আপনার হোম লোনের EMI কি এবার কমবে? প্রশ্নটা ঘুরছে অনেকের মাথায়। RBI-র নতুন ঘোষণা শুনে কেউ কেউ ভাবছেন, কিস্তিতে খানিকটা ছাড় পাওয়া যাবে কি না। সেটা জানতে হলে আগে মনিটারি পলিসি কমিটির সিদ্ধান্তটা বুঝে নেওয়া দরকার।
গত ৩ থেকে ৫ আগস্ট তিন দিনের বৈঠকের পর ৫ আগস্ট ঘোষণা এল। রেপো রেট থাকছে ৫.২৫ শতাংশেই। টানা চতুর্থবারের মতো হার অপরিবর্তিত রাখা হলো। নীতির অবস্থানও থাকছে নিরপেক্ষ। মানে, সুদের হার বদলানোর কোনো ইঙ্গিত নেই।
RBI-র বড় সিদ্ধান্ত: রেপো রেট অপরিবর্তিত
কমিটির ছয় সদস্যের মত এক হয়ে গিয়েছে। মুদ্রাস্ফীতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসায় রেট না বদলানোর পক্ষেই রায়। খাদ্য আর জ্বালানির দামের চাপ মাথায় রেখেই এই সতর্ক পথ। গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রার ঘোষণার পুরো খুঁটিনাটি মিলবে RBI-র অফিসিয়াল রিলিজে।
হোম লোনের EMI-তে কতটা প্রভাব পড়বে?

হোম লোন যাঁদের ফ্লোটিং রেটে, তাঁদের কিস্তির অঙ্ক এখনই বদলাচ্ছে না। ব্যাংক নিজের ছন্দে রেট ঠিক করলে তবেই প্রভাব পড়বে। ফিক্সড রেটের লোনে তো প্রশ্নই নেই। আগের চেয়ে বেশি সুদ দিতে হবে, এমন ভয়ও নেই। নতুন করে হিসাব মেলানোর দরকার পড়ছে না।
রেপো রেট আসলে কী?
সোজা করে বললে, ব্যাংক RBI-র কাছ থেকে যে সুদে টাকা ধার নেয়, সেটাই রেপো রেট। এই হারের উপরই নির্ভর করে হোম লোন, গাড়ির লোন কিংবা ব্যবসার লোনের সুদ। হার কমলে ঋণ সস্তা হয়। যেমন প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনায় ঋণের সুদ এই রেটের সঙ্গেই যুক্ত।
অর্থনীতি কী বলছে এবার?
চলতি অর্থবর্ষে জিডিপি বাড়বে ৬.৭ শতাংশ হারে, এমনটাই পূর্বাভাস। জুন মাসে খুচরো মুদ্রাস্ফীতি ছিল ৪.৪ শতাংশ। সারা বছর গড়ে সেটা ৫ শতাংশে থাকতে পারে।
তবে মুদ্রাস্ফীতির গতিপথ পুরোপুরি অনুমান করা যাচ্ছে না। তৃতীয় প্রান্তিকে দাম ৫.৯ শতাংশ পর্যন্ত উঠতে পারে বলেও শঙ্কা। খাদ্য আর জ্বালানির দরই মূল ভয়। তাই এবার হার বদলানো হলো না, সামনে দেখতে হবে।
ঋণ নেওয়ার আগে কী দেখবেন?
এই সময়ে নতুন ঋণ ভাবলে ফ্লোটিং রেটের দিকেই নজর রাখা ভাল। দীর্ঘমেয়াদে কিস্তি কমানোর সুযোগ থেকেই যায়। তবে EMI ক্যালকুলেটর দিয়ে একবার অঙ্ক মিলিয়ে নিন। ছাত্রজীবনে ঋণ নেওয়ার আগে নিয়মগুলো জেনে নেওয়াও জরুরি। আরও পড়ুন: শিক্ষা ঋণ ২০২৬-এর যোগ্যতা ও আবেদন পদ্ধতি।
জমানোর পথও একেবারে বন্ধ নয়। পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ডের মতো স্কিমে সুদ এখনও ভাল। এই সময়ে সঞ্চয়টাই বেশি বুদ্ধিমানের কাজ।
উপসংহার
মোট কথা, এই ঘোষণায় ঋণগ্রহীতারা বড় ধাক্কা খাননি। সুদের হার স্থির থাকায় পরিকল্পনা করে চলা যাবে।








