পাসপোর্টের খবরটা বড়। ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে দেশে চালু হয়েছে পাসপোর্টের নতুন নিয়ম, বেড়েছে ফি, বদলেছে শিশুদের পাসপোর্টের মেয়াদের হিসাব।
এখন হাতে গোনা কয়েক দিন বাকি মহালয়ার, ১০ অক্টোবর। তার পরেই দুর্গাপুজো, আর এই সময়ে অনেকে বিদেশ ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান করেন। প্লেন ধরার আগে পাসপোর্টের খবরটা মিলিয়ে নিন, ফি কত, আবেদন কীভাবে, কোন নথি লাগবে। সত্যি কথা, নিয়ম বদলের খবরটা অনেকের চোখ এড়িয়ে গেছে।
পাসপোর্টের নতুন নিয়মে কী বদলেছে?
বিদেশ মন্ত্রকের পাসপোর্ট (সংশোধন) বিধি ২০২৬ অনুযায়ী ফি বাড়ানো হয়েছে সব বিভাগেই। নতুন পাসপোর্ট, নবায়ন, তৎকাল, হারানো পাসপোর্টের বদলি, সবেতেই দাম বেড়েছে। পুরো বিধিটা দেখা যাবে পাসপোর্ট সেবার দাপ্তরিক ওয়েবসাইটে।
বদলেছে তৎকালের ফিটা। ৩৬ পৃষ্ঠার তৎকাল পাসপোর্ট আগে ৩,৫০০ টাকা, এখন ৫,০০০ টাকা, আর ৬০ পৃষ্ঠারটা ৪,০০০ থেকে বেড়ে ৬,০০০ টাকা।
শিশুদের ফিও বদলেছে। ১৫ বছরের কম বয়সিদের ৩৬ পৃষ্ঠার সাধারণ পাসপোর্টের ফি ১,০০০ থেকে বেড়ে ১,৭৫০ টাকা। তৎকালে লাগবে ৩,০০০ টাকা। সাধারণের চেয়ে তৎকালে খরচ বাড়লেও সময় বাঁচে অনেকটাই।
বাচ্চাদের পাসপোর্টের মেয়াদের নিয়মটাও বদলেছে। ১৫ বছরের কম বয়সি শিশুর ৩৬ পৃষ্ঠার সাধারণ পাসপোর্ট এখন বৈধ থাকবে ৫ বছর বা ১৮ বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত, যেটা আগে ঘটে। বিস্তারিত নিয়মটা দেখে নেওয়া যায় উইকিপিডিয়ায় ভারতীয় পাসপোর্টের পাতায়।

পাসপোর্ট আবেদন কীভাবে করবেন?
আবেদনের রাস্তা এখন আগের চেয়ে সহজ। সবার আগে পাসপোর্ট সেবার সরকারি ওয়েবসাইট বা পাসপোর্ট সেবা অ্যাপে রেজিস্টার করুন। তার পর অনলাইন ফর্ম পূরণ করুন, ঠিকানা আর জন্মতারিখের হিসাব মেলে দিন। ফি জমা হয়ে গেলে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করুন পাসপোর্ট সেবা কেন্দ্র বা পোস্ট অফিস পাসপোর্ট সেবা কেন্দ্রে।
সুবিধার কথা বলি। চাইলে নিজের এলাকার বাইরের পাসপোর্ট অফিসও বেছে নিতে পারেন, অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
নির্দিষ্ট দিনে কেন্দ্রে গিয়ে ফটো আর ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে ফর্ম জমা দিন। পুলিশ ভেরিফিকেশন হয়ে গেলে কুরিয়ারে পাসপোর্ট চলে আসে। সাধারণ আবেদনে ৭ থেকে ৩০ দিন লাগতে পারে, তৎকালে ১ থেকে ৩ দিন।
কী কী নথি লাগবে?
থাকবেই আধার কার্ড। সঙ্গে লাগবে ঠিকানার প্রমাণ, ভোটার কার্ড, রেশন কার্ড বা বিদ্যুতের বিল, যেকোনো একটা চলবে।
নবায়নের ক্ষেত্রে পুরনো পাসপোর্টটাও সঙ্গে রাখুন। বিয়ের পরে নাম বদলে থাকলে লাগবে বিয়ের সার্টিফিকেট। জন্মের প্রমাণ হিসাবে জন্ম নিবন্ধন বা স্কুলের সার্টিফিকেট দিলেই হবে।
ফি কত পড়বে? এক নজরে
| ধরন | আগের ফি | নতুন ফি |
|---|---|---|
| তৎকাল, ৩৬ পৃষ্ঠা | ৩,৫০০ টাকা | ৫,০০০ টাকা |
| তৎকাল, ৬০ পৃষ্ঠা | ৪,০০০ টাকা | ৬,০০০ টাকা |
| শিশু, সাধারণ ৩৬ পৃষ্ঠা | ১,০০০ টাকা | ১,৭৫০ টাকা |
| শিশু, তৎকাল ৩৬ পৃষ্ঠা | নতুন নিয়ম | ৩,০০০ টাকা |
সংক্ষেপে
সারকথা, ফি একটু বাড়লেও পাসপোর্ট পাওয়ার প্রক্রিয়া আগের মতোই সহজ। পুজোর ছুটি শুরু হওয়ার আগেই আবেদনটা সেরে ফেলুন, শেষ মুহূর্তের টানাটানিতে পড়তে হবে না।
আরও পড়ুন: তৎকাল পাসপোর্ট: ফি, নিয়ম ও সময় এবং পুজোর আগে ৫টি নথি আপডেটের তালিকা।








