পেট্রলের দামে নাভিশ্বাস, তার ওপর নিত্য যাতায়াতের খরচও কমছে না। এমন সময়ে এক চার্জে ৯৫ কিলোমিটার ছুটে চলার প্রতিশ্রুতি নিয়ে বাজারে এল সুজুকির প্রথম ইলেকট্রিক স্কুটার। নামটা অচেনা নয়।
হ্যাঁ, সেই জনপ্রিয় অ্যাক্সেস ১২৫-এর ইলেকট্রিক রূপই এই সুজুকি ই-অ্যাক্সেস। বুকিং ইতিমধ্যেই শুরু।

দাম কত পড়ছে?
এক্স-শোরুম দাম শুরু ১,৮৮,৪৯০ টাকা, মানে দেড় থেকে দুই লক্ষের মাঝামাঝি। সাধারণ ই-স্কুটারের তুলনায় খানিকটা বাড়তি দাম। তবে তার বদলে বিল্ড কোয়ালিটি আর ব্যাটারি টেকনোলজির ওপর জোর দিচ্ছে সংস্থা। দামটাই বড় প্রশ্ন।
রং আছে ৪টি ডুয়াল টোন অপশন। পার্ল জেড গ্রিন ও ম্যাট গ্রে, কালো ও বোর্দো রেড, স্টেলার ব্লু ও ম্যাট গ্রে, আর সাদা ও ম্যাট গ্রে। জ্বী, ঠিক শুনেছেন।
রাজ্যে রাজ্যে ভর্তুকির হেরফেরে অন-রোড দাম বদলাতে পারে।
ব্যাটারি, রেঞ্জ আর চার্জিং কেমন?
ভিতরে আছে ৪.১ কিলোওয়াট মোটর, টর্ক ১৫ নিউটন মিটার। টপ স্পিড ঘণ্টায় ৭১ কিলোমিটার। ৩.০৭ কিলোওয়াট-ঘণ্টার এলএফপি ব্যাটারি, যা সাধারণ এনএমসি ব্যাটারির তুলনায় প্রায় ৪ গুণ বেশি দিন টেকে বলে দাবি সংস্থার।
একবার ফুল চার্জে রেঞ্জ ৯৫ কিলোমিটার। ব্যাটারি ১০ শতাংশও পড়ে থাকলে কর্মক্ষমতায় ভাঁটা পড়বে না, সেটাই সবচেয়ে মজার।
চার্জিংয়ের খবরটা শুনুন। পোর্টেবল চার্জারে শূন্য থেকে ৮০ শতাংশ ৪ ঘণ্টা ৩০ মিনিটে, ফুল চার্জ ৬ ঘণ্টা ৪২ মিনিটে। ডিসি ফাস্ট চার্জারে সেই ৮০ শতাংশ মাত্র ১ ঘণ্টা ১২ মিনিটে, আর দেশজুড়ে এখন ২৪০টির বেশি ফাস্ট চার্জার স্টেশন রয়েছে।
ফিচার তালিকায় কী কী?
সামনে টারবাইন স্টাইলের অ্যালয় হুইল, বর্গাকার এলইডি হেডল্যাম্প আর ডিআরএল। ভিতরে ৪.২-ইঞ্চি টিএফটি কালার ডিসপ্লে, স্মার্টফোন কানেক্টিভিটি আর ধাপে ধাপে নেভিগেশন।
রাইড মোড আছে তিনটি, ইকো, রাইড এ আর রাইড বি, রিভার্স মোডও বোনাস।
স্কুটারটা মেড ইন ইন্ডিয়া। দেশের বাজার ছাড়িয়ে রপ্তানিও হবে। ফলে উৎপাদন লাইন আরও বড় হবে, কর্মসংস্থানও বাড়বে।
ওয়ারেন্টি, অফার আর প্রতিযোগিতা
সবচেয়ে বড় নিশ্চয়তা, ৭ বছর বা ৮০,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বর্ধিত ওয়ারেন্টি ফ্রি। তিন বছর পর স্কুটার ফেরত দিলে ৬০ শতাংশ বাইব্যাক গ্যারান্টি।
পুরনো সুজুকি গ্রাহকদের এক্সচেঞ্জে ছাড় ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত, অন্যরা পাবেন ৭,০০০ টাকা পর্যন্ত।
বাজারে এর পাল্লা দিতে হবে অ্যাথার ৪৫০, টিভিএস আইকিউব আর ওলা এস১-র মতো নামী ই-স্কুটারদের সঙ্গে। দাম একটু বেশি, রেঞ্জও প্রত্যাশার চেয়ে কম, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। তবে ব্র্যান্ডের ভরসা আর পরিচিত অ্যাক্সেসের আরামই বড় অস্ত্র। চিন্তার কিছু নেই।
সম্পূর্ণ স্পেসিফিকেশন আর দামের তালিকা দেখে নিতে পারেন সুজুকি মোটরসাইকেল ইন্ডিয়ার দাপ্তরিক ওয়েবসাইটে। পছন্দ হলে কাছের ডিলারশিপে গিয়ে টেস্ট রাইড করে দেখে নিন। খরচও নেই।
উপসংহার
শহরের ভিড়ে রোজকার যাতায়াতের জন্য বিশ্বস্ত ব্র্যান্ডের ইলেকট্রিক স্কুটার খুঁজলে ই-অ্যাক্সেস দারুণ এক অপশন।
মনে রাখবেন, লম্বা পথের পরিকল্পনায় ৯৫ কিলোমিটার একটু কমই পড়তে পারে। হিসেবটা নিজের দৈনিক যাতায়াতের দূরত্ব ধরে কষে দেখুন।
আরও পড়ুন: মারুতি সুজুকি ই-ভিটারা ২০২৬: দাম, রেঞ্জ, ফিচার। আরেকটা দরকারি পড়া, ২০২৬ সালে ভারতের সেরা ৫ ইলেকট্রিক গাড়ি। কোনটা আগে পড়বেন, সেটা আপনার পছন্দ।








