কৃষক পরিবারগুলোর জন্য সুখবর। কারণ, কেন্দ্রীয় সরকার PM কিষান স্কিম ২০৩০-৩১ সাল পর্যন্ত চালু রাখার অনুমোদন দিয়েছে। পাঁচ বছরে খরচ হবে ৩.১৫ লাখ কোটি টাকা।
PM কিষান স্কিমের টাকায় নির্ভর করে লক্ষ লক্ষ চাষি পরিবারের রোজগার। তাই ঘোষণার খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্বস্তির নিঃশ্বাস পড়েছে গ্রাম বাংলায়। টাকা কবে পাবেন, নতুন করে কারা আবেদন করতে পারবেন, জেনে নিন খুঁটিনাটি। আর কী বলবেন!
PM কিষান স্কিম বাড়ানোর ঘোষণা এল কীভাবে?
৩১ জুলাই ২০২৬ তারিখে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়। এতদিন প্রকল্পটার মেয়াদ ছিল ২০২৫-২৬ সাল পর্যন্ত, নতুন সিদ্ধান্তে সেটা বেড়ে দাঁড়াল ২০৩০-৩১ সাল। খরচের পুরো টাকাটাই আসবে কেন্দ্রের তরফ থেকে।
সিদ্ধান্তের কাগজপত্র চোখে দেখতে চাইলে দাপ্তরিক বিজ্ঞপ্তি পাতাটি খুলে দেখতে পারেন। অঙ্কটা এতই বড়। চোখে লাগে! সত্যি কথা।

২৩তম কিস্তি কীভাবে এল বাংলায়?
২০ জুন ২০২৬ তারিখে হুগলি জেলার তারকেশ্বর থেকে চালু হল ২৩তম কিস্তি। মঞ্চটাই বাংলায়!
বাংলার মাটি থেকে উৎক্ষেপণ, দেশজুড়ে তার প্রতিধ্বনি। আর এই কিস্তিতে দেশের ৯.৪৯ কোটির বেশি কৃষকের অ্যাকাউন্টে গিয়েছে ১৮ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা। সেই তালিকায় পশ্চিমবঙ্গের চাষিরাও ছিলেন। হিসাবটা কারও কারও চোখে খুব স্বস্তির।
কিস্তি কত টাকা? ২৪তম কিস্তি কবে আসবে?
প্রতি বছর মোট ৬ হাজার টাকা পান কৃষক। সেই টাকা আসে তিন কিস্তিতে, একেক কিস্তিতে ২ হাজার টাকা করে। এবার ২৪তমের পালা।
২৪তম কিস্তি অক্টোবর মাসে আসতে পারে, এমন চর্চাই এখন বেশি। সঠিক তারিখ ঘোষণা হলে খবরটা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়বে। তার আগে নিজের ব্যাংক হিসাব আর মোবাইল নম্বর ঝরঝরে রাখুন। সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে বিস্তারিত জানতে পড়ুন এই লেখাটি।
কিস্তি এল কি না, খতিয়ে দেখা যায় PM কিষানের দাপ্তরিক ওয়েবসাইট থেকে। আধার তালিকায় নাম আছে কি না, তাও সেখানে মেলে। সাইটটা খুললেই কিস্তির তাজা খবর চোখে পড়ে।
এই স্কিমে কারা আবেদন করতে পারবেন?
যেসব চাষি পরিবারের মোট জমি ২ হেক্টর পর্যন্ত, তারাই মূলত এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন। ছোট আর প্রান্তিক চাষিদের জন্যই এই ব্যবস্থা, জমির মালিকানা আর চাষের কাজে যুক্ত থাকা চাই।
তবে কেউ কেউ এই তালিকায় পড়েন না। সরকারি চাকরিজীবী, আয়কর দেন এমন কৃষক, চার চাকার গাড়ির মালিক। এঁদের সাধারণত টাকা মেলে না।
কিস্তির টাকা পেতে কী কী করতে হবে?
তালিকায় থাকলে নতুন করে কিছু করতে হয় না। প্রতি কিস্তির টাকা সরাসরি ব্যাংক হিসাবে চলে যায়। আধার কার্ডের সিডিং ঠিক থাকা চাই। ব্যাংক হিসাব সচল থাকলেই হলো।
আর নতুন চাষি? PM কিষান পোর্টাল বা নিকটবর্তী সেবা কেন্দ্র থেকে ফর্ম জমা দিতে হবে। সঙ্গে রাখুন জমির দলিল, ব্যাংক পাসবুক, আধার কার্ড, মোবাইল নম্বর, নথিপত্র গুছিয়ে রাখুন।
কাজটা যত সহজ শোনায়, ফর্মের হেরফেরে অনেক সময় গোল বাঁধে। তাই আগে থেকেই নিজের নাম তালিকায় আছে কি না, মিলিয়ে নেওয়া ভালো, কথাটা মাথায় রাখুন।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা ২০২৬: প্রিমিয়াম, ক্ষতিপূরণ ও আবেদন পদ্ধতি
উপসংহার
মেয়াদ বাড়ল মানে শুধু কাগজে তারিখ বদল নয়, কৃষকের ঘরে বছরের পর বছর ভরসা। ২০৩০-৩১ পর্যন্ত প্রকল্পটি থাকলে চাষের পরিকল্পনা নিশ্চিন্তে করা যাবে। কিস্তির তারিখ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে খবরটা পৌঁছে যাবে সবার কাছে। সময়ই বলবে।








