পেনশনভোগীদের জন্য বড় খবর। কারণ, প্রতি বছর নভেম্বর মাস আসলেই সরকার মনে করিয়ে দেয় এক জরুরি কাজের কথা। সেটা হলো জীবন প্রমাণ জমা দেওয়া। এবারও নিয়ম একই, ৩০ নভেম্বর-এর মধ্যে জমা না দিলে ডিসেম্বরের পেনশন আটকে যেতে পারে।
ভয়ের কিছু নেই। ডিজিটাল লাইফ সার্টিফিকেট, মানে অনলাইন জীবন প্রমাণের ব্যবস্থায় ব্যাংকে লম্বা লাইনে দাঁড়াতে হবে না। ঘরে বসে, মোবাইল দিয়েই করা যায়। কাজটা মিনিট দুইয়ের। জেনে নিন কীভাবে।
জীবন প্রমাণ কী, কেন এত জরুরি?
প্রতি বছর একবার প্রমাণ করতে হয় যে পেনশনভোগী বেঁচে আছেন। পুরনো ব্যবস্থায় এর জন্য ব্যাংক বা পেনশন অফিসে হাজিরা দিতে হতো। খাতা-কলমের ঝক্কিও ছিল অনেক। ২০১৪ সাল থেকে চালু হয়েছে ডিজিটাল লাইফ সার্টিফিকেট, মানে ডিএলসি।
আধার যুক্ত করে জীবন প্রমাণ জমা দিলে শংসাপত্র ১২ মাস বৈধ থাকে। পরের বছর আবার করতে হবে। মেয়াদ ফুরোলে পেনশন বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
কে কে জমা দেবেন?
কেন্দ্রীয় চাকরিজীবী, রাজ্য সরকারি কর্মী, ডাক বিভাগ, রেল, প্রতিরক্ষা দফতরের পেনশনভোগীদের প্রত্যেককে এই কাজটি করতে হয়। পারিবারিক পেনশনভোগী থেকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অবসরপ্রাপ্ত কর্মী, সবাই একই নিয়মে পড়েন।
ইপিএফও থেকে পেনশন নেওয়া মানুষেরও জীবন প্রমাণ জমা দিতে হয়। কাকে দিতে হবে না, এমন উদাহরণ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। একটা তারিখ মনে রাখুন। ৩০ নভেম্বর ২০২৬। শর্তটা বাধ্যতামূলক।

কী কী লাগবে?
লিস্টিটা ছোট। আধার নম্বর, আধারের সঙ্গে যুক্ত মোবাইল নম্বর, পেনশন অ্যাকাউন্ট বা পিপিও নম্বর। অনলাইনে ফেস অথেন্টিকেশন করলে ক্যামেরাওয়ালা ফোন চাই।
মোবাইলে ওটিপি আসবে। তারপর মুখ স্ক্যান করলেই হয়ে গেল। ব্যাংকের কিয়স্কে গেলে আঙুলের ছাপ দিলেই হয়। চোখের মণি দিয়েও কাজ চলে।
অনলাইনে কীভাবে করবেন?
সবচেয়ে সহজ পথ অনলাইন। জীবন প্রমাণের দাপ্তরিক পোর্টাল খুললেই সব শুরু। ‘লগইন’-এ গিয়ে আধার নম্বর আর ক্যাপচা দিলে মোবাইলে ওটিপি আসবে, সেটা বসিয়ে দিন।
ওটিপি মিললেই ফেস অথেন্টিকেশন। ক্যামেরার সামনে মুখ রাখুন, সিস্টেম নিজেই মিলিয়ে নেবে। সেকেন্ড কয়েকের ব্যাপার, সত্যি কথা। সব ঠিক থাকলে কিউআর কোড-সহ ডিজিটাল শংসাপত্র ডাউনলোড করা যাবে। প্রিন্ট হোক বা মোবাইলেই থাকুক, দুটোই চলে।
মোবাইল না থাকলে কী করবেন?
সব পেনশনভোগীর হাতে স্মার্টফোন নেই। তাই আছে ব্যাংক, পোস্ট অফিস আর সিএসসি কেন্দ্র। সেখানকার কিয়স্কে আঙুলের ছাপ দিলেই কাজ মিটে যায়। খরচ নেই।
৮০ বছরের বেশি বয়সিদের জন্য আলাদা সুবিধা আছে, নভেম্বরের অভিযানে ব্যাংকের লোক বাড়ি গিয়েও করিয়ে দেন। এ জন্য আগেই ব্রাঞ্চে জানিয়ে রাখা ভালো।
উমং অ্যাপ দিয়েও করা যায়। উমং-এর দাপ্তরিক সাইট থেকে অ্যাপ নামিয়ে লগইন করলেই জীবন প্রমাণের অপশন পাবেন। ধীরে ধীরে সব শেখা যায়।
কোন কোন ভুলে বিপদ?
নাম বা জন্মতারিখের গরমিল? আধার তখন মিলিয়ে দেবে না, এমন হলে আগে আধার সংশোধন করিয়ে নেওয়া দরকার, তবেই জীবন প্রমাণ জমা দেওয়া সুরক্ষিত হবে।
মোবাইল নম্বর আধারের সঙ্গে যুক্ত না থাকলে ওটিপি আসবে না, সেটা আগেই আপডেট করুন। আর পেনশন সংক্রান্ত তথ্য বা ওটিপি কাউকে বলবেন না। সতর্ক থাকুন।
নিষ্পত্তি
একটা তারিখ মনে রাখুন: ৩০ নভেম্বর ২০২৬। এর মধ্যে জীবন প্রমাণ জমা দিলে ডিসেম্বরের পেনশন নিয়ে চিন্তা নেই। কাজটা অনলাইনে মিনিট পাঁচেকের। আর কী, দেরি না করে করে ফেলুন।
আরও পড়ুন: বার্ধক্য ভাতা বেড়ে ১৫০০ টাকা, সেপ্টেম্বরে কবে ঢুকবে?, আধার কার্ড আপডেট এখনও ফ্রি, শেষ তারিখ ১৪ জুন ২০২৭








