এবারের দুর্গাপূজায় বাড়ি ফেরার প্ল্যান করছেন তো? তাহলে একটা খবর আগে জেনে নিন। পূর্ব রেল এবার পুজোর ভিড় সামাল দিতে একাধিক স্পেশাল ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর উড়ানও বসে নেই, কলকাতায় ছাড়ছে অতিরিক্ত ফ্লাইট। মানে, দুর্গাপূজায় ট্রেন টিকিট পেতে হলে সময় থাকতে এগিয়ে নিতে হবে।
১৮ অক্টোবর মাসা অষ্টমী, ভোটের দিনের মতোই ভিড় হবে রেলওয়েতে। হাওড়া, শিয়ালদহ, শালিমার আর কলকাতা টার্মিনালে ভিড় ঠেলে সবাই পৌঁছে যাবে নিজের গ্রামে, নিজের আদরের শহরে। টিকিট না পেলে সেদিন আর বাড়ি ফেরা হয়না। সত্যি কথা।
কোথায় কোথায় স্পেশাল ট্রেন চলবে?

পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি জানিয়ে দিয়েছেন, যে রুটে চাহিদা সবচেয়ে বেশি, সেখানেই ছাড়বে স্পেশাল ট্রেন। দিল্লি, মুম্বই, বেঙ্গালুরু, চেন্নাই, পুরী কিংবা উত্তরবঙ্গ। সব রুটেই ভিড়।
ইতিমধ্যে বেশ কিছু নাম শোনা যাচ্ছে। শিয়ালদহ থেকে পুরীর স্পেশাল, হাওড়া থেকে নতুন জল্পাইগুড়ির স্পেশাল, আর আনন্দ বিহার থেকে হাওড়া পর্যন্ত চলবে একাধিক ট্রেন। কোনটি কোন তারিখে ছাড়বে, তা জানাবে পূর্ব রেল আর দক্ষিণ পূর্ব রেল। ঘন ঘন চোখ রাখুন। কনফার্ম হোক, তবেই নিশ্চিন্ত।
বুকিং কবে থেকে শুরু? কোন তারিখের টিকিট কবে মিলবে?
এখানেই মূল হিসাবটা। রেলের নিয়মে সাধারণ ট্রেনের টিকিট পাওয়া যায় যাত্রার ৬০ দিন আগে থেকে। হিসাবটা মিলিয়ে দেখুন।
| পুজোর দিন | যাত্রার তারিখ | বুকিং শুরু |
|---|---|---|
| মহা পঞ্চমী | ১৬ অক্টোবর | ১৭ আগস্ট |
| মহা সপ্তমী | ১৮ অক্টোবর | ১৯ আগস্ট |
| মহা অষ্টমী | ১৯ অক্টোবর | ২০ আগস্ট |
| মহা নবমী | ২০ অক্টোবর | ২১ আগস্ট |
| বিজয়া দশমী | ২১ অক্টোবর | ২২ আগস্ট |
প্রতিদিন সকাল ৮টার ঠিক সময়ে irctc ডটকো-তে খোলে এই বুকিং। আর ঠিক সেই মুহূর্তেই শেষ হয়ে যায় সেরা কামরাগুলো। এক মিনিট দেরি। ব্যস, ভাগ্যে নেই। পুজোর ফেরার টিকিটটা যেন সময় থাকতেই কিনে রাখুন। কথাটা ধরুন।
ফ্লাইটেও সামাল দেওয়া হচ্ছে পুজোর ভিড়
শুধু রেল নয়, আকাশপথেও পুজোয় ভিড় কমছে না। এয়ার ইন্ডিয়া ঘোষণা করেছে, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, দিল্লি আর মুম্বই থেকে কলকাতায় চলবে অতিরিক্ত ফ্লাইট। আর ইন্ডিগো-ও ছাড়ছে আরও ২৩টি ফ্লাইট।
ট্রেনের ভাড়ার চেয়ে ফ্লাইটের ভাড়া অনেক বেশি। তবে যাঁরা সময় বাঁচাতে চান, বিশেষত দূরের শহর থেকে আসা ছেলেমেয়েরা, তাঁদের জন্য আকাশপথটাই ভাল। আগে থেকে বুক করলে কিছু সাশ্রয়। মুশকিলটা শেষ মুহূর্তে।
স্পেশাল ট্রেনের ভাড়া কত পড়বে?
একটা হিসেব মনে রাখুন। পুজোর স্পেশাল ট্রেনে ভাড়ার সঙ্গে যুক্ত হয় বিশেষ চার্জ, আর সেটা সেকেন্ড ক্লাসে ১০ শতাংশ, স্লিপার কিংবা এসি কামরায় ৩০ শতাংশ।
সহজ বাংলায়, স্লিপারের টিকিট সাধারণ মেইল ট্রেনের চেয়ে ১০০ থেকে ২০০ টাকা বেশি। থ্রি-এসি-তে যায় ₹৩০০ থেকে ₹৪০০ অতিরিক্ত। আর এই স্পেশাল ট্রেনে প্রবীণ বা ছাত্র, কারও ছাড় নেই।
কনফার্ম টিকিট পেতে কী করবেন?
সোজা কথা, পুজোর টিকিট পাওয়াটাই আসল চ্যালেঞ্জ। কয়েকটা কৌশল মানলেই সুবিধা।
- বুকিং শুরুর দিন সকাল ৮টার আগেই irctc-তে লগ ইন করে রাখুন।
- যাত্রীদের নাম, বয়স আগে থেকেই মাস্টার লিস্টে সেভ করে রাখুন। টাইপ করার সময়ই তো নষ্ট।
- আধার-লিংক করা অ্যাকাউন্টে মাসে ২৪টি টিকিট হয়, সাধারণ অ্যাকাউন্টে মাত্র ১২টি।
- কনফার্ম না হলে হতাশ নয়। চার্ট হওয়ার প্রায় ৮ ঘণ্টা আগে খালি সিট বেরোয়।
টাটকাল পেতে হলে একদিন আগে সকাল ১০টায় এসি কামরা, ১১টায় স্লিপার ক্লাসের লাইন খোলে। আর কোনো সেকেন্ডারি সাইটের ফাঁদে পা দেবেন না। সব টিকিট কিনুন irctc ডটকো থেকেই।
আরও পড়ুন: ফরাক্কায় ধস, উত্তরবঙ্গগামী ট্রেন বাতিল আর বাজেট ধরে পুজো কাটানোর গাইড। কাজে লাগবে, ভেবেই দেখুন।
উপসংহার
সংক্ষেপে, পুজোয় বাড়ি ফেরাটা এবার আগে থেকে সাজালেই হবে। নিয়মিত ট্রেনের বুকিং শুরু হয়ে গেছে, স্পেশাল ট্রেনের খবর আসছে ক্রমাগত। তারিখ ধরে হিসেব কষুন, সকাল ৮টায় তৈরি থাকুন। টিকিট হাতে পেলেই তো আসল আনন্দ। পূর্ব রেলের দাপ্তরিক ওয়েবসাইট আর irctc-র অফিসিয়াল সাইটে নজর রাখুন।








