Food Chart for Sugar Patient in Bengali, ডায়াবেটিস দূরারোগ্য ব্যধি হলেও পরিমিত জীবন যাপনে সুস্থ থাকতে পারেন ডায়াবেটিক রোগী

0

ডায়াবেটিস একটি দূরোরোগী ব্যধি। এসম্পর্কে বাংলায় তেমন কোন লেখা পাওয়া যায় না।কি কি করনীয় একজন ডায়াবেটিক রোগীর? ( food chart for sugar patient in bengali )।  ডায়াবেটিস ইন বেঙ্গলি (diabetes in Bengali) আমাদের লেখার উদ্দেশ্য যাতে বাঙ্গালিরা এ সম্পর্কে আমাদের নিজ ভাষায় জানতে পারি। বিভিন্ন ইংরেজি বাংলা লেখা থেকে ও ডাক্তারদের সাথে কথা বলে আমাদের ডায়াবেটিস ইন বেঙ্গলি (diabetes in Bengali) লেখা হয়েছে।

বহুমূত্র রোগ (Diabetes) –

ডায়াবেটিস বা মধুমেহ হরমোন সংশ্লিষ্ট রোগ। শরীরের প্রয়োজনীয় ইনসুলিন তৈরি না হলে তাকে ডায়াবেটিস বলা হয়। প্রয়োজনীয় ইনসুলিন তৈরি না হলে তখন রক্তে গ্লুকোজ বাড়তে থাকে। এই  গ্লুকোজ বাড়াকে ডায়াবেটিস বলা হয়। ডায়াবেটিস সমস্ত বিশ্বে একটি মহামারি রোগ। কয়েক দশক আগে এ রোগের পরিচিতি তেমন ছিল না। ডায়াবেটিস রোগের বাড়ছে অন্ধত্ব, স্নায়ুরোগ, কিডনি, হৃদযন্ত্র বিল হওয়া, পায়ে আলসার সহ বিভিন্ন সমস্যা।

ডায়াবেটিস কি? (What is diabetes?)-

যখন আমরা কার্বোহাইড্রেট বা সাধারণ শর্করাজাতীয় খাবার খাই, তখন তা ভেঙে গ্লুকোজে পরিণত হয়। ইনসুলিন হচ্ছে একধরনের হরমোন। এর কাজ হলো এই গ্লুকোজকে মানুষের দেহের কোষগুলোয় পৌঁছে দেওয়া। এরপর সেই গ্লুকোজ ব্যবহার করে শরীরের কোষগুলো শক্তি উৎপাদন করে। সেই শক্তি দিয়েই রোজকারের কাজকর্ম করে মানুষ। সুতরাং যখন এই গ্লুকোজ শরীরের কোষে পৌঁছাবে না, তখন স্বাভাবিকভাবেই মানুষের দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হবে। রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে বৃদ্ধি পায় এবং প্রস্রাবের (Urine) সাথে গ্লুকোজ বের হয়ে যায়। এটিই হচ্ছে ডায়াবেটিস মেলাইটাস (DM – Diabetes Mellitus) বা বহুমূত্র রোগ। অনেকেই এক সময় ডায়াবেটিসের গ্লুকোজ সমৃদ্ধ প্রস্রাবকে “মধুমূত্র” নামে আখ্যায়িত করতেন। নামের সাথে মধুর সংশ্রব থাকলেও আসলে ইহার যে মধুময় নয়, তা  টাইপ-১ বা ইনসুলিন নির্ভর ডায়াবেটিস, যা মুলত: কম বয়সে হয়ে থাকে।

ডায়াবেটিসের ধরণ (Types of diabetes)-ডায়াবেটিস সাধারণত দুই রকম।

১.  টাইপ-১ বা ইনসুলিন নির্ভর ডায়াবেটিস, যা মুলত: কম বয়সে হয়ে থাকে। তাতে অগ্ন্যাশয় ইনসুলিন তৈরি করার ক্ষমতা হারায় এবং এসব রোগীদের ইনসুলিন অপরিহার্য।

