রেশন কার্ড আছে, কিন্তু এখনও e-KYC করেননি? তাহলে এই খবর আপনার জন্য। রেশন কার্ডে e-KYC এখন বাধ্যতামূলক। পরিবারের এক জন সদস্যেরও ভেরিফিকেশন বাকি থাকলে মাসের রেশন আটকে যাওয়ার ভয় আছে।
হ্যাঁ, শুনতে খারাপ লাগছে ঠিকই। কিন্তু চিন্তার কিছু নেই, ২ মিনিটে ঘরে বসে OTP দিয়েই হয়ে যায় এই কাজ। কী কী নথি লাগবে, কোথায় করবেন, পদ্ধতিটা কেমন, সব খুঁটিনাটি দেখিয়ে দেব আজ।
e-KYC কেন বাধ্যতামূলক হল?
ব্যবস্থা পরিষ্কার করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। কেন্দ্রীয় সরকারের হিসাব অনুযায়ী দেশ জুড়ে ৮১ কোটি ৩৫ লক্ষ মানুষ সস্তায় রেশন পান, অথচ তালিকায় ভুয়ো নাম, নকল কার্ড, মৃত মানুষের নামও ধরা পড়েছে প্রচুর।
লোকসভায় যে তথ্য তুলে ধরা হয়েছিল, তাতে তালিকায় লাখ লাখ ভুয়ো সুবিধাপ্রার্থী ভরে থাকার কথাই উঠে এসেছে। তাই এখন প্রত্যেক সদস্যকে আধার দিয়ে নিজের অস্তিত্ব প্রমাণ করতে হবে। কথাটা একটু শুনুন।
শেষ তারিখ কবে? এখনই কি দরকার?
আসল উত্তরটা জটিল। দেশ জুড়ে প্রথমে ৩১ মার্চ, ২০২৫ তারিখ ধার্য হয়েছিল, পরে রাজ্যগুলো নিজেদের সময়সীমা বাড়িয়ে নিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গেও সেই কাজ এখনও চলছে। এই সুযোগটা শেষ হবে হঠাৎ করেই।
মানে, আপনার জেলায় কবে শেষ তারিখ, তা জানতে হবে দাপ্তরিক পোর্টালে। কথাটা মাথায় রাখুন। বারবার সুযোগ বাড়ানো মানে এই নয় যে চিরকাল বাড়বে, কার্ডের কোনো সদস্যের e-KYC বাকি থাকলে আজই করে ফেলুন।
e-KYC না করলে কী হবে?
সহজ বাংলায় বলছি। e-KYC না করলে আপনার কার্ড চিহ্নিত হবে ‘যাচাই হয়নি’ হিসেবে, তখন সস্তায় রেশন পাওয়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
তার চেয়েও বড় কথা, জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা আইনের (NFSA) তালিকা থেকেই নাম কেটে যেতে পারে। তালিকা থেকে বাদ পড়লে নতুন করে আবেদন, তদন্ত, দালালি, ঝামেলার শেষ থাকবে না। এই তালিকাই ভাতের অধিকারের আসল পরিচয়পত্র। সেটা হারালে মুশকিল।

কী কী নথি লাগবে?
বেশি লাগবে না। আধার কার্ড, আর আধারের সঙ্গে যুক্ত মোবাইল নম্বর থাকলেই চলবে। মোবাইলে আসা OTP দিয়েই ভেরিফিকেশন হয়ে যাবে।
মোবাইল নম্বরটা আর সক্রিয় নেই? তাহলে নিকটতম রেশন দোকানে গেলেই হবে। সেখানে আঙুলের ছাপ বা চোখের মণির স্ক্যান করে দেবে দোকানদার। রেশন কার্ডটা সঙ্গে নেবেন, বাকিটা দোকানদারই দেখে নেবে।
অনলাইনে e-KYC করবেন কীভাবে?
মেরা রেশন অ্যাপ থাকলে সবচেয়ে সহজ। প্লে স্টোর থেকে নামিয়ে নিন, রেশন কার্ডের নম্বর আর OTP দিয়ে ভেরিফাই করুন, ব্যস হয়ে গেল!
অ্যাপ ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গের খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তরের দাপ্তরিক পোর্টাল ঘুরে দেখতে পারেন। সেখানকার RCMS বা রেশন কার্ড সার্ভিস থেকেও একই কাজ হয়। ওয়েবসাইটের বাংলা ভার্সনও আছে, কাজ করতে সুবিধা হবে।
সময় লাগবে বেশি নয়, ২ মিনিট। ভেরিফিকেশন হয়ে যাওয়ার পর ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিস্টেমে দেখা যায়, পশ্চিমবঙ্গের অনেক ক্ষেত্রে তো সেদিনই আপডেট হয়ে যায়।
ভেরিফিকেশন হয়েছে কিনা বুঝবেন কীভাবে?
মেরা রেশন অ্যাপে বা পোর্টালে রেশন কার্ডের নম্বর দিয়ে স্ট্যাটাস চেক করা যায়। ‘ভেরিফাইড’ বা ‘আপডেটেড’ দেখালেই বুঝবেন কাজ শেষ। সোজা, তাই না?
৭ দিন পরেও যদি ‘পেন্ডিং’ লেখা থাকে, দোকানে নয়, সরাসরি স্থানীয় খাদ্য অফিসে যোগাযোগ করুন। রসিদ বা অ্যাকনলেজমেন্ট স্লিপ হাতে নিয়ে গেলে কাজ তাড়াতাড়ি হয়।
কোনো সমস্যায় খাদ্য দপ্তরের টোল-ফ্রি হেল্পলাইন ১৮০০ ৩৪৫ ৫৫০৫-এ ফোনও করতে পারেন।
উপসংহার
এক লাইনে বললে, e-KYC আজই সেরে ফেলুন। নথি সামান্য, সময় লাগে ২ মিনিট, অথচ সুবিধাটা সারাটা মাসের রেশন। এই ছোট্ট কাজটাই দূর করবে বড় দুশ্চিন্তা।
আরও পড়ুন: আধারে ম্যান্ডেটরি বায়োমেট্রিক আপডেট, ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ফ্রি এবং ডিজিলকারে নথি আপলোড ও রাখার গাইড।








