শনিবার ভোর থেকে বঙ্গোপসাগরের জল ছিল অশান্ত। ঠিক সেই সময়েই, ওড়িশার পারাদীপ বন্দর থেকে প্রায় ২৪০ নটিক্যাল মাইল বা ৪৪৫ কিলোমিটার দূরে সমুদ্রের বুকে তলিয়ে গেল পানামার পতাকা নিয়ে চলা বিশাল মালবাহী জাহাজ এমভি ওশেন উইনার। জাহাজে ছিল ২৪ জন নাবিক।
খবর পৌঁছতেই নামে বিশাল উদ্ধার অভিযান। ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী আর নৌবাহিনীর তল্লাশি এখনও থেমনি। এ পর্যন্ত জীবিত উদ্ধার হয়েছে মাত্র দু’জনের। বাকি ২২ জন নাবিকের কোনও খোঁজ মেলেনি। নীরব সমুদ্র। উত্তরহীন ঢেউ।
কী ঘটেছিল সেদিন সমুদ্রে?
জাহাজটি শুক্রবার পারাদীপ বন্দর ছেড়েছিল। তলপাতে ছিল ওড়িশার লোহার আকরিকে ভরা ভারী মালভার, গন্তব্য সিঙ্গাপুর। শনিবার সকাল ১১টা ৪৮ নাগাদ শ্রী বিজয়া পুরমের সামুদ্রিক উদ্ধার কেন্দ্রের কাছে জরুরি বার্তা পৌঁছায়। জাহাজের মালিক সংস্থার তরফে জানানো হয়, জাহাজের সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন।
তারপর? একের পর এক উদ্বেগজনক তথ্যই সামনে এল। নজরদারি ব্যবস্থায় হঠাৎই জাহাজটি হাওয়া!

এক নজরে দুর্ঘটনার তথ্য
| জাহাজের নাম | এমভি ওশেন উইনার |
| পতাকা | পানামা |
| আইএমও নম্বর | ৯১৪৫৫৩০ |
| নাবিক | ২৪ জন, চীনের ২০, মিয়ানমারের ৩, বাংলাদেশের ১ |
| মালভার | লোহার আকরিক |
| যাত্রাপথ | পারাদীপ থেকে সিঙ্গাপুর |
| দুর্ঘটনার জায়গা | পারাদীপ থেকে ২৪০ নটিক্যাল মাইল |
| এ পর্যন্ত অবস্থা | ২ জন জীবিত উদ্ধার, ২২ জন নিখোঁজ |
দু’জন কীভাবে বেঁচে ফিরল?
সন্ধ্যা আটটা নাগাদ কাছাকাছি চলছে এমটি আইসোপস নামের বাণিজ্যিক জাহাজ। সেখান থেকেই দু’টি রক্ষা-নৌকায় ভেসে থাকা দুই নাবিককে তুলে নেওয়া হয়। দুজনেই চীনের নাগরিক। জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা জানান, শুক্রবার হঠাৎ জাহাজ কাত হতে শুরু করে। তারপর মাত্র আট মিনিটেই সব শেষ।
জ্বী, ঠিক শুনেছেন। আট মিনিটের মধ্যে এত বড় জাহাজ সমুদ্রের জলে মিলিয়ে গেছে।
উদ্ধার অভিযান এগোচ্ছে কোন পথে?
শ্রী বিজয়া পুরম, যার পুরনো নাম পোর্ট ব্লেয়ার, থেকে উপকূলরক্ষীর একাধিক তরণী রওনা হয়েছে। নৌবাহিনীর জাহাজও যোগ দিয়েছে অভিযানে। কাছাকাছি থাকা বাণিজ্যিক জাহাজগুলিকেও সতর্ক করা হয়েছে, চোখ রাখুন ভাসমান কোনও চিহ্নের দিকে। সমুদ্রের বিশাল এলাকা জুড়ে চলছে তল্লাশি।
সামুদ্রিক প্রশাসনের প্রধান শ্যাম জগন্নাথনের স্বীকারোক্তি, ১২ ঘণ্টার পর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা দ্রুত কমে যায়। তবু অভিযান থামার নাম নিচ্ছে না, বলে কথা।
আগামী দিনে কোন প্রশ্নের উত্তর মিলবে?
কেন ডুবল জাহাজটি?
এই একটি প্রশ্নের উত্তর এখনও খুঁজছেন তদন্তকারীরা। ঝড় নাকি কারিগরি ত্রুটি? মালভার সরানোর পথে কি ভারসাম্য নষ্ট হয়েছিল? প্রাথমিক তদন্তে স্পষ্ট কিছু নেই। উদ্ধার হওয়া নাবিকদের বক্তব্যই আপাতত একমাত্র ভরসা।
পারাদীপ বন্দরের মাছ ধরা নৌকাগুলিকেও সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।
কড়া নজর। তদন্ত জোরে।
আরও পড়ুন: নিম্নচাপের ছোঁয়ায় বৃষ্টিপাতের নতুন মানচিত্র। ভারী জলপাতের আশঙ্কা রইল। কোন জেলায় কতটা জল, দেখে নিন
মাছের রাজা ইলিশের এত নাম, শুনেছেন কি!








