আপনি কি জানেন, বর্তমানে ভারতের মাত্র ২০% কর্মীর অবসরকালীন পেনশনের ব্যবস্থা আছে? বাকি ৮০% মানুষের অবসরের পর আয়ের কোনো নির্দিষ্ট উৎস থাকে না। এই সমস্যার সমাধান নিয়েই এসেছে ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেম (NPS)। সরকারি ও বেসরকারি, সবার জন্যই এটি একটি চমৎকার পেনশন প্রকল্প।
আপনি যদি চান অবসরের পরেও আপনার মাসিক আয় বজায় থাকুক, তাহলে NPS হতে পারে আপনার জন্য সেরা অপশন। এখানে আপনি চাইলে মাত্র ৫০০ টাকা দিয়েও অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন! শুনলে অবাক হবেন, এই স্কিমে বিনিয়োগ করলে ট্যাক্স ছাড়-ও পাওয়া যায়। চলুন, বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেম (NPS) কী?
ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেম বা NPS হল ভারত সরকারের একটি voluntary retirement savings scheme। এটি পেনশন ফান্ড রেগুলেটরি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (PFRDA)-র অধীনে পরিচালিত হয়। এই স্কিমের মাধ্যমে আপনি আপনার কর্মজীবনে নিয়মিত কিছু টাকা জমা করে অবসরের পর মাসিক পেনশন পেতে পারেন।
সবচেয়ে বড় কথা, NPS-এ আপনি নিজেই নির্ধারণ করতে পারেন কত টাকা জমা দেবেন এবং কোন ফান্ডে বিনিয়োগ করবেন। আপনার বিনিয়োগ ইকুইটি, কর্পোরেট বন্ড, সরকারি সিকিউরিটিজ, এই তিনটি শ্রেণীতে বিনিয়োগ করা হয়। আপনি আপনার ঝুঁকি ক্ষমতা অনুযায়ী বিনিয়োগের মিশ্রণ নিজেই ঠিক করতে পারেন।
NPS-এর প্রধান বৈশিষ্ট্য
- ন্যূনতম বিনিয়োগ: টিয়ার I অ্যাকাউন্টে বছরে মাত্র ৫০০ টাকা
- ট্যাক্স বেনিফিট: সেকশন ৮০সি ও ৮০সিসিডি(১বি)-তে কর ছাড়
- নমনীয়তা: নিজের ইচ্ছামতো বিনিয়োগের পরিমাণ ও ফান্ড বেছে নেওয়া
- স্বচ্ছতা: সম্পূর্ণ অনলাইন ব্যবস্থাপনা ও নিয়মিত আপডেট
- পোর্টেবল: চাকরি পরিবর্তন করলেও অ্যাকাউন্ট সক্রিয় থাকে
NPS অ্যাকাউন্ট খোলার পদ্ধতি ২০২৬
NPS অ্যাকাউন্ট খোলা খুবই সহজ। আপনি চাইলে অনলাইনে বা ব্যাঙ্কে গিয়েও অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। অনলাইনে অ্যাকাউন্ট খুলতে enps.nsdl.com ওয়েবসাইটে যান। আপনার আধার কার্ড, প্যান কার্ড ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট প্রয়োজন হবে।
অনলাইন আবেদনের জন্য প্রথমে eNPS পোর্টালে রেজিস্টার করুন। আপনার মোবাইল নম্বর ও ইমেল আইডি ভেরিফাই করান। এরপর KYC সম্পূর্ণ করুন, আধার OTP দিয়েই KYC হয়ে যায়। শেষে একটি PRAN (Permanent Retirement Account Number) পেয়ে যাবেন। পুরো প্রক্রিয়াটি ১০-১৫ মিনিটের মধ্যে শেষ করা সম্ভব।
প্রয়োজনীয় নথি
- আধার কার্ড (KYC-র জন্য)
- প্যান কার্ড
- পাসপোর্ট সাইজ ফটো
- ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বিবরণ
- মোবাইল নম্বর (আধারের সাথে লিঙ্কযুক্ত)
- ইমেল আইডি
NPS টিয়ার I ও টিয়ার II অ্যাকাউন্টের পার্থক্য
NPS-এ দুই ধরনের অ্যাকাউন্ট রয়েছে, টিয়ার I এবং টিয়ার II। টিয়ার I হল পেনশন অ্যাকাউন্ট, যেখানে জমা করা টাকা ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত তোলা যায় না। এটি ট্যাক্স বেনিফিটের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয়। অন্যদিকে টিয়ার II হল একটি voluntary savings account, যেখান থেকে যেকোনো সময় টাকা তোলা যায়। তবে টিয়ার II-তে কোনো ট্যাক্স বেনিফিট নেই।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যারা দীর্ঘমেয়াদী পেনশনের জন্য বিনিয়োগ করতে চান, তাদের জন্য টিয়ার I অ্যাকাউন্ট সবচেয়ে ভালো। অন্যদিকে যারা স্বল্পমেয়াদী সঞ্চয়ের জন্য সুযোগ খুঁজছেন, তারা টিয়ার II অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। তবে মনে রাখবেন, টিয়ার I-তে ন্যূনতম বার্ষিক বিনিয়োগ মাত্র ৫০০ টাকা, যা খুবই সাশ্রয়ী।
উপসংহার
অবসর জীবন নিয়ে চিন্তিত? তাহলে আজ থেকেই ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেম (NPS)-এ বিনিয়োগ শুরু করুন। অল্প বয়সে শুরু করলে মাসিক বিনিয়োগের পরিমাণও কম থাকে। আর যত তাড়াতাড়ি শুরু করবেন, তত বেশি সময় আপনার টাকা বেড়ে উঠবে। ট্যাক্স সেভিং আর ভবিষ্যতের নিরাপত্তা — দুই-ই একসাথে পাবেন NPS-এ।
আপনি কি ইতিমধ্যেই NPS অ্যাকাউন্ট খুলেছেন? আপনার অভিজ্ঞতা কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আরও পড়ুন: আটাল পেনশন যোজনা ২০২৬: অবসরের পর মাসিক পেনশন পাওয়ার সহজ উপায়।








