সময়ের সাথে হাত মিলিয়ে

Advertisement

মোনালিসার রহস্য, লিওনার্দো দা ভিঞ্চির “মোনালিসা”র কিছু রহস্য এবং না জানা কিছু তথ্য

0

মোনালিসার রহস্য

বং দুনিয়া ওয়েব ডেস্কঃ লিওনার্দো দা ভিঞ্চির অসাধারন সৃষ্টি মোনা লিসা । মোনালিসার রহস্য নিয়ে আজও মানুষের মনে হাজারও প্রশ্ন ।মোনালিসা (ভুলভাবে মোনালিসা) (ইংরেজি:Mona Lisa (ইতালীয়:La Gioconda বা ফরাসী: La Joconde, বা Portrait of Lisa Gherardini, wife of Francesco del Giocondo)একটি বিশ্বখ্যাত চিত্রকর্ম। ইতালীর শিল্পী লিওনার্দো দা ভিঞ্চি ১৬ শতকে এই ছবিটি অঙ্কন করেন।  অনেক শিল্প-গবেষক রহস্যময় হাসির এই নারীকে ফ্লোরেন্টাইনের বণিক ফ্রান্সিসকো দ্য গিওকন্ডোর স্ত্রী লিসা গেরাদিনি বলে সনাক্ত করেছেন। শিল্পকর্মটি ফ্রান্সের ল্যুভ জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। ল্যুভ জাদুঘরের তথ্যমতে প্রায় ৮০% পর্যটক শুধু মোনালিসার চিত্র টি দেখার জন্য আসে।

লিওনার্দো দা ভিঞ্চি এমন একজন ব্যাক্তি ছিলেন, যিনি বিজ্ঞান বা সাহিত্যের এমন কোন শাখা নেই যেখানে তিনি তার প্রতিভা দেখান নি । তাঁর শিল্পকর্মগুলি ছিল অসাধারণ রহস্য পরিপূর্ণ ।তাঁর একটি অসাধারন সৃষ্টি “মোনালিসা” ছবিটি । এখনও মানুষের কাছে “মোনালিসা” রহস্যময় ।

“মোনালিসা” ছবির সম্পর্কিত তথ্যঃ   মোনালিসা নামটির  সাথে সাথে  মনে অনেক রকমের প্রশ্ন  এসে  যায় । সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন হয়,  আলাদা আলাদা অ্যাঙ্গেল থেকে দেখলে মোনালিসার হাসি পরিবর্তন হতে থাকে ।  কিছু কিছু ঐতিহাসিকদের মতে মোনালিসার এই ছবিটির মধ্যে বিশাল রহস্য লুকিয়ে রয়েছে । যেমন ধরুন পাঁচশো বছরেও মানুষ কেন দেখতে পাইনি মোনালিসার ছবির মধ্যে এলিয়েনের ছবি লুকিয়ে রয়েছে ?  “মোনালিসা” আসলে ছেলের না মেয়ের ছবি ? এই ধরনের অনেক প্রশ্নের উত্তর আজও খুজে চলেছে মানুষ ।

 উল্লেখ্য  “মোনালিসা”র এই ছবিটি কোন কাগজ বা কাপড়ের উপর আঁকা হয়নি । লিওনার্দো দা ভিঞ্চি ১৫০৩ থেকে ১৫০৬ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যবর্তী কোনো এক সময়ে একটি পাইন কাঠের টুকরোর ওপর মোনা লিসার এই ছবিটি আঁকেন। চিত্রকলার ইতিহাসে এই চিত্রকর্মটির মতো আর কোনটি এত আলোচিত ও বিখ্যাত হয়নি। এই ছবিটি আঁকা হয়েছে কাঠের তিনটি তক্তার উপর । এই চিত্রটি ১৫০৩ সাল থেকে ১৫০৬ সালের মধ্যে আঁকা হয়েছিল । আসলে এই ছবিটির নাম Monalisa নয়, এটি বানানে ভুল ছিল । ছবিতির অরজিনাল নাম হল “Mona Lisa”  ইটালিয়ান ভাষায় এই শব্দটির অর্থ হল “Mona Lisa = My Lady” । 

মোনালিসা ছবিটি ছিল লিওনার্দো দা ভিঞ্চি-র সব থেকে প্রিয় ছবি । এই কারনে লিওনার্দো দা ভিঞ্চি যখনই যেখানে যেতেন, সাথে করে এই ছবিটি নিয়ে যেতেন ।  তিনি যখন এই ছবিটি আঁকতে শুরু করেন তখন তার বয়স ছিল ৫১ বছর ।১৭৫৭  সালে মোনালিসা ছবিটি লুভারস মিউজিয়ামে খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল । কিন্তু কেউ জানে না যে কিভাবে এই ছবিটি লুভারস মিউজিয়ামে এসে পৌঁছলো । ১৯১১ সালের ২১ শে আগস্ট  মোনালিসার এই ছবিটি লুভারস মিউজিয়াম থেকে আবার চুরি হয়ে যায় । কিন্তু দশ বছর পর আবার সেই ছবিটি খুঁজে পাওয়া যায় । ১৯৫১ সালে এক ব্যক্তি এই ছবিটিতে পাথর ছুড়ে মারেন । যার ফলে চিত্রটিতে মোনালিসার বাম হাতের কনুই এ একটি  দাগ লেগে যায় ।

