পড়ুয়াদের জন্য সুখবর। কারণ, রাজ্য সরকারের তরফে বছরে ৮০০ টাকা করে স্কলারশিপ মিলবে। শিক্ষাশ্রী ও মেধাশ্রী প্রকল্পের ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের আবেদন ইতিমধ্যেই শুরু।
তবে সুবিধাটা সবার জন্য নয়। পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি, সরকারি বা সরকারি-সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলে পড়া SC, ST ও OBC পড়ুয়ারাই পাবেন। টাকা সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। জেনে নিন খুঁটিনাটি।
শিক্ষাশ্রী ও মেধাশ্রী স্কলারশিপ কী? কারা পাবেন?
দুটো আলাদা প্রকল্প, কিন্তু উদ্দেশ্য এক। শিক্ষাশ্রী চলে SC ও ST পড়ুয়াদের জন্য, মেধাশ্রী OBC পড়ুয়াদের জন্য, তত্ত্বাবধানে রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ ও আদিবাসী উন্নয়ন দপ্তর।
শুধু যেকোনো স্কুলে পড়লেই হবে না। স্কুলটা হতে হবে সরকারি বা সরকারি-সাহায্যপ্রাপ্ত। প্রাইভেট স্কুলের পড়ুয়ারা এই স্কলারশিপ পাবেন না।

| প্রকল্প | কারা পাবেন | কত টাকা |
|---|---|---|
| শিক্ষাশ্রী | SC ও ST পড়ুয়া, পঞ্চম-অষ্টম | বছরে ৮০০ |
| মেধাশ্রী | OBC পড়ুয়া, পঞ্চম-অষ্টম | বছরে ৮০০ |
আবেদনের যোগ্যতা কী কী?
মোট চারটে শর্ত। পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। পরিবারের বার্ষিক আয় রাখতে হবে আড়াই লাখ টাকার নিচে। স্কুলটা সরকারি বা সরকারি-সাহায্যপ্রাপ্ত, সঙ্গে জাতিগত সার্টিফিকেট তো থাকতেই হবে।
কোন কোন শ্রেণির পড়ুয়ারা আবেদন করতে পারবেন?
পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি, মানে ৫ম থেকে ৮ম। যাঁরা এই ক্লাসে পড়ছেন, তাঁদের জন্যই এই প্রকল্প।
আবেদন করার পদ্ধতি কী কী?
অনলাইনে নিজে গিয়ে ফর্ম ভরার সুযোগ নেই। ফর্মটা স্কুলের অফিস থেকে নিতে হবে। পূরণ করে প্রয়োজনীয় নথিসহ জমা দিন দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকের কাছে, বাকিটা স্কুল কর্তৃপক্ষই সরকারি পোর্টালে আপলোড করে দেবে।
ফর্মের নমুনা দেখতে পারেন হুগলি জেলা প্রশাসনের অফিসিয়াল পেজে।
কী কী নথি লাগবে?
আধার কার্ডের কপি, সঙ্গে জাতিগত সার্টিফিকেট। শিক্ষাশ্রীর জন্য SC বা ST সার্টিফিকেট, মেধাশ্রীর জন্য OBC সার্টিফিকেট। এই দুটোই লাগবে।
নিজের সচল ব্যাংক অ্যাকাউন্টের পাসবুকের প্রথম পাতার কপি চাই। ব্যাংকের শাখা, অ্যাকাউন্ট নম্বর, নাম, সব যেন স্পষ্ট দেখা যায়।
পরিবারের আয়ের সার্টিফিকেট লাগবে, সেটা পঞ্চায়েত বা পুরসভা থেকে। সঙ্গে পাসপোর্ট সাইজের সাম্প্রতিক রঙিন ছবি আর একটা চালু মোবাইল নম্বর। এই নম্বরেই টাকার খবর পাবেন।
টাকা কবে মিলবে?
আবেদন জমা পড়লেই টাকা আসে না। স্কুলের যাচাই, দপ্তরের ছাড়পত্র, তারপর ট্রেজারির মাধ্যমে সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। ব্যস, এইটুকুই। টাকার কথা বললে, প্রতি প্রকল্পে বছরে ৮০০ টাকা।
টাকা ঢুকলে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে একটা SMS আসে। আলাদা স্ট্যাটাস দেখার পোর্টাল নেই, পাসবুক আপডেট করে দেখে নিতে হবে।
আবেদনের শেষ তারিখ কত?
নির্দিষ্ট একটা শেষ তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। চলতি খবর অনুযায়ী আরও কয়েক মাস জমা নেওয়া চলবে। তার মানে সময় আছে, কিন্তু সীমাহীন নয়।
দেরি না করাই ভালো। স্কুলের অফিসে গিয়ে ফর্মটা চেয়ে নিন। তাড়াতাড়ি বুঝিয়ে দিন। আর কী!
আরও পড়ুন: কন্যারত্ন প্রকল্পে এককালীন ২৫ হাজার টাকা, আবেদনের নিয়ম, রূপশ্রী প্রকল্প ২০২৬: এককালীন ২৫ হাজার টাকা
উপসংহার
বছরে ৮০০ টাকাই হোক, নিশ্চিত পাওনা। স্কুল খরচের একাংশ মিটিয়ে দেবে। সত্যি কথা। স্কুলে ফর্ম জমা দিতে এতটুকু দেরি করবেন না।








