কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের জন্য বড় খবর ঘিরে গোটা দেশে জোর আলোচনা চলছে। ৮ম পে কমিশনের কাজ এবার অর্ধেক পথ পেরিয়ে গেছে। অথচ মূল বেতন কত বাড়বে, সেই ঘোষণা এখনও আসেনি।
শোনা যাচ্ছে, সর্বনিম্ন মূল বেতন ১৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৭২ হাজার টাকা হতে পারে। জ্বী, ঠিক শুনেছেন। কিন্তু এই অঙ্ক এখনও দাবি মাত্র, সরকারের সিদ্ধান্ত নয়। কার কী দাবি, পেছনের হিসেবটা কেমন, আর কবে মিলতে পারে আসল খবর, সব ভেঙে বলা হল।
পে কমিশন জিনিসটা আসলে কী?
ভারতে প্রতি দশকে একটি করে কেন্দ্রীয় বেতন কমিশন বসে। ১৯৪৬ সালে প্রথম কমিশন হয়েছিল। এই প্যানেলই ঠিক করে, সরকারি কর্মীর বেতন, ভাতা আর পেনশন কেমন হবে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে অষ্টম কমিশন গঠনের অনুমোদন মেলে। ওই বছরের ২৮ অক্টোবর মন্ত্রিসভায় খসড়া নির্দেশিকাও পাস হয়। চেয়ারপার্সনের দায়িত্বে রয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাই। কেন্দ্রীয় বেতন কমিশনের দীর্ঘ ইতিহাস উইকিপিডিয়ায় পড়া যায়।
নিয়ম অনুযায়ী গঠনের ১৮ মাসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে হবে। তার মানে, ২০২৭ সালের মাঝামাঝি চূড়ান্ত সুপারিশ আসার কথা। বেতন সংশোধনের হিসেব ধরা থাকে ১ জানুয়ারি, ২০২৬ থেকে। সময় বেশ টানটান।

ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর কথাটা কেন এত জরুরি?
একটাই সংখ্যা। ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর হল সেই গুণিতক, যা দিয়ে পুরনো মূল বেতনকে গুণ করে নতুন বেতন বসানো হয়। ষষ্ঠ কমিশনে এই সংখ্যা ছিল ১.৮৬। সপ্তম কমিশনে উঠে দাঁড়ায় ২.৫৭-তে। বলে কথা। এবার কত হবে, সেটাই সবার কৌতূহলের জায়গা।
হিসেবটা সহজ। মূল বেতনের পাশে পেনশন এবং নানা ভাতাও এই একটা সংখ্যার সঙ্গে বাঁধা। তাই সংখ্যাটা সামান্য বাড়লেই লাখ লাখ পরিবারের হাতে টাকা বাড়ে।
| ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর | নতুন সর্বনিম্ন মূল বেতন | |
|---|---|---|
| ২.২৮ | প্রায় ৪১ | ০৪০ টাকা |
| ২.৫৭ (গতবারের সমান) | প্রায় ৪৬ | ২৬০ টাকা |
| ২.৮৬ | প্রায় ৫১ | ৪৮০ টাকা |
| ৪.০ (সংগঠনের দাবি) | প্রায় ৭২ | ০০০ টাকা |
৭২ হাজার টাকার দাবি এল কোথা থেকে?
সরকারি কর্মীদের একটি প্রতিরক্ষা শ্রমিক সংগঠন, যাকে BPMS নামে চেনা যায়, এ বছর এপ্রিলে এক প্রস্তাব দিয়েছে। ওখানে সর্বনিম্ন বেতন ৭২ হাজার টাকা করার দাবি তোলা হয়েছে। তিন ধাপের এক হিসেবের ভিত্তিতেই এই অঙ্ক দাঁড়িয়েছে। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদকের সইয়েই প্রস্তাবটা প্রচারিত হয়।
- প্রথম ধাপে দেশের মাথাপিছু জাতীয় আয়ের বৃদ্ধি ধরা হয়েছে। ২০১৬-১৭ থেকে ২০২৪-২৫ সালের মধ্যে সেই বৃদ্ধি প্রায় ৮৬.৭৬ শতাংশ।
- দ্বিতীয় ধাপে পরিবারের মাপ বদলানো হয়েছে। তিনজনের বদলে ধরা হয়েছে পাঁচজন, কারণ বাবা মায়ের ভরণপোষণও কর্মীরই দায়িত্ব।
- তৃতীয় ধাপে সরকারের কোষের কথা ভেবে হিসেবের চেয়ে কম অঙ্কে দাবিটা থামানো হয়েছে।
| ধাপ | ভিত্তি | ফলাফল | ||
|---|---|---|---|---|
| এক | মূল বেতন ১৮ | ০০০ টাকা প্লাস ৫৮ শতাংশ ডিএ | মোট ২৮ | ৪৪০ টাকা |
| দুই | ৮৬.৭৬ শতাংশ বৃদ্ধি যোগ | প্রায় ৫৩ | ১১৫ টাকা | |
| তিন | পাঁচ সদস্যের পরিবারের হিসেব | প্রায় ৮৮ | ৫২৪ টাকা | |
| শেষ | সংযত দাবি | ৭২ | ০০০ টাকা |
হিসেবে উঠে আসা অঙ্ক আরও বড়, প্রায় ৮৮ হাজার টাকা। দাবির সংখ্যাটা সামনে এনেছে সংগঠন নিজেই, বাস্তবের মাপে রেখে।
কত মানুষ অপেক্ষায়? সংখ্যাটা ভাবুন
৩৫.৭৭ লাখ কেন্দ্রীয় কর্মী আর ৩৩.৭৬ লাখ পেনশনভোগী, সবাই এই সংশোধনের অপেক্ষায়। মিলিয়ে প্রায় ৭০ লাখ পরিবার। পশ্চিমবঙ্গেও কলকাতা থেকে শিলিগুড়ি, নানা শহরে কেন্দ্রীয় দফতরের কর্মী ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মীর বসত।
কমিশনও বসে নেই। আগস্টে দিল্লিতে, সেপ্টেম্বরে চেন্নাই ও পুদুচেরিতে সরেজমিন বৈঠক বসছে। সেখানে দাবি জানাতে পারবেন সংগঠনগুলোও, মুখোমুখি বসে। কর্মীপক্ষের আরেকটি সংগঠনের স্মারকলিপিতে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ৩.৮৩৩ করার কথাও বলা হয়েছে। সঙ্গে পুরনো পেনশন স্কিম ফেরানোর দাবিও মাথা তুলছে। জোরালোভাবেই। সরকারি হালনাগাদ খোঁজার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ঠিকানা ৮ম পে কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
উপসংহার
স্পষ্ট কথা। ৭২ হাজার টাকা এখনও সরকারি ঘোষণা নয়। কমিশনের রিপোর্ট জমা পড়েনি, মন্ত্রিসভার সম্মতিও মেলেনি। তাই গুজবের ভর করে কোনও বড় আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। চূড়ান্ত ঘোষণার অপেক্ষা, এই মুহূর্তে সেটাই শ্রেয়।
আরও পড়ুন:
ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেম (NPS) ২০২৬: অবসরের পর মাসিক পেনশনের সহজ প্ল্যান
ইপিএফ স্কিম ২০২৬: নতুন নিয়মে কী কী বদলাচ্ছে, কী একই থাকছে








