লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের নাম এখন ইতিহাস। জুন থেকে সেই জায়গা নিয়েছে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার। শুধু নাম বদলায়নি, টাকাও বেড়েছে দুগুণের বেশি। মাসে তিন হাজার টাকা সোজা অ্যাকাউন্টে।
কিন্তু প্রশ্ন ঘুরেফিরে একটাই। টাকা ঢুকবে কবে? আগস্টের কিস্তি অনেকের অ্যাকাউন্টে ঢুকে গেছে, অনেকের এখনও অপেক্ষা। সত্যি কথা, নাম বাদ পড়ার শঙ্কাও কম নয়। কার অ্যাকাউন্টে কবে টাকা আসবে, স্ট্যাটাস কীভাবে দেখবেন আর কোথায় আবেদন করতে হবে, সব খুঁটিনাটি এই লেখাতেই।
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে কত টাকা মেলে?
একবারে বলে দিই। আর হারে হারে নয়। প্রত্যেক যোগ্য মহিলা পাবেন মাসে ৩০০০ টাকা। বছরে হিসেবটা দাঁড়ায় ৩৬০০০ টাকা। আগে সাধারণ বিভাগে ১০০০ আর এসসি-এসটি বিভাগে ১২০০ টাকা মেলত। সেই ফারাক ঘুচে গেছে। সবার জন্য এক হার। টাকা আসে ডিবিটি পদ্ধতিতে, আধার-লিংকড ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। মাঝখানে কেউ নেই।
| প্রকল্প | মাসিক সহায়তা |
|---|---|
| লক্ষ্মীর ভাণ্ডার (আগে) | ১০০০ / ১২০০ টাকা |
| অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার (এখন) | ৩০০০ টাকা |

টাকা ঢোকার সময়টা কবে?
এবার আসল প্রশ্নে ফিরি। হিসেবটা গুছিয়ে বলি। প্রথম কিস্তি গেছে ৩ জুন। দ্বিতীয়টা ১ জুলাই। আর তৃতীয় কিস্তির টাকা ১৭ আগস্ট থেকে ছড়িয়ে পড়ছে লাখো অ্যাকাউন্টে। রাজ্যের হিসেব বলছে, আগস্টের টাকা ৩০ তারিখের মধ্যে সবার হাতে পৌঁছোবে। এরপর থেকে নিয়ম সোজা। প্রতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহেই কিস্তি ঢোকবে।
পূজার মরশুমও ঘুরে আসছে। হাতে ৩০০০ টাকা পৌঁছনোর সময়টা তাই মোটেই খারাপ নয়। বাজারের হিসেবটা একটু সয়ে যাবে।
নিজের স্ট্যাটাস চেক করবেন যেভাবে
ঘরে বসেই কাজ হয়ে যাবে। নতুন ঠিকানা সোশ্যাল রেজিস্ট্রির সরকারি পোর্টাল। ঢুকে জেলার নাম আর মোবাইল নম্বর দিন। ওটিপি এলে ভেরিফাই করুন। ব্যস। আবেদনের অবস্থা আর কিস্তির পুরো হিসেব চোখের সামনে। পুরোনো সোশ্যাল সিকিউরিটি পোর্টালটাও চালু আছে, তবে সেটা এখন শুধু পুরোনো রেকর্ডের জন্য।
- ব্রাউজারে সোশ্যাল রেজিস্ট্রির সরকারি পোর্টালটা খুলুন – socialregistry.wb.gov.in
- জেলা আর আবেদনের সময়ের মোবাইল নম্বর দিন
- আসা ওটিপি বসিয়ে লগ ইন করুন
- ড্যাশবোর্ডে আবেদনের অবস্থা আর কিস্তির হিসেব দেখুন
স্ট্যাটাসে যা যা দেখতে পারেন। অনুমোদিত লেখা থাকলে টাকার পথ খোলা। চূড়ান্ত প্রক্রিয়াধীন থাকলে ফাইল বিডিও বা এসডিও অফিসে আটকে আছে। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বাতিল জাতীয় নোটিশ দেখলে আগে শাখা সামলান। টাকা মেলেনি লেখা থাকলে পোর্টালেই অভিযোগ করে দিন।
যোগ্যতা কার, কার নয়?
সবাই পাবেন, এমন কথা নয়। শর্ত আছে, নতুন কিছু বাধাও এসেছে। এক নজরে দেখুন।
- আবেদনকারী মহিলা হতে হবে, বয়স ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে
- পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে
- আয়কর দেন এমন বা সরকারি চাকরি-পেনশনভোগী পরিবারের বাইরে হতে হবে
- সরকারি সাহায্য পাওয়া স্কুলের কর্মীরা এবার ছাড়
আগের স্বাস্থ্য সঙ্গীর শর্তটা আর মানতে হবে না, নিয়ম বদলেছে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন তালিকায় চলে এসেছে। তবে এসআইআর-এ নাম কাটা পড়া থাকলে ঝামেলা হতে পারে। নিজের নামটা একবার মিলিয়ে নিন, এবারই বুঝবেন নাম আছে কি নেই। নতুন আবেদনের সুযোগ ছিল ২৭ মে থেকে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত। মিস হয়ে গেলে বিডিও অফিস বা দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে যেন খোঁজ নেন। পুরো নিয়মকানুন পেয়ে যাবেন আমাদের অন্নপূর্ণা যোজনার বিস্তারিত লেখায়।
কাগজপত্র আর আটকে যাওয়া টাকার হিসেব
ক্যাম্পে গেলে সঙ্গে রাখুন আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, বাড়ির বসবাসের প্রমাণ, নিজের নামের ব্যাঙ্ক পাসবুক আর ছবি। টাকা আটকায় বড় কারণ তথ্যের গরমিল। আধার আর ব্যাঙ্কের নাম না মেলা, নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্ট, নামের বানানে অমিল। আর কী করবেন?
প্রথমে শাখায় গিয়ে আধার লিংক মিলিয়ে নিন। অ্যাকাউন্ট থেমে থাকলে সামান্য জমা দিয়ে চালু করুন। তবুও সমাধান না মেলে পোর্টালে অভিযোগ করুন।
আরও পড়ুন: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নানা প্রকল্পের হালনাগাদ খবর পেতে পড়ুন জন কল্যাণ শিবির নিয়ে আমাদের বিস্তারিত লেখা।
উপসংহার
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা এবার মাসে ৩০০০ টাকা। আগস্টের কিস্তি ৩০ তারিখের মধ্যে সবার অ্যাকাউন্টে ঢোকার কথা। এরপর প্রতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ। স্ট্যাটাস একবার ঘেঁটে নিন, তথ্যে গরমিল থাকলে দেরি না করে ঠিক করে ফেলুন। পূজার আনন্দ যেন টাকার চিন্তায় ম্লান না হয়। কথাটা সহজ।