মোনালিসার ছবি রাখা আছে বর্তমানে ফ্রান্সের ল্যুভ মিউজিয়ামে ।এই ছবিটি রাখার জন্য ফ্রান্সের ল্যুভ মিউজিয়ামে একটি বিশেষ কক্ষ তৈরি করা হয়েছে । কক্ষটিতে  তাপমাত্রা এমন ভাবে নিয়ন্ত্রন করে রাখা হয়েছে,  যাতে মোনালিসার ছবিটি খারাপ না হয়ে যায় । এই কক্ষটি বানাতে মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষের প্রায়  50 কোটি টাকা খরচ করা হয় । মোনা লিসার ছবিটি একটি বুলেট পুরুপ কাঁচের ভিতরে রাখা রয়েছে । ১৪ই ডিসেম্বর, ১৯৬২ সালে মোনালিসা ছবিটির বাজার মুল্য ছিল ১০০ মিলিয়ন ডলার । বর্তমানে এই ছবিটির দাম ৭৯০ মিলিয়ন ডলার ।

মোনালিসার সৃষ্টির রহস্য বা মোনালিসার রহস্যঃ মোনালিসা ছবিটির পিছনে লুকিয়ে আছে অনেক প্রশ্ন ।এটা কার ছবি ছিল সে নিয়ে রয়েছে নানা মত বিরোধ । লিওনার্দো দা ভিঞ্চি কখনই বলেন নি যে, এই ছবিটি কার ছবি ? তাঁর নিজের লেখা কোন গ্রন্থেও মোনা লিসা সম্পর্কে কিছুই উল্লেখ নেই । যার কারনে, মোনা লিসা ছবিটিতে যে মহিলার ছবি রয়েছে, “কে সেই মহিলা” নিয়ে তৈরি হয়েছে “ধোঁয়াশা” । 

অনেকে বলেছেন লিওনার্দো দা ভিঞ্চি এই ছবিটি বানানোর সময় মাদার মেরির কথা চিন্তা করছিলেন । আবার অনেকের মতে লিওনার্দো দা ভিঞ্চি তার এই ছবিটিতে নিজেকে মহিলা রূপে দেখিয়েছেন ।  কিন্তু এগুলোর মধ্যে কোনটি সঠিক,  তা এখনো পর্যন্ত জানা যায়নি । লিওনার্দো দা ভিঞ্চির এক বন্ধু তাকে একটি চিঠি লিখেছিলেন, যেটি  খুঁজে পাওয়া যায় ২০০৫ সালে । সেই চিঠি অনুযায়ী সেটি লেখা হয়েছিল ১৫০৩ সালের অক্টোবর মাসে । তখন লিওনার্দো দা ভিঞ্চি তাঁর বন্ধু জিয়া কণ্ড-এর একটি ছবির উপরে কাজ করছিলেন । জিয়া কণ্ডের স্ত্রীর নাম ছিল লিসা জিয়া কণ্ড । বন্ধু জিয়া কণ্ড তাঁর নতুন সন্তানের জন্ম এবং নতুন বাড়ি করার খুশিতে তার স্ত্রীর একটি চিত্র আঁকতে বলেছিলেন বন্ধু ভিঞ্চিকে । এই চিঠির উপর ভিত্তি করে বলা যায়, লিওনার্দো দা ভিঞ্চি   সেসময় মোনালিসার ছবিটির উপরে কাজ করছিলেন । কিন্তু এই কথাটা জোর গলায় বলা যায় না যে, লিওনার্দো দা ভিঞ্চির আঁকা “মোনালিসা” ছবিটি সেই লিসা জিয়া কণ্ডের ।কারন বিজ্ঞানীরা অনেক বিশ্লেষণ করে বলেছেন যে,  লিওনার্দো দা ভিঞ্চির মোনালিসা  লিসার হাব ভাব ছবির সাথে একেবারেই বেমানান । 

২০০৫  সালে এক বৈজ্ঞানিক, যার নাম পাস্কেল কটেল, ছবিতটিকে ইসপেক্ট্রোলাইট  টেকনোলজিতে হাই ইন্সেন্সিটিভ লাই ট এবং মাল্টি লেন্সের সাহায্যে চিত্রটির  আলাদা আলাদা করে ছবি তুলেন । এবং এর থেকে তিনি যে তথ্য সংগ্রহ করেন টা সমগ্র বিশ্বকে হতবাক করে দেয় । পরীক্ষায় পাওয়া যায় যে রং দিয়ে মোনা লিসার ছবিটি আঁকা হয়েছিল তার স্তর  চল্লিশ মাইক্রোমিটার ছিল । যার  মানে হল একটি সরু চুলের থেকেও পাতলা  এবং এই চিত্রটির মধ্যে আরও তিনটি চিত্র লুকিয়ে রয়েছে।( মোনালিসার রহস্য)

