দুপুর ১টা ১০ নাগাদ সারা বঙ্গে চোখ ছিল একটাই জায়গায়, ডিয়ার লটারির ড্র বোর্ডে। ২৫ আগস্টের তিনটে ড্র ঘুরে গেছে আজ। ফল এসেছে, নম্বর বেরিয়েছে। আর সেই নম্বরের ভেতরেই লুকিয়ে আছে ১ কোটি টাকার মালিকের ঠিকানা।
ভাবুন তো, মাত্র ৬ টাকার টিকিট কোটি টাকায় বদলে দিতে পারে। সত্যি কথা। নাগাল্যান্ড রাজ্য লটারির এই ডিয়ার ড্র বেজে যায় দিনে তিনবার। আজকের নামগুলো ধরুন, দুপুরের ড্র শাইন টিউজডে, সন্ধ্যার প্রেস্টিজ টিউজডে, রাতের ডেস্টিনি টিউজডে। মঙ্গলবার মানেই এই তিন নাম। টিকিট কিনেছেন যাঁরা, এবার আসল কথায় আসি। নম্বর মিলিয়ে নেওয়ার আগে পুরো তালিকাটা চোখ বুলিয়ে নিন।
আজকের তিন ড্রয়ের ফল একনজরে
নম্বরগুলো একেবারে হাতের মুঠোয়। দুপুর ১টার ড্রে প্রথম পুরস্কার গেছে 86E 81547 নম্বরের টিকিটে। সন্ধ্যা ৬টার ড্রয়ে সেই ভাগ্যবান নম্বর 80J 34514। আর রাত ৮টার ডেস্টিনি টিউজডে ড্রয়ে ১ কোটি গেছে 64J 33486 কাছে। তিনটে নম্বরই মিলিয়ে দেখুন, টিকিট কোনটা হাতে আছে সেটা। আগের পোস্টে ড্রয়ের নাম আর টাকা তোলার ধাপ নিয়ে লিখেছিলাম, ওটাও দরকারে লাগবে।

| সময় | ড্রয়ের নাম | প্রথম পুরস্কার |
|---|---|---|
| দুপুর ১টা | শাইন টিউজডে | 86E 81547 |
| সন্ধ্যা ৬টা | প্রেস্টিজ টিউজডে | 80J 34514 |
| রাত ৮টা | ডেস্টিনি টিউজডে | 64J 33486 |
চোখ কুঁচকে মিলিয়ে নিন। এক অঙ্কের ফারাকও মানে ঢের টাকা। ভাগ্যের খেলা। হুঁশই আসল।
পুরস্কারের হিসাবটা কত?
প্রথম পুরস্কার মানেই ১ কোটি টাকা, একটাই টিকিটে। তার সঙ্গে চলে সংশ্লিষ্ট পুরস্কারের ভাগ, একই শেষ চার অঙ্কের অন্য সিরিজের টিকিটও পাঁচ হাজার টাকা পায়। দ্বিতীয় পুরস্কার ৯০০০ টাকা করে, দশটে নম্বরের জন্য। তৃতীয়, চতুর্থ আর পঞ্চম ধাপে টাকা ছড়িয়ে যায় ৪৫০, ২৫০ আর ১২০ টাকায়। মিলিয়ে দেখুন, ছোট নম্বরেও কিছু টাকা তো আসছেই।
- প্রথম পুরস্কার: ১ কোটি টাকা
- সংশ্লিষ্ট পুরস্কার: ৫০০০ টাকা
- দ্বিতীয় পুরস্কার: ৯০০০ টাকা
- তৃতীয় পুরস্কার: ৪৫০ টাকা
- চতুর্থ পুরস্কার: ২৫০ টাকা
- পঞ্চম পুরস্কার: ১২০ টাকা
মনে আছে তো, টাকার কথা আসার আগে কাগজ দেখানোর কথা? সেটাই পরের ধাপে।
টাকা তুলবেন যেভাবে
নম্বর মিলে গেলে প্রথম কাজ, টিকিটটা যত্নে তুলে রাখা। ছেঁড়া, ভেজা বা ফটা টিকিট মানেই ঝামেলা। ছোট্ট কাগজ। বড় সম্পদ। ভারতীয় রাজ্য লটারির নিয়মে দাবি জানাতে হয় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে, সাধারণত ৩০ দিন হাতে থাকে। আগের দিনের লেখাটা বলছে, ৬ টাকার টিকিটে ১ কোটির হিসাবটা কেমন কাজ করে।
- টিকিটের নম্বর আর সিরিজ আজকের ফলের সঙ্গে মিলিয়ে নিন।
- পেছনের দিকে নিজের নাম, ঠিকানা আর ফোন নম্বর লিখে ফেলুন।
- দুটো পাসপোর্ট সাইজের ছবি আর বৈধ পরিচয়পত্রের কপি গুছিয়ে রাখুন।
- নির্ধারিত অফিস বা ব্যাংকে দাবিপত্র জমা দিন, টিকিটের মূল কপি সহ।
- জমা দেওয়ার রসিদটা টাকা হাতে পাওয়া পর্যন্ত যত্নে রাখুন।
একটা কথা বারবার মনে করিয়ে দিই, কাউকে টিকিট হাতে দিবেন না। এজেন্টকে বিশ্বাস করা যায়, তবে কাগজ নিজের হাতেই থাকুক। বড় অঙ্কের টাকায় সতর্কতাই আসল পুঁজি।
আগামী ড্র আর ছোট্ট মন্ত্র
কাল বুধবার আবার একই নিয়ম, দুপুরে স্পার্ক ওয়েনেসডে, সন্ধ্যায় রিগাল ওয়েনেসডে, রাতে ড্রিম ওয়েনেসডে। সময় একই, দুপুর ১টা, সন্ধ্যা ৬টা, রাত ৮টা। একই রুটিন। হ্যাঁ, ফল বসে যায় ঠিক দশ মিনিট পরে, সাড়ে একটায়, সাড়ে ছয়টায়, সাড়ে আটটায়। পুজোর মৌসুম ঘিরে টিকিটের হাড়গোলাম চাহিদা দেখা যায়, তাই আগেভাগে কিনে ফেলাই শিরায়।








