বয়স বাড়ার পরে যাঁদের ভরসা নেই, তাঁদের জন্য সুখবর। কারণ, পশ্চিমবঙ্গে বার্ধক্য ভাতা এক লাফে বেড়ে গেল। আগে মাসে ১,০০০ টাকা মিলত, এবার থেকে ১,৫০০ টাকা।
রাজ্য সরকারের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১ অগাস্ট ২০২৬ থেকে নতুন হারে টাকা ঢুকছে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে।
কত টাকা মিলছে এবার?
পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতর বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে, সামাজিক পেনশনের তিনটি প্রকল্পেই মাসিক সাহায্য ১,০০০ টাকা থেকে বেড়ে ১,৫০০ টাকা হয়েছে। শুধু বার্ধক্য ভাতাই নয়, বিধবা ভাতা আর প্রতিবন্ধী ভাতাও একই হারে বাড়ল।
মাসে বাড়তি ৫০০ টাকা।
সেপ্টেম্বরে কবে ঢুকবে টাকা?
চলতি মাসের টাকা ঢুকতে শুরু করেছে অনেকের অ্যাকাউন্টে। কারও কারও ব্যাঙ্কে ১ সেপ্টেম্বর থেকেই ১,৫০০ টাকা দেখা গেছে।

যাঁদের এখনও আসেনি, তাঁদের জন্য নিয়ম হলো, প্রতি মাসে পেনশন দেওয়া হয় ৭ তারিখের মধ্যে। তার আগে টাকা না পেলে পাসবুক মিলিয়ে নিন। চিন্তার কিছু নেই। দেরি হলে সমর্থ পোর্টালে স্ট্যাটাস দেখুন।
কাদের ভাতা মিলবে?
বয়স কমপক্ষে ৬০ বছর হতে হবে, প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে ৫৫ বছর। পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা হতে হবে, আর আবেদনের সময় অন্তত ১০ বছর রাজ্যে থাকার প্রমাণ লাগবে। আর আটাল পেনশন যোজনা-র মতো অন্য কোনো সরকারি পেনশন পেলে এই ভাতা মিলবে না।
সবাই কিন্তু পাবেন না।
কী কী নথি লাগবে?
আবেদনের সময় আধার কার্ড, ভোটার কার্ড আর ব্যাঙ্ক পাসবুকের প্রথম পাতার কপি সঙ্গে রাখুন। আয়ের শংসাপত্র লাগবে, পঞ্চায়েত প্রধান, বিধায়ক বা গেজেটেড অফিসার যেটি ইস্যু করবেন।
সব কাগজপত্র জমা পড়ার পরে সরকার যাচাই করে নাম তালিকায় ঢোকায়। তারপর প্রতি মাসে নির্দিষ্ট দিনে টাকা চলে যায় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার যুক্ত থাকলে পৌঁছনোর ঝামেলা কম। কাগজপত্র আগে থেকে গুছিয়ে রাখুন।
আবেদন করবেন কীভাবে?
আবেদনের ফর্ম P পাবেন স্থানীয় পৌরসভা, এসডিও, বিডিও আর পঞ্চায়েত অফিসে, খরচ নেই। এছাড়াও দুয়ারে সরকার শিবিরে নেওয়া হচ্ছে নতুন আবেদন। ফর্মের খরচ নেই বললেই চলে।
আরও জানতে চাইলে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উইকিপিডিয়া পাতা দেখতে পারেন। দেরি না করে আজই ব্যবস্থা নিন।
টাকা পৌঁছনোর খবর কীভাবে দেখবেন?
সমর্থ পোর্টালে গিয়ে অ্যাপ্লিকেশন ট্র্যাক বিকল্পে ক্লিক করুন। তালিকা থেকে বার্ধক্য ভাতা প্রকল্প বেছে নিন। এবার উপভোক্তা আইডি, আধার বা মোবাইল নম্বর দিয়ে খোঁজ নিন, স্ট্যাটাস চলে আসবে পর্দায়।
উপসংহার
বার্ধক্য ভাতা বেড়ে যাওয়ায় চিন্তা কমছে হাজার হাজার পরিবারে। নিয়ম করে প্রতি মাসে ১,৫০০ টাকা অ্যাকাউন্টে এলে, ওষুধ আর বাজার খরচের অনেকটাই মিটে যায়।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী কিষাণ মানধন যোজনা: কৃষকদের মাসিক পেনশনের খুঁটিনাটি








