পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড (PPF) — নামটা শুনলেই বোঝা যায়, টাকার কথা। কিন্তু কেন এত জনপ্রিয়? কারণটা সহজ। গ্যারান্টিড রিটার্ন। আর তাও আবার করমুক্ত। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে, বাজারের সবকিছু যখন ওঠানামা করছে, তখন PPF-এর মতো নিরাপদ বিনিয়োগ খুঁজে পাওয়া সত্যিই কঠিন। যারা একটু হলেও রিস্ক নিতে চান না, তাদের জন্য দারুণ কাজের এই স্কিমটি।
ভারত সরকার নিজেই এই স্কিমের পিছনে আছে। ১৯৬৮ সাল থেকে চালু। ১৫ বছরের মেয়াদ। বাড়ানো যায় আরও ৫ বছর।
প্রতি বছর মাত্র ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১.৫ লক্ষ টাকা জমা দিতে পারেন। বর্তমানে সুদের হার ৭.১%। ব্যাঙ্কের ফিক্সড ডিপজিটের থেকেও বেশি। আর ট্যাক্সের অংশটা? সেটাই সবচেয়ে মজার। আপনার জমানো টাকা, তার উপর পাওয়া সুদ, এমনকি মেয়াদ শেষে পুরো টাকা তোলার সময় কোথাও কর দিতে হবে না। জ্বী, ঠিক শুনেছেন। EEE স্ট্যাটাস বলে কথা। সেকশন ৮০সি-এর অধীনে বার্ষিক ১.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত কর ছাড় পাওয়া যায়।

PPF অ্যাকাউন্ট খুলবেন? জেনে নিন কীভাবে
অ্যাকাউন্ট খোলা নিয়ে ভাবার কিছু নেই। খুব সহজ। নিকটবর্তী পোস্ট অফিসে গেলেই হবে সঙ্গে নিয়ে যাবেন আধার কার্ড, প্যান কার্ড, পাসপোর্ট সাইজ ছবি ও ঠিকানার প্রমাণ। সেখানে ফর্ম এ জমা দিলেই অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়া হবে নাবালকদের ক্ষেত্রে বাবা-মা তাদের নামে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন।
অনলাইনে খুলতে চান? সেটাও সম্ভব। SBI, PNB-র মতো ব্যাঙ্কগুলির নেট ব্যাঙ্কিংয়ে ঢুকলেই PPF অ্যাকাউন্ট খোলার অপশন চলে আসে। কিছু ব্যাঙ্কে একবার অফিসে যেতে হতে পারে। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ঘরে বসেই কাজ শেষ। তারপর প্রতি মাসে বা বছরে একবার টাকা জমা দিলেই হল। এতটুকুই।
উপসংহার
সব মিলিয়ে PPF এখনও ভারতের সেরা দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগগুলির একটি। ৭.১% সুদ, কর ছাড়, আর সরকারি গ্যারান্টি — এর চেয়ে ভাল আর কী চাইতে পারেন? তবে একটা কথা মাথায় রাখবেন — এই টাকা আটকে থাকবে ১৫ বছর। প্রয়োজনে সহজে তুলতে পারবেন না, তাই আগে সঠিকভাবে আর্থিক পরিকল্পনা করে তবেই PPF-এ বিনিয়োগ করা উচিত।
বেশি কিছু না। নিয়মিত সামান্য সঞ্চয়ই বড় পুঁজি তৈরি করতে পারে। বুদ্ধিমানের মতো বিনিয়োগ করুন — ভবিষ্যৎ আপনার হাতে।








