চাষিদের জন্য বড় খবর, কারণ PM কিষান সম্মান নিধির টাকা পেতে এবার PM কিষান eKYC বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই নিয়মটা না মানলে পরের কিস্তির ২ হাজার টাকা আটকে যেতে পারে।
কার টাকা আটকাবে, eKYC কীভাবে সারবেন, স্ট্যাটাস কোথায় দেখবেন, সব খুঁটিনাটি এক জায়গায় সাজিয়ে দেওয়া হলো। আগে একটা কথা। সরকারের দাপ্তরিক ওয়েবসাইটেই রয়েছে পুরো নিয়ম, তবু সহজ ভাষায় বুঝিয়ে বলাই ভালো।
PM কিষান কিস্তি পেতে eKYC কেন জরুরি?
PM কিষান সম্মান নিধিতে প্রতি বছর মোট ৬ হাজার টাকা মেলে, সেটা তিন কিস্তিতে ভাগ হয়ে আসে। একেক কিস্তিতে ২ হাজার টাকা করে। গত ২০ জুন ২০২৬ তারিখে হুগলির তারকেশ্বর থেকে ২৩তম কিস্তি চালু হয়েছে, দেশের ৯.৪৯ কোটির বেশি কৃষকের অ্যাকাউন্টে গিয়েছে টাকা। এবারের নির্দেশ স্পষ্ট, eKYC ছাড়া পরের কিস্তি কারও ব্যাঙ্কে পৌঁছবে না।
কার কার টাকা আটকে থাকতে পারে?
সব চাষির টাকা কিন্তু আটকাবে না। দাপ্তরিক ওয়েবসাইটের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সাময়িকভাবে আটকানো হয়েছে দুই ধরনের ক্ষেত্রে। এক, ১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯-এর পরে যাঁরা জমির মালিকানা পেয়েছেন। দুই, একই পরিবারের দুজন যখন সুবিধা নিচ্ছেন, স্বামী-স্ত্রী দুজনেই যেমন। এঁদের টাকা শারীরিক যাচাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত মিলবে না।
এ ছাড়া কিছু নির্দিষ্ট গোত্রের মানুষ চিরকালের জন্যই বাদ তালিকা থেকে। যেমন,
- সরকারি চাকরিজীবী, চতুর্থ শ্রেণি বা গ্রুপ ডি ছাড়া
- মাসে ১০ হাজার টাকার বেশি পেনশন পান এমন পেনশনার
- গত বছর আয়কর দিয়েছেন এমন কৃষক
- নিবন্ধিত ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, উকিল, হিসাবরক্ষক, স্থপতি
জমি ২ হেক্টর পর্যন্ত এমন ছোট আর প্রান্তিক চাষিদের জন্যই এই প্রকল্প। সন্দেহ থাকলে দাপ্তরিক ওয়েবসাইটের নিয়মাবলি চোখে দেখে নেওয়াই ভালো। কথাটা আলাদা।
PM কিষান eKYC কীভাবে করবেন?
মনে আছে তো, আধার আর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সংযোগটা? eKYC আসলে সেখান থেকেই শুরু। PM কিষান মোবাইল অ্যাপে লগইন করে ওটিপি দিয়ে যাচাই সেরে ফেলতে পারেন। খুবই সহজ।
অ্যাপে সুবিধা না পেলে কাছের কমন সার্ভিস সেন্টারে গেলেই কাজ হয়ে যায়, আঙুলের ছাপ দিয়ে সেখানেই eKYC হয়।
নাম, ঠিকানা, ব্যাঙ্কের খুঁটিনাটি মিলিয়ে রাখলে পরে ঝামেলা কম। এই জায়গাটাই আসল। রাজ্যের অনুমোদিত লগইন দিয়েও একই কাজ চলে। ব্যস, এতটুকু করলেই কিস্তির পথ মসৃণ।
কিস্তির টাকা এসেছে কি না, কীভাবে দেখবেন?
ঘরে বসেই। PM কিষানের দাপ্তরিক ওয়েবসাইটে ঢুকে বেনেফিশিয়ারি স্ট্যাটাসের পাতায় আধার নম্বর বা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের নম্বর দিন। নাম তালিকায় আছে কিনা, তা বোঝা যাবে।
টাকা না এলে চিন্তায় পড়বেন না। আগে দেখুন, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার সঠিকভাবে যুক্ত আছে কিনা, নিজের ব্যাঙ্ক হিসাব আর মোবাইল নম্বর ঝরঝরে রাখলে কিস্তি ঠিকঠাক পৌঁছয়।
২৪তম কিস্তি কবে আসতে পারে?
এবার আসল কথায় আসি। ২৩তম কিস্তি চালু হয়েছে ২০ জুন ২০২৬ তারিখে, তাই পরের কিস্তির স্বাভাবিক সময় অক্টোবর-নভেম্বর। চর্চা বলছে, ২৪তম কিস্তি অক্টোবরেই আসতে পারে, সরকার সঠিক দিন ঘোষণা করলেই খবরটা ছড়িয়ে পড়বে। প্রকল্পের পটভূমি জানতে চাইলে উইকিপিডিয়া পাতা দেখে নিতে পারেন।
তার আগে eKYC আর নথির খুঁটিনাটি গুছিয়ে রাখুন, ২৪তম কিস্তির সম্ভাব্য তারিখের খবর ধরে রাখতে পারেন এই লেখায়। টাকা আটকে গেলে ভাবনার কিছু নেই, প্রথমে স্ট্যাটাস দেখুন, পরে ব্যাঙ্ক আর আধারের যোগাযোগ মিলিয়ে নিন।
আরও পড়ুন: অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা না এলে কী করবেন, ৭ কারণ আর সমাধান
PM কিষান eKYC এখন কিস্তির চাবিকাঠি। নিয়ম মেনে, সময়মতো যাচাই সেরে রাখলে ২ হাজার টাকার কিস্তি ঠিকই ব্যাঙ্কে পৌঁছবে। নিশ্চিন্ত থাকুন।








