিমের পথ, তাই নামটা একবার মনে রাখা চাই।

নতুন ট্রেনে কী কী সুবিধা পাবেন?
সাধারণ ট্রেনের থেকে এখানে অনেক আলাদা।
অটো প্লাগ দরজা, সিলড গ্যাংওয়ে, সিসি ক্যামেরা, আর কাভাচ নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সব এক জায়গায় পাবেন। উপরের শোয়ার জন্য এমন মই বানানো হয়েছে যে উঠতে নামতে কষ্ট হয় না। আর প্রতিটা বার্থে নিজের রিডিং লাইট আর চার্জিং পয়েন্ট, রাতে খুব কাজে লাগে।
পরিকল্পনা মজবুত করতে আরও পড়ুন: দার্জিলিং ভ্রমণ গাইড ২০২৬, পুজোয় তৎকাল ট্রেন টিকিট বুকিং।