২.আরেকটি হচ্ছে টাইপ-২ বা ইনসুলিন অনির্ভর ডায়াবেটিস।

ডায়াবেটিসের কারণ (Causes of diabetes)-

জন্মগত বা পরিবেশগত কারণে এই ডায়াবেটিসের প্রকোপ দেখা যায়। প্রতি বছর তিন শতাংশ হারে ডায়াবেটিস বাড়ছে এবং সাধারণত তরুণরাই এতে আক্রান্ত হচ্ছে। বাবা মা কারও এক জনের ডায়াবেটিস থাকলে ঝুঁকি বাড়ে, আর দুজনেরই থালে ডায়াবেটিসের আশঙ্কা অনেক গুণ বেড়ে যায়। অনেক সময় শুধ গর্ভকালেই ডায়াবেটিসের উদ্ভব ঘটে। মেডিকেল সাইন্সের পরিভাষায় একে জিডিএম বলে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের একমাত্র পদ্ধতি হলো সুশৃংখল জীবন যাপন। নিয়ম মাফিক খাওয়া দাওয়া করা, ঠিক মত হাঁটা চলা বা ব্যায়াম করা, প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র ব্যবহার করা। এসকল নিয়ম যারা মেনে চলতে পারবেন ডায়াবেটিস থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন, তেমনি আক্রান্ত হলেও সহজেই একে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন। ফলে স্বাভাবিক জীবন যাপন যেমন সম্ভব, তেমনি ডায়াবেটিস জনিত জটিলতা থেকেও বেঁচে থাকা সম্ভব। ডায়াবেটিস  নিয়ন্ত্রণে আছে কিনা, তা দেখার জন্য মাঝে মধ্যে রক্তের সুগার টেস্ট করতে হবে। স্বল্প দামের গ্লুকোমিটার দিয়ে বাড়িতে বসে বসে সহজেই এ কাজটি করা যায়।

ডায়াবেটিস এর মাত্রা (Levels of diabetes)-

খাবার খাওয়ার আগে সুগারের পরিমাণ ৬ মিলিমোল ও পরে ৮ মিলিমোল এর কাছাকাছি থাকলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে।  ডায়াবেটিসের লক্ষণগুলো (Symptoms of diabetes)-আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কিছু বিষয়ে খেয়াল রাখলে সহজেই চিহ্নিত করা যায় ডায়াবেটিস। ডায়াবেটিস রোগের সাধারণ কিছু লক্ষণ রয়েছে। ডায়াবেটিসের লক্ষণগুলো হলো:

১. ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া
২. তেষ্টা পাওয়া
৩. নিয়মিত খাওয়ার পরও ঘন ঘন খিদে
৪. প্রচণ্ড পরিশ্রান্ত অনুভব করা
৫. চোখে ঝাপসা দেখা
৬. শরীরের বিভিন্ন অংশের কাটাছেঁড়া সহজে সারে না
৭. খাওয়া সত্ত্বেও ওজন কমে যাওয়া
৮. হাতে-পায়ে ব্যথা বা মাঝে মাঝে অবশ হয়ে যাওয়া

ডায়াবেটিস প্রতিরোধে খাবার (Food to prevent diabetes)- সবুজ চা: সবুজ চা মানুষের শরীরে ইনসুলিনের মতো কাজ করে; ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সাহায্য করে এটি।

Food Chart for Sugar Patient in Bengali

ওয়াইল্ড স্যামন:

ডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য অন্যতম একটি ঔষধি খাদ্য ওয়াইল্ড স্যামন। এতে উচ্চ মাত্রায় ওমেগা-৩ রয়েছে।

টক দই:

টক দই একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্য। এতে চিনির পরিমাণ খুব কম। এটি রক্তে চিনির পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে। দুপুরের খাবারের সঙ্গে বা বিকেলের নাস্তায় স্যান্ডউইচের সঙ্গে টক দই খাওয়া যায়।

