প্রজাতন্ত্র দিবসের আগের দিনই কেন্দ্রীয় সরকার প্রকাশ করল পদ্ম পুরস্কারের তালিকা। গোটা দেশ থেকে এবার এই সম্মান পেলেন ১৩১ জন। আর তার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গেরই ১১ জন!
পদ্মবিভূষণ বা পদ্মভূষণ তালিকায় এবার বাংলার কেউ নেই, কিন্তু পদ্মশ্রীতে ঠিকই জায়গা করে নিয়েছেন রাজ্যের ১১ জন। শিল্পকলা থেকে সাহিত্য, শিক্ষা থেকে চিকিৎসা, এমনিই ছড়িয়ে থাকা বাংলার মুখগুলো এবার জাতীয় স্বীকৃতি পেল। শুনলে অবাক হবেন, তালিকায় আছেন মুসলিনের কারিগর থেকে সন্তুরের ওস্তাদ, তবলা থেকে কাঁথা সেলাই। রেলের কর্মী থেকে সাঁওতালি সাহিত্যিক।
কে পেলেন পদ্মশ্রী ২০২৬?
এবারের পদ্মশ্রী তালিকায় নাম রয়েছে অশোককুমার হালদার থেকে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় পর্যন্ত। আরও বিস্তারিত দেখতে পারেন কেন্দ্রীয় সরকারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট padmaawards.gov.in-এ।
- অশোককুমার হালদার (সাহিত্য ও শিক্ষা)
- গম্ভীর সিং ইয়োনজ়োন (সাহিত্য ও শিক্ষা)
- হরিমাধব মুখোপাধ্যায়, মরণোত্তর (শিল্পকলা)
- জ্যোতিষ দেবনাথ (শিল্পকলা)
- কুমার বোস (শিল্পকলা)
- মহেন্দ্রনাথ রায় (সাহিত্য ও শিক্ষা)
- প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় (শিল্পকলা)
- রবিলাল টুডু (সাহিত্য ও শিক্ষা)
- সরোজ মণ্ডল (মেডিসিন)
- তরুণ ভট্টাচার্য (শিল্পকলা)
- তৃপ্তি মুখোপাধ্যায় (শিল্পকলা)

শিল্পকলায় এবার বাংলার যে ছয় নাম
সবচেয়ে চেনা মুখ তো প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, অভিনয়ের সঙ্গে এবার জাতীয় সম্মানও পেলেন তিনি। থিয়েটারের মঞ্চে প্রায় ছয় দশক কাটানো হরিমাধব মুখোপাধ্যায় পেয়েছেন মরণোত্তর সম্মান। বালুরঘাটের এই নাট্যব্যক্তিত্বের অবদান এড়িয়ে যাওয়ার উপায় ছিল না। সঙ্গীতের দরবারে কুমার বোসের তবলা আর তরুণ ভট্টাচার্যের সন্তুর, দুই ওস্তাদই এবার পদ্মশ্রী পাচ্ছেন।
হাতের কাজের জগতেও বাংলার জয়, কাঁথা স্টিচের শিল্প শিখিয়েছেন বিশ হাজারের বেশি মহিলাকে। তৃপ্তি মুখোপাধ্যায়ের এই পরিশ্রম এবার স্বীকৃতি পেল। মসলিনের খ্যাতিও ফিরছে, কালনার জ্যোতিষ দেবনাথ সাত বছর বয়স থেকেই যুক্ত এই শিল্পের সঙ্গে।
আরও পড়ুন: মিঠুন চক্রবর্তীর জীবনী
সাহিত্য, শিক্ষা আর চিকিৎসায় যাঁরা পেলেন সম্মান
অশোককুমার হালদার রেলের কর্মী ছিলেন, দলিত সাহিত্যের জন্য এবার জাতীয় সম্মান পেলেন। সাঁওতালি সাহিত্যে অবদানের জন্য পদ্মশ্রী পাচ্ছেন কালনার রবিলাল টুডু। বিরসা মুন্ডার জীবনী নিয়ে তাঁর লেখা ‘বীর বিরসা’ বই তাঁকে এনে দিয়েছে খ্যাতি। ২০২২ সালে রাজ্য সরকার তাঁকে বঙ্গভূষণও দিয়েছিল, জাতীয় সম্মান এবার সেই তালিকায় যোগ করল নতুন পাতা। কালিম্পং কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ গম্ভীর সিং ইয়োনজ়োন, হিমালয়ের ঔষধি গাছ নিয়ে তাঁর সাধনা। রসায়নের অধ্যাপক মহেন্দ্রনাথ রায়ের ন্যানো এনজাইম গবেষণাও এবার স্বীকৃতি পেল।
ডাক্তার সরোজ মণ্ডল পেলেন কার্ডিওলজিতে অবদানের জন্য, চিকিৎসা ক্ষেত্রে এবার বাংলার নাম। চেনা মুখের ভিড়ে অচেনা সাধনাও এবার আলো পেল, এটাই পদ্মশ্রীর সার্থকতা।
উপসংহার
পদ্মশ্রী কিন্তু কোনো সাধারণ সম্মান নয়। যাঁরা নীরবে নিজের কাজ করে গেছেন, চিৎকার না করেই, তাঁদেরই এই পুরস্কার ছুঁয়ে যায়। পশ্চিমবঙ্গের ১১ জনকে নিয়ে এবার গর্ব করার মতো অনেক কিছু থাকবে, তালিকাটা একবার মনে রাখুন।
আরও পড়ুন: তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবনী








