শ্বেতী রোগ কোন লজ্জা নয়, উপযুক্ত চিকিৎসায় আসতে পারে মুক্তি (White Disease & Its Treatment)

0

শ্বেতী রোগ (White disease)

 

শ্বেতী রোগ (White disease), যা শুনলেই আমাদের চোখের সামনে আসে কোন লোকের শরীরে দাগ দাগ। অর্থাৎ চামড়ার উপর সাদা। সাধারণত শরীরের বিশেষ কোনো জায়গার চামড়ার বা স্কিন এর রং উৎপাদনকারী কোষ বা মেলানোসাইট রোগাক্রান্ত হলে বা সংখ্যায় কমে গেলে অথবা মরে গেলে মেলানিন নামক চামড়ার বা স্কিন এর  রং তৈরি বন্ধ হয়ে যায় এবং ওই নির্দিষ্ট স্থানে সাদা দাগ পড়ে। শ্বেতী রোগের ইংরেজি শব্দ Albinism এসেছে ল্যাটিন Albus থেকে যার অর্থ হল শ্বেত বা সাদা। শ্বেতী বংশগত ভাবেও হতে পারে। জিনের পরিবর্তনের ফলেই এই রোগ হয়।

যে কোন বয়সী নারী কিংবা পুরুষ শ্বেতী রোগে আক্রান্ত হতে পারে। সাধারণত শরীরের যেসব অঙ্গ আবরণমুক্ত থাকে যেমন হাত, পা, মুখমণ্ডল এবং ঠোঁট ইত্যাদি অংশে শ্বেতী বেশি দেখা যায়। শ্বেতীরোগে সাধারণত শরীরের নির্দিষ্ট কিছু অংশে সাদা বর্ণের দাগ দেখা যায়।

 

শ্বেতী রোগের লক্ষণ (Symptoms of white disease)

 

White Disease

(ক) ত্বকের উপর সাদা দাগ পড়লে (খ) অল্প বয়সে মাথার চুল, চোখের পাপড়ি, ভ্রু, দাড়ি সাদা বা ধূসর হলে (গ) মুখের ভিতরের কলাগুলো বর্ণহীন হলে (Mucous membranes) (ঘ) চোখের ভিতরের অংশ রংহীন হলে অথবা রংয়ের পরিবর্তন হলে (ঙ) মুখমণ্ডল, বাহু, হাত বা পায়ের চামড়া বিবর্ণ হয়ে যাওয়া (অধিক প্রচলিত) (চ) শরীরে সাদা বা হালকা ফুস্কুরি দেখা দেয়া, (ছ) শরীরের অন্যান্য অংশ যেমন: বগল, কুচকি, যৌনাঙ্গ বা পায়ুপথ ইত্যাদির চামড়া বিবর্ণ হয়ে যাওয়া (জ) মুখগহবর ও নাকের ভেতরে বিবর্ণ রঙের কোষ দেখা যাওয়া, (ঝ) চুল, ভ্র, চোখের পাপড়ি বা মুখের লোম সাদা হয়ে আসা,

 

শ্বেতী কি ছোয়াচে রোগ (white disease Infectious Diseases) –

শ্বেতী কোনো ছোয়াচে রোগ না বা এই রোগ কোনো প্রাণঘাতীও না। বিজ্ঞানীরা এই রোগের কারণ এখনও জানতে পারেননি। বিশ্বে ১০ কোটি মানুষ বর্তমানে এ রোগে আক্রান্ত।

 

শ্বেতী হলে করণীয় (Should be done when white Diseases)

 

 

White Disease symptoms

শ্বেতী রোগ হলে যে সব কাজ করতে হবে-(ক) দুধ, ছানা, মাখন, স্নেহজাতীয়, ফলের রস ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাদ্য বেশি বেশি খাবেন। (খ) কোষ্ঠকাঠিন্য দোষ থাকলে দূর করতে হবে। (গ) পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকা ভালো।

শ্বেতী রোগ কিভাবে হতে পারে? (How can white disease be?)

শ্বেতী রোগ সাধারণত তিনভাবে হতে পারে- (ক) শরীরের অল্প কিছু অংশে (খ) যে কোন একদিকে (বাম অথবা ডান দিকে) (গ) শরীরের অধিকাংশ জায়গায়

 

 শ্বেতী রোগের প্রকারভেদ: (Types of white disease)

সাধারণত দুই ধরণের শ্বেতী দেখা যায়-(ক) এ ধরণের শ্বেতী শরীরের যেকোনো একপাশের হাত, পা বা মুখ আক্রান্ত হয়। অল্প বয়সেই রোগের লক্ষণ দেখা দেয়। (খ) এ ধরণের শ্বেতী পুরো শরীরেই ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণত এই ধরণের শ্বেতী বেশি দেখা যায়। প্রথমে এটি হাত, পা বা মুখের সামান্য অংশে ছোট ছোট সাদা দাগ হিসেবে দেখা দেয় এবং ক্রমে এগুলো একত্রিত হয়ে বড় আকার ধারন করে এবং সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে

শ্বেতী কেন হয়? (Why is white disease)

 

এখনো পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা শ্বেতীর সঠিক কারণ বের করতে পারেনি। তবে নিম্নোক্ত কারণে শ্বেতী হতে পারে, যেমন-

(ক) বংশগত কারণে, (খ) কেউ কেউ জন্মগতভাবে এই রোগে আক্রান্ত হয়, (গ) শরীরে মেলানিন উৎপাদনকারী কোষ ধ্বংসকারী পদার্থ তৈরী হওয়া, (ঘ) অত্যাধিক মানসিক অবসাদ, (ঙ) নির্দিষ্ট কিছু রাসায়নিক পদার্থ যেমন মনোইথাইলিন বেনজিন ইত্যাদির কারণেও শ্বেতী হতে পারে।

 

শ্বেতী রোগের চিকিৎসা (Treatment of White Disease)

 

White Disease Look

শ্বেতী রোগ হলে প্রথমে চিকিৎসকের পরামশ্য নিতে হবে। অনেকে বাজার থেকে কিনে মলম ব্যবহার করি তা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ঔষধ ব্যবহার করতে হবে। অনেকে চিকিৎসকের কাছে যেতে লজ্জা পায় বা শ্বেতী রোগের কথা কাউকে জানাতে লজ্জা পায়। শ্বেতী রোগ না লুকিয়ে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। অনেক শ্বেতী মলম বা ওষুধে সেরে যেতে পারে। ডাক্তার নির্দেশিত অন্যান্য ঔষধ প্রতিনিয়ত মালিশ করতে হবে শ্বেতী-আক্রান্ত স্থানে। ওষুধে কাজ হতে প্রায় ৬ মাস এমনকি দেড় থেকে ২ বছরও লাগতে পারেবা তারও বেশি।

শ্বেতী রোগে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। শ্বেতী রোগের চিকিৎসায় সাধারণত নিম্নলিখিত পদ্ধতিগুলো ব্যবহৃত হয়ে থাকে-

(১) প্রসাধনী: বিভিন্ন ধরণের কসমেটিক ব্যবহার করে কিছুক্ষণের জন্য আক্রান্ত অংশ ঢেকে রাখা,
(২) ওষুধ: (ক) বিভিন্ন ধরণের স্টেরয়েড জাতীয় মলম, (খ) মুখে খাবার স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ, রিভোফ্লবিন ইত্যাদি,
(৩) অতিবেগুনী রশ্মির( UV A বা UV B) নিয়ন্ত্রিত প্রয়োগের মাধ্যমেও আক্রান্ত অংশের বিবর্ণ রঙ ফিরিয়ে আনা সম্ভব,
(৪) লেজার: অন্যান্য চিকিৎসা যেমন: ওষুধ ইত্যাদির সঙ্গে বা এককভাবে বিভিন্ন লেজার থেরাপি যেমন: ফটোডাইনামিক থেরাপি প্রয়োগেও সুফল পাওয়া যেতে পারে,
(৫) সার্জারি: উপরিউক্ত পদ্ধতিগুলোর প্রয়োগে আশানুরূপ ফল পাওয়া না গেলে বিভিন্ন ধরণের কসমেটিক সার্জারির যেমন: এপিডার্মাল গ্রাফটিং, মেলানোসাইট ট্রান্সপ্লান্টেশন ইত্যাদির সাহায্য নেয়া যেতে পারে।

শ্বেতী রোগ হলে যে সকল ঔষধ ব্যবহার করা হয়-বিভিন্ন মাত্রার করটিকো স্টেরয়েড জাতীয় মলম, কেলসিপট্রিন মলম, টেক্রলিমাস অথবা পাইমেক্রলিমাস মলম, মুখে খাবার স্টেরয়েড (প্রেডনিসলন) ট্যাবলেট, রিভফ্লাভিন ট্যাবলেট ইত্যাদি, ক্লোভেট, মেলাডিনিন, ভিটামিন বি জাতীয় খাদ্য, ছোলা বুট

 

শ্বেতী রোগ দিবস (White Disease Day)

বিশ্ব ভিটিলিগো দিবস বা শ্বেতী রোগ দিবস হিসাবে ২৬ জুনকে পালন করা হয়। প্রয়াত পপ সম্রাট মাইকেল জ্যাকসনও এ রোগে আক্রান্ত ছিলেন, এবং তার প্রয়াণ দিবসে এই দিবসের নাম করণ করা হয়েছে।

আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
মন্তব্য
Loading...