ডিমের সাদা অংশ:

ডিম পেশি গঠনকারী খাদ্য। এতে উচ্চ মানের প্রোটিন রয়েছে। ডিমের সাদা অংশে উচ্চ মানের চর্বিহীন প্রোটিন এবং কম মাত্রায় কার্বোহাইড্রেট রয়েছে যা ২ ধরণের ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সাহায্য করে।

লেবু:

লেবু ও লেবু জাতীয় ফল ডায়াবেটিস প্রতিরোধে কাজ করে। গবেষণায় দেখা গেছে, শরীরে ভিটামিন সি এর অভাবে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি রয়েছে। তবে লেবু জাতীয় ফল খেলে ভিটামিন সি এর অভাব পূরণ হয়। জাম্বুরা, কমলা, লেবু এবং লাইমস ডায়েবেটিস নিয়ন্ত্রণে ইনসুলিনের মতো কাজ করে।

সবুজ শাক সবজি:

সবুজ শাক সবজি ২ ধরনের ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি কমায়। পালং শাক, পাতা কপি, শালগম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, লেটুস পাতা ইত্যাদি খাবারে ক্যালরি এবং কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ কম। গবেষণায় বলা হয়, সবুজ শাক সবজি খেলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি ১৪ শতাংশ পর্যন্ত কমে।

শস্য দানা:

প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় শস্য দানা মানুষের শরীরের রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। ফলে ডায়াবেটিসের সম্ভাবনা কমে। আবার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে শস্য দানা।

বাদাম:

ডায়াবেটিসের ঝুকি প্রায় ২১ শতাংশ পর্যন্ত কমায় চীনাবাদাম। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় ১ আউন্স আখরোট বা কাজুবাদাম ডায়াবেটিস প্রতিরোধে বিস্ময়করভাবে কাজ করে। নিয়মিত বাদাম খেলে হৃদরোগের ঝুঁকিও কমে।

মটরশুটি:

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অত্যন্ত উপকারী একটি খাদ্য মটরশুটি। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন ১ কাপ মটরশুটি খেলে ২ ধরনের ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে। এতে উচ্চমাত্রায় শর্করা, চর্বিহীন প্রোটিন এবং আঁশ রয়েছে। এটি শরীরের রক্তে চিনি কমাতে সাহায্য করে; হৃদরোগের সম্ভাবনাও কমায়।

 

ডায়াবেটিস রোগীর ডায়েট চার্ট এবং খাদ্য তালিকা (Diabetes Patient Diet Charts And Food List):-

ডায়াবেটিস রোগীর জন্য শর্করা জাতীয় খাবার ক্ষতিকর কারণ এটি রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, তাই খাবারে শর্করা জাতীয় খাবার কমাতে হবে। কিছু শর্করা জাতীয় খাবার রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা তাড়াতাড়ি বাড়ায় যেমন, চিনি, মিষ্টি, বেশি ছাঁটা চালের ভাত, ময়দার রুটি সেগুলো কম খেতে হবে। লাল চালের ভাত (ব্রান সহ), গমের আটার রুটি (ব্রান সহ), সবজি, বাদাম, বুট এবং কলাই জাতীয় খাদ্য রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা ধীরে ধীরে বাড়ায় তাই এই খাবার গুলি বেশি খেতে হবে। তবে ক্যালরির হিসেব রাখতে হবে অবশ্যই। ডায়াবেটিস রোগীর জন্য মোট ক্যালরির ২০% আসবে আমিষ থেকে, ৩০% আসবে ফ্যাট থেকে এবং ৫০% আসবে শর্করা থেকে। এখানে একজন ডায়াবেটিস রোগীর জন্য ১৬০০ কিলোক্যালরির চাহিদার একটি স্যাম্পল ডায়েট চার্ট বা খাবারের মেন্যু দেয়া হল। খাদ্যের সাথে ডায়াবেটি রোগীর সময়মত  এবং পরিমানমত খাদ্য গ্রহণ করতে হবে। (home remedies for diabetes in bengali)

