চোখ জ্বালা করছে? স্ক্রিনের সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকলেই এমন হয়। অফিসের কাজ, অনলাইন ক্লাস, রোজকার খবর, সবকিছুতেই এখন স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়, আর সেই চাপটা সরাসরি উঠে আসে চোখে। মাথা ধরা, চোখ শুকিয়ে যাওয়া, ভার লাগা। চেনা অনুভূতি, তাই না? জ্বী, ঠিক ধরেছেন।
ডাক্তাররা এই অবস্থার একটা নাম দিয়েছেন, ডিজিটাল আই স্ট্রেন। নাম শুনলে ভয় লাগছে? ভয়ের কিছু নেই। কয়েকটা অভ্যাস সামান্য বদলালেই এই সমস্যা থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখা যায়, আজকে সেই সব কার্যকরী উপায়ের কথাই জানা যাবে, ধাপে ধাপে।
ডিজিটাল স্ক্রিন কীভাবে চোখের ক্ষতি করে?
মূল কথাটা হল পলক। স্ক্রিনে মন দিয়ে চোখ রাখলে আমরা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম পলক ফেলি, ফলে চোখের ওপরের স্তরটা শুকিয়ে যায় এবং জ্বালা করা শুরু হয়। ব্যস, ওইটাই ঘটনা। এর সঙ্গে যোগ হয় নীল আলো। রাতে লাইট বন্ধ করে ফোন চালানোর অভ্যাস আছে অনেকেরই। সেটা যত আরামদায়কই মনে হোক, নীল আলো মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণ কমিয়ে দেয়, ঘুম ঠিকমতো হয় না, পরদিন চোখ আরও ক্লান্ত লাগে। দীর্ঘদিন এই চলতে থাকলে চোখের পাওয়ারও বাড়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
চোখ সুস্থ রাখার ৭টি কার্যকরী টিপস

এবার সেরে ওঠা যাক। চিকিৎসকদের পরামর্শের ভিত্তিতে নিচে সাতটা নিয়ম দেওয়া হল, প্রতিটাই প্রয়োগ করার মতো।
১. ২০-২০-২০ নিয়ম মেনে চলুন
প্রতি ২০ মিনিট পর ২০ ফুট দূরের কোনও জিনিস ২০ সেকেন্ড ধরে দেখুন। ব্যস, এইটুকুই। চোখের পেশি শিথিল হয়, স্ট্রেন কমে। মনে রাখতে অসুবিধা হলে ফোনে অ্যালার্ম সেট করে দিন।
২. ব্রাইটনেস ঠিক রাখুন
স্ক্রিনের আলো আশেপাশের ঘরের আলোর মতো হওয়াই ভালো। বেশি ঝলমলে স্ক্রিন চোখ কাঁদায়, আবার খুব কম আলোর স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকলে চোখ বারবার চেষ্টা করতে থাকে, দুইটাই ক্ষতিকর। আর হ্যাঁ, রাতে তো নাইট মোডই। চালু রাখতেই হবে।
৩. সঠিক দূরত্বে স্ক্রিন রাখুন
কম্পিউটারের স্ক্রিন চোখ থেকে অন্তত ২০ থেকে ২৪ ইঞ্চি দূরে রাখাই ভালো, মানে হাত বাড়ালে যেটুকু দূরত্ব, ঠিক তার কাছাকাছি। মোবাইল হলে সামান্য নিচে নামিয়ে ধরুন। সোজা চোখে গুঁইসে তাকানো থেকে বাঁচবেন।
৪. ঘন ঘন পলক ফেলুন
হঠাৎ মনে পড়লেই পলক ফেলুন। সচেতনভাবে, ধীরে ধীরে। চোখ শুকোতে পারবে না, জ্বালাও কমবে। খুব শুকনো লাগলে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে লুব্রিকেটিং আই ড্রপ ব্যবহার করা যেতে পারে, নিজে থেকে যেকোনও ড্রপ কিনে ফেলা ঠিক হবে না।
৫. চোখের ব্যায়াম
দিনে মাত্র কয়েক মিনিট। চোখ বন্ধ করে ধীরে ধীরে গোল গোল ঘুরান, উপরে নিচে, ডানে বামে দেখুন। এরপর হাতের তালু দুটো গরম করে চোখের ওপর রেখে দিন। নাম পালমিং। চোখের পেশি শিথিল হয়ে যায়, আরাম লাগে।
৬. সঠিক খাদ্যাভ্যাস
চোখের জন্য খাবারও দরকার। গাজর, পালং শাক, ব্রোকলি, ডিম, বাদাম, এই খাবারগুলোতে থাকা ভিটামিন এ, সি ও ই চোখের রেটিনাকে ভালো রাখে। রোজকার খাবারে ফিরিয়ে আনুন। বাজার করতে গেলেই তালিকায় ঢুকিয়ে দিন।
৭. নিয়মিত চেকআপ
যাদের চশমা আছে, বছরে অন্তত একবার চোখ পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া চাই। অনেক সময় পাওয়ার ঠিক আছে ভেবে ঝামেলা এড়িয়ে চলা হয়। কিন্তু চোখের ভিতরের চাপ বা শুকনো ভাবের মতো সমস্যা আগে ধরা পড়ে না। ছোটখাটো সমস্যাকে বড় হতে দেবেন না।
উপসংহার
স্ক্রিন ছাড়া এখন চলে না, সে কথা সবাই জানে। তার মানে এই নয় যে চোখের ক্ষতির দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে। ২০-২০-২০ নিয়মটা আজ থেকেই শুরু করে দিন, সঙ্গে পলক ফেলার অভ্যাস আর ঠিক দূরত্ব। সাতটা নিয়মের মধ্যে অন্তত তিনটা মেনে চললেই চোখের স্ট্রেন অনেকটাই কমবে। চোখ আমাদের সবচেয়ে মূল্যবান ইন্দ্রিয়গুলোর একটি, আজ থেকে সামান্য যত্ন, সারাজীবন স্বস্তি।








