পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অন্যতম জনপ্রিয় প্রকল্প রূপশ্রী প্রকল্প। আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারের মেয়েদের বিয়ের সময় এককালীন ২৫,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা দেয় এই প্রকল্প। আপনি কি জানেন, ২০১৮ সালের ১ এপ্রিল থেকে চালু এই প্রকল্পের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত লক্ষ লক্ষ মেয়ে উপকৃত হয়েছে?
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই রূপশ্রী প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গের মেয়েদের জীবনে এক নতুন দিশা এনেছে। প্রতিবছর হাজার হাজার পরিবার এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিয়ের খরচের একটা বড় অংশ পেয়ে থাকেন। ২০২৬ সালেও এই প্রকল্প চালু রয়েছে এবং নতুন করে আবেদন করা যাচ্ছে। চলুন, জেনে নেওয়া যাক কীভাবে এই প্রকল্পের সুবিধা নেওয়া যায়।
রূপশ্রী প্রকল্প কী?
রূপশ্রী প্রকল্প হল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি আর্থিক সহায়তা প্রকল্প। এর মূল উদ্দেশ্য হল আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারের কন্যার বিবাহের সময় আর্থিক বোঝা কমানো। এই প্রকল্পের অধীনে যোগ্য আবেদনকারীদের এককালীন ২৫,০০০ টাকা দেওয়া হয়। টাকাটি সরাসরি আবেদনকারীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়া হয়।
এই প্রকল্প শুধু বিয়ের খরচই কমায় না, মেয়েদের আত্মমর্যাদাও বাড়ায়। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এই উদ্যোগ কন্যা সন্তানের শিক্ষা ও বিবাহ উভয় ক্ষেত্রেই সহায়ক ভূমিকা নিচ্ছে। প্রকল্পটির আওতায় আসতে পারেন ১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সী বিবাহযোগ্য মেয়েরা।
রূপশ্রী প্রকল্পের যোগ্যতা কী কী?
কে আবেদন করতে পারবেন?
রূপশ্রী প্রকল্পে আবেদনের জন্য কিছু নির্দিষ্ট যোগ্যতার শর্ত রয়েছে। প্রথমত, আবেদনকারীকে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। দ্বিতীয়ত, আবেদনকারীর বয়স ন্যূনতম ১৮ বছর হতে হবে এবং সর্বোচ্চ ৪০ বছর। তৃতীয়ত, আবেদনকারীর পরিবারের বার্ষিক আয় ১ লক্ষ টাকার কম হতে হবে।
এছাড়াও আবেদনকারীকে অবিবাহিত হতে হবে এবং আবেদনের সময় বিয়ের তারিখ নির্ধারিত থাকতে হবে। প্রকল্পটি শুধুমাত্র প্রথম বিয়ের জন্যই প্রযোজ্য। স্কুল-কলেজের ছাত্রীরাও এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে পারেন যদি তাঁদের বিয়ের পরিকল্পনা থাকে।
প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট ও আবেদন পদ্ধতি
কী কী কাগজপত্র লাগবে?
- আবেদনকারীর আধার কার্ড (আধার লিঙ্ক করা মোবাইল নম্বর)
- পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা হওয়ার প্রমাণ (ভোটার কার্ড বা রেশন কার্ড)
- পরিবারের বার্ষিক আয়ের শংসাপত্র
- আবেদনকারীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ (আধার লিঙ্ক করা)
- বিয়ের আমন্ত্রণপত্র বা বিয়ের তারিখের প্রমাণ
- আয় শংসাপত্র (গ্রাম পঞ্চায়েত বা পুরসভা থেকে ইস্যু করা)
- পাসপোর্ট সাইজের ছবি

কীভাবে আবেদন করবেন?
রূপশ্রী প্রকল্পে আবেদনের প্রক্রিয়া খুবই সহজ। আবেদনকারীকে নিকটবর্তী গ্রাম পঞ্চায়েত বা পুরসভা অফিসে যোগাযোগ করতে হবে। সেখান থেকে রূপশ্রী প্রকল্পের ফর্ম সংগ্রহ করে সমস্ত প্রয়োজনীয় তথ্য ও ডকুমেন্ট সহ জমা দিতে হবে। ফর্ম জমা দেওয়ার পর কর্তৃপক্ষ সমস্ত নথি যাচাই করে আবেদন অনুমোদন করে।
অনুমোদনের পর ২৫,০০০ টাকা সরাসরি আবেদনকারীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হয়। সাধারণত আবেদন করার ৩০ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে টাকা অ্যাকাউন্টে এসে যায়। আবেদনের সময় অবশ্যই ভুল তথ্য দেওয়া যাবে না। কোনো ভুল তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে এবং ভবিষ্যতেও আবেদনের সুযোগ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
২০২৬ সালে রূপশ্রী প্রকল্পে কিছু নতুন নিয়ম যোগ করা হয়েছে। এখন ফর্মে আবেদনকারীর আধার সংখ্যা ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ বাধ্যতামূলকভাবে দিতে হবে। পুরনো নিয়মে কিছু শিথিলতা ছিল, কিন্তু নতুন নিয়মে সব তথ্য যাচাই করা হয়। প্রকল্পের সুবিধা নিতে চাইলে অবশ্যই আধার কার্ড ও আয় শংসাপত্র তৈরি করে রাখুন।
আরও পড়ুন: বাংলার যুব সাথী প্রকল্প সম্পর্কে জানুন। সরকারি এই প্রকল্পে বেকার যুবক-যুবতীরা মাসিক ভাতা পাচ্ছেন।
উপসংহার
রূপশ্রী প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গের মেয়েদের জন্য এক মহৎ উদ্যোগ। ২৫,০০০ টাকার এই আর্থিক সহায়তা অনেক পরিবারের জন্য বড় ভরসা। আপনি যদি পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা হন এবং আপনার পরিবারের বার্ষিক আয় ১ লক্ষ টাকার কম হয়, তাহলে এই প্রকল্পের জন্য অবশ্যই আবেদন করুন। আপনার পরিচিত কেউ যদি এই প্রকল্পের সুবিধা নিতে পারেন, তাহলে তাঁদেরও জানান। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা নেওয়া আমাদের প্রত্যেকের অধিকার।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী জন ধন যোজনা সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিনামূল্যে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন।