food chart for sugar patient in bengali সকালের নাস্তা (সকাল ৭.৩০-৮.০০ টা)-১ টি গমের রুটি, ১ গ্লাস ফ্যাট ছাড়া দুধ, ১ হাস বা মুরগির ডিম, ১ কাপ পাতা যুক্ত শাক সবজি

food chart for sugar patient in bengali দুপুরের খাবার-(দুপুর ১.৩০ থেকে ২ টা)- ভাত দেড় কাপ পরিমান, মাছ অথবা মাংস রান্না করা ফ্যাট ছাড়া, ১ কাপ পাতা যুক্ত শাক,  ১ কাপ মাঝারি ঘন ডাল

food chart for sugar patient in bengali বিকালের নাস্তা (বিকেল ৫.৩০ থেকে ৬টা)-সিজনাল ফল ১ টি, বাদাম বা বুট কলাই ১ কাপের ৪ ভাগের ১ ভাগ।

রাতের খাবার (রাত ৯ টা থেকে ৯.৩০) -১ টি আটার রুটি অথবা ১ কাপের অর্ধেক ভাত, ৬০ গ্রামের মত ফ্যাট ছাড়া মাছ বা মাংস, ২ কাপের মত সবজি এর অর্ধেক পাতা যুক্ত, একটি সিজনাল ফল।

ডায়াবেটিস চিকিৎসা পদ্ধতি (Diabetes treatment system)

(home remedies for diabetes in bengali) ডায়াবেটিসের চিকিৎসার পদ্ধতিতে সংক্ষেপে তিনটি “ডি” পালন করতে হয়। প্রথম “ডি”- ডায়েট বা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ, ৬০ থেকে ৮০ ভাগ রোগী এতেই ভালো থাকেন। দ্বিতীয় “ডি”- ডিসিপ্লিন বা শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবন যাপন। তৃতীয় “ডি”- ড্রাগ বা ওষুধ, খুব অল্প সংখ্যক রোগীরই এর প্রয়োজন পড়বে।

ডায়াবেটিসে ঘুম-গবেষনায় দেখা যায়, যেসব  পুরুষরা খুব বেশি বা কম ঘুমান তাদের রক্তে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে পারে না হরমোন। যারা গড়পড়তা ঘুমান তাদের গ্লুকোজ যথেষ্ট নিয়্ন্ত্রণে থাকে। যারা গড়ে ৭ ঘণ্টা ঘুমান তাদের দেহের গ্লুকোজ বেশি বা কম ঘুম পাড়া পুরুষের চেয়ে অনেক নিয়ন্ত্রণে থাকে। তবে নারীদের ক্ষেত্রে ঘুম প্রযোজ্য নয়। কম বা বেশি ঘুমানো নারীদের দেহে গ্লুকোজ বেশ নিয়ন্ত্রণেই থাকে। নারীদের বেটা সেল ফাংশন বেশ ভালো কাজ করে। অর্থাৎ, ইনসুলিন উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হয় না। কাজেই নারীদের ঘুম ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায় না।

“ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে আসতে পারে সুস্থ জীবন” ডায়াবেটিস সমস্ত বিশের সামনেই একটি ঝুকি। ডায়াবেটিস রোগ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিবছর  ১৪ নভেম্বর বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস পালন করা হয়। বিশ্ব ডায়াবেটিস ফেডারেশন (আইডিএফ) ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ১৯৯১ সাল-এ ১৪ নভেম্বরকে ডায়াবেটিস দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। পরিমিত আহার, সঠিক জীবন যাপন, নিয়মিত হাটা একজন ডায়াবেটি রোগীকে সুস্থ রাখা সম্ভব।

আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
মন্তব্য
Loading...