ভ্রমণপিপাসুদের জন্য বড় খবর। কারণ, কলকাতা থেকে চীনের ফ্লাইট এবার আরও সহজলভ্য। বেসরকারি সংস্থা ইন্ডিগো কলকাতা-গুয়াংঝো রুটে সরাসরি ননস্টপ উড়ান চালাচ্ছে। আর ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ভারতে ফেরা শুরু করেছে চায়না সাউদার্নও। জেনে নিন কী কী বদলেছে। আসুন দেখি।
আগে চীনে যেতে দিল্লি, ব্যাংকক বা সিঙ্গাপুরে বিরতি নিতে হতো। লাগেজ তুলে আবার চেক-ইন, সিকিউরিটি, সব মিলিয়ে অনেক সময় খরচ হতো। ঝামেলা নেই। সত্যি কথা, দুটি রুটেই ননস্টপ পরিষেবা পেলে যাত্রার খাটুনি অর্ধেক। শুধু পাসপোর্ট আর ভিসার ব্যবস্থা করে রাখলেই চলবে।
কলকাতা থেকে চীনের ফ্লাইট কোন কোন রুটে?
- গুয়াংঝো: ইন্ডিগোর ননস্টপ ফ্লাইট, প্রতিদিন পরিষেবা।
- সাংহাই: একই সংস্থার সরাসরি উড়ান, ২৯ মার্চ থেকে চালু।
- দিল্লি-গুয়াংঝো: চায়না সাউদার্নের প্রতিদিনের ফ্লাইট, ২১ সেপ্টেম্বর থেকে।

গুয়াংঝো দক্ষিণ চীনের বড় বাণিজ্যিক শহর। সেখানে চীন মেলা, কারখানা, আর পাইকারি বাজার মিলিয়ে ব্যবসায়ীদের আনাগোনা সবসময়। কলকাতা থেকে সোজা উড়ান মানে ব্যবসায়িক ভ্রমণকারীদের জন্য বড় স্বস্তি। কয়েক ঘণ্টার যাত্রায় দিন বাঁচে।
গুয়াংঝো শহর আর সেখানকার বিমানবন্দর সম্পর্কে জানতে উইকিপিডিয়া পাতা দেখুন। সাংহাইয়ের কথাও ভুললে চলবে না। এই শহরে ইন্ডিগোর ননস্টপ ফ্লাইট মিলছে প্রতিদিন। যাত্রা শুরু ২৯ মার্চ থেকে। খুঁটিনাটি আগের লেখায়।
কবে থেকে চালু? সময়সূচি কী কী?
গুয়াংঝো রুটে ইন্ডিগোর উড়ান নিয়মিত চালু আছে। এই পরিষেবা আগেও ছিল, পরে বন্ধ হয়ে আবার শুরু হয়েছে। সাংহাই রুটটি ২৯ মার্চ ২০২৬ থেকে প্রতিদিন চলছে। সেই খবরটাই বড়।
চায়না সাউদার্ন আবার ভারতে ফিরেছে ২১ সেপ্টেম্বর থেকে। দিল্লি থেকে গুয়াংঝো রুটে প্রতিদিন উড়ান। করোনার সময় ২০২০ সালে এই রুট বন্ধ হয়েছিল। ছয় বছর পরে ফের স্বাভাবিক যাতায়াত। আর কী বলবেন! সেপ্টেম্বরে চীন-ভারত রুটের আসন সংখ্যাও আগের মাসের চেয়ে ১৮.৮ শতাংশ বেড়েছে। খুব ভালো খবর।
ভাড়া কত? টিকিট কিনবেন কোথায়?
ভাড়া নির্ভর করে বুকিংয়ের সময়ের উপর। ছুটির মরসুমে দাম বাড়ে, আগে বুকিং করলে কমে। ইন্ডিগোর ফ্লাইটে টিকিট পাওয়া যায় সংস্থার অ্যাপ আর ওয়েবসাইটে। চায়না সাউদার্নের ক্ষেত্রেও নিজস্ব চ্যানেল আছে। কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ছাড়ে এই ফ্লাইটগুলো। ব্যাপারটা সোজা।
সপ্তাহভর ভাড়ার তুলনা করে দেখুন। ব্যবসায়িক যাত্রীদের জন্য সপ্তাহের মাঝামাঝি দিনে ভাড়া তুলনামূলক কম থাকে। ছুটির দিনে বাড়ে, হিসাব কষে বুকিং করলে লাভ। মনে আছে তো, পুজোর আগে ফ্লাইটের টিকিট কত চড়া হয়ে যায়?
কী কী নথি লাগবে?
বিদেশ যাওয়ার আগে পাসপোর্টের বৈধতা দেখে নিন। অন্তত ছয় মাসের মেয়াদ থাকা দরকার। সঙ্গে চীনের ভিসা লাগবে। অনেকের ধারণা, টিকিট হলেই হল। কিন্তু ভিসা ছাড়া বিমানবন্দরেই আটকে পড়বেন। এটা মনে রাখুন।
যাওয়ার আগে ফেরার টিকিট আর থাকার জায়গার ঠিকানা হাতে রাখুন। ইমিগ্রেশন পরীক্ষায় এগুলো চেয়ে থাকে। ভিসার নিয়ম মাঝেমধ্যে বদলায়। যাত্রার আগে দূতাবাসের ওয়েবসাইটে নিয়ম মিলিয়ে নেওয়া ভালো। কথাটা আলাদা নয়।
উপসংহার
কলকাতা থেকে চীনে যাওয়ার রাস্তা এবার অনেক ছোট। গুয়াংঝো, সাংহাই দুটি শহরেই সরাসরি উড়ান। আরও সংস্থা ফিরে আসায় রুটে প্রতিযোগিতা বাড়ছে। আশা করা যায়, ভাড়াও সহনশীল থাকবে যাত্রীদের জন্য।
আরও পড়ুন: কলকাতা থেকে সাংহাই সরাসরি ফ্লাইট, পুজোর ফ্লাইট ভাড়ার হিসাব।








