মহালয়া এলেই বাঙালির মনটা অন্য রকম হয়ে যায়, শুভেচ্ছা বিনিময়ের ধুম পড়ে যায়। একটা ভালো বাংলা বার্তা ফোনে পাঠালে প্রিয়জনের মুখে হাসি আসে, খরচও লাগে না। পুরনো দিনে এসএমএস, এখন WhatsApp। অনুরাগটাই বদলায়নি।
এবারের মহালয়া পড়েছে ১০ অক্টোবর, শনিবার, অমাবস্যা তিথি শুরু ৯ অক্টোবর রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে। ভোরবেলা আকাশবাণী থেকে ভেসে আসে মহিষাসুরমর্দিনীর সুর, অনেকেই আবার এই দিনে তর্পণ করেন। তো এবারের মহালয়ার শুভেচ্ছা বার্তা কী কী পাঠাবেন, দেখে নিন এক নজরে।
মহালয়ার শুভেচ্ছা বার্তা
মহালয়ার দিন ভোরবেলা জেগে ওঠা যায় না, সেটা প্রায় নিয়মই। বেজে ওঠে আগমনীর সুর, আর মনের ভেতরটা দোল খায়। দূরে থাকা মানুষদের কাছে পৌঁছনোর সহজ উপায় একটা ভালোবাসায় ভরা বার্তা। মহালয়ার ইতিহাস আর তিথির খুঁটিনাটি জানতে চাইলে দেখুন উইকিপিডিয়ায় মহালয়া পাতা।

‘মহালয়ার এই পুণ্য প্রভাতে আপনার জীবনে নামুক আনন্দের বন্যা। শুভ মহালয়া!’
‘দেবীপক্ষের শুরুতে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা। মা দুর্গা সবার মঙ্গল করুন। শুভ মহালয়া ২০২৬!’
‘রাতের অন্ধকার কেটে ভোরের আলোয় জেগে উঠুক নতুন আশা। শুভ মহালয়া!’
‘পুরনো দিনের সব দুঃখ দূর হোক, মায়ের আগমনীতে নেমে আসুক সুখের ছোঁয়া। শুভ মহালয়া!’
দুর্গাপুজোর শুভেচ্ছা বার্তা
আগমনীর গানের পরেই দেবীপক্ষ শুরু। পুজোর অপেক্ষায় দিন গোনাও শুরু হয়ে যায়। আগে থেকে বার্তা গুছিয়ে রাখলে পরে সুবিধা। সপ্তমী থেকে দশমী, প্রতিদিন একেক জনকে একেক বার্তা পাঠাতে পারবেন। পুজোর আমেজটা আলাদা।
‘সবার মঙ্গল হোক, মায়ের চরণে সবার মনের কথা পৌঁছুক। শুভ দুর্গাপুজো!’
‘পুজোর ছুটিতে বাড়ির আনন্দ, প্যান্ডেলে ভিড়, ফোনে শুভেচ্ছার বন্যা। শুভ পুজো!’
‘মা আসছেন সপরিবারে। এবার প্রতিমার সামনে গিয়ে মনে মনে একটু কথা বলবেন তো?’
‘পুজো মানেই পাঁচ দিনের ছুটি, সঙ্গে অফুরান খাওয়াদাওয়া। শুভ দুর্গাপুজো ২০২৬!’
‘সোনার ষোলো কলায় মা যেন আপনার সংসার ভরে রাখেন। শুভ পুজো!’
বন্ধু আর প্রিয়জনকে কী পাঠাবেন?
বন্ধুদের কাছে গুরুগম্ভীর বার্তা পাঠালে নাক সিটকানোরই জোগাড়। তাই তাঁদের জন্য আলাদা মজার টোনের বার্তা রাখা। ব্যস, এইটুকুই নিয়ম।
‘মহালয়া মানেই তো ভোর চারটের অ্যালার্ম দিয়ে মহিষাসুরমর্দিনী শোনা। অ্যালার্ম ঠিকঠাক দিয়েছ তো?’
‘পুজোর প্যান্ডেল চেনা যায় পাঁচ কিলোমিটার দূর থেকেই। এবার আগে বেরোবো তোকে নিয়েই!’
‘দুর্গাপুজোর প্রথম শুভেচ্ছা পেল আমার সবচেয়ে প্রিয় মানুষটা। শুভ পুজো রে!’
‘এই বার্তা পাঠানোর পরেই ধরো পুজো শুরু হয়ে গেল। শুভ মহালয়া বন্ধু!’
WhatsApp স্ট্যাটাসের জন্য ছোট বার্তা
স্ট্যাটাসে পুরনো লাইন রাখতে ভালো লাগে না? ভাগটা সেভ করুন। এক লাইনের ছোট বার্তা চোখে পড়ে তাড়াতাড়ি, লিখতেও সময় লাগে না। পুজোর দিন স্ট্যাটাস বদলানোরই ধুম পড়ে যায়।
‘মহালয়ার ভোরে মায়ের আগমনী, মনে আনন্দের গান।’
‘অন্ধকার কাটল, দেবীপক্ষ এল। শুভ মহালয়া!’
‘আগমনীর সুরে ডাক পড়ে মায়ের, কলকাতার আকাশে উৎসবের গন্ধ।’
‘দেবীপক্ষের শুভ সূচনা, সবার জীবনে মঙ্গল হোক।’
ভাই-বোন আর সন্তানদের জন্য শুভেচ্ছা
আপনজনদের জন্য তো আলাদা করে ভাবতেই হয়। ছোট বোন হোক কিংবা বড় ভাই, আবেগ মাখানো বার্তা পেলে সবারই মন ভালো হয়ে যায়, তাই শেষ ভাগে রাখলাম এদের লাইন।
‘ছোট বোন, মহালয়ার সকালে তোমার জন্য মায়ের কাছে ভালোবাসা চাইলাম। শুভ মহালয়া!’
‘বড়দা, পুজোর ছুটিতে বাড়ি ফিরছো তো? সবাই তোমার অপেক্ষায়। শুভ মহালয়া!’
‘আমার সোনা, এবার পুজোয় তোকে নিয়ে প্যান্ডেল ঘুরতে যাব। তুই শুধু নিজের খেয়াল রাখিস। শুভ পুজো!’
উপসংহার
মহালয়ার শুভেচ্ছা বার্তা পাঠাতে খরচ নেই, আনন্দটা অবশ্য সত্যি। চাইলে লাইনগুলো নিজের মতো করে বদলান। আন্তরিকতা বাড়বে। এবার হাতে ফোন নিন, আর সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে দিন।
আরও পড়ুন: মহালয়া ২০২৬ কবে, শুভ নাকি অশুভ, তিথি ও তর্পণের খুঁটিনাটি | মহালয়া থেকে দশমী, দুর্গাপুজো ২০২৬-র সম্পূর্ণ নির্ঘণ্ট