মোনা লিসা ছবিটির মধ্যে আরও এক রহস্য রয়েছে । আলাদা আলাদা অ্যাঙ্গেল থেকে দেখলে এই ছবিটির মধ্যে থাকা হাসিটি পরিবর্তন হতে থাকে । স্যান্ডেলাইট  ইউনিভার্সিটি তাদের সদস্য নিয়ে একবার মোনালিসা চিত্র টিকে সার্ভে করেছিলেন । সার্ভে করে তাঁরা দেখেছিলেন, মোনা লিসার ছবিটিকে দূর থেকে দেখলে মনে হচ্ছে সে হাসছে ।  কিন্তু কাছ থেকে দেখলে মনে হয় যেন তার ঠোট গুলো একটু বাঁকা হয়ে রয়েছে ।  যার ফলে মনে হয় মোনালিসা চিন্তায় মগ্ন হয়ে আছে । 

মোনালিসার রহস্য

লিওনার্দো দা ভিঞ্চি এই চিত্রটি আঁকার সময় কিছু কৌশল ব্যবহার করেন । যাতে কোন আউটলাইন থাকে না । আর যদি কোন আউটলাইন থাকে তাহলেও তাকে রঙ দিয়ে চাপা দিয়ে দেন তিনি । আজ পর্যন্ত কোন মানুষ এত ভালোভাবে এই আউটলাইন এর ব্যবহার করতে পারেনি,  যেমনটা দা ভিন্সি খুবই সুন্দর ভাবেই চিত্রটির মধ্যে ব্যবহার করেছিলেন । তবে মোনালিসার হাসি বদলে যাওয়ার এটাই শুধু কারণ নয় । আসল কারণটি লুকিয়ে রয়েছে মোনালিসার চোখে । আমরা যখন মোনালিসার চোখের দিকে তাকাই তখন তা  হাসিখুশি ব্যক্তির চোখের মতন মনে হয় । কিন্তু যখনই তার ঠোঁটের দিকে তাকাই সেই হাসি যেন অদৃশ্য হয়ে যায় । 

মোনালিসার এই ছবিটির মধ্যে একটি গোপন বার্তাও লুকিয়ে রয়েছে ।  লিওনার্দো দা ভিঞ্চি  ভালভাবেই জানতেন কিভাবে চিত্রের মধ্যে একটি গোপন বার্তা লুকিয়ে রাখা যায় । (মোনালিসার রহস্য)

মোনালিসার রহস্য

মোনা লিসার  ডান হাতের কাছে গোপন একটি বার্তা দেওয়া আছে ।যখন আলট্রা লাইট  পদ্ধতিতে এই ছবিটির বিভিন্ন অংশকে ভালোভাবে দেখা হচ্ছিল তখন এটিকে খুঁজে পাওয়া যায় এবং এই অক্ষরগুলোর পরপর সাজালে দেখা যায় তৈরি হচ্ছে একটি সেন্টেন্স । যা হল “La Risposta Si  Trova Qui”  । এটি ইটালিয়ান ভাষায় লেখা হয়েছিল । এর মানে হল, The Answer Is Here । 

লিওনার্দো দা ভিঞ্চির মোনা লিসার মধ্যে যে সমস্ত রহস্য লুকিয়ে ছিল, দিন যেতে যেতে ক্রমশই উদ্ধার হতে থাকলো । কারণ আমরা সেই জায়গার সন্ধান খুঁজে পেয়েছিলাম যেখানে চিত্রের রহস্য লুকিয়ে ছিল । কিন্তু বিগত সময়ে অনেকেই এই রহস্য খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছিল,  কিন্তু কেউ সফল হয়নি। 

মোনালিসার রহস্য

সম্প্রতি জনপ্রিয় ওয়েবসাইট প্যারানরমাল কুশ ওয়েব দাবি করেন মোনা লিসার ছবিটিতে এলিয়েন লুকিয়ে রয়েছে । শুনতে অবাক লাগলেও ব্যাপারটি একটু ভাববার বিষয় । কারণ যখন আমরা মোনা লিসার ছবিটিকে তাঁর রোটেট  করা ছবির সাথে একসাথে মিলিয়ে দেখি তখন দেখা যাচ্ছে চিত্র দুটির মাঝ খানে একটি এলিয়ানের চিত্র তৈরি হয়েছে ।  তাই বলা যায় লিওনার্দো দা ভিঞ্চির অন্যান্য আবিস্কারের ন্যায় মোনা লিসা  ছবিটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং রহস্যময় । 

মন্তব্য
Loading...