অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে কি না, আজই ঘরে বসে দেখে নিন। খুব সহজ নিয়ম। তৃতীয় কিস্তির সময়ও এগিয়ে আসছে, তাই ওঠার আগেই নিজের হিসেবটা মিলিয়ে নেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ।
মনে আছে তো, গত ৩ জুন প্রথম কিস্তির টাকা এসেছিল। সেদিন ২৮,২৫,৭৬৯ জন মহিলার অ্যাকাউন্টে ৩,০০০ টাকা করে জমা হয়েছিল। তারপর ১ জুলাই দ্বিতীয় কিস্তি, সেটা পৌঁছেছে প্রায় ১ কোটি মানুষের হাতে। স্বাভাবিকভাবেই সবার মনে প্রশ্ন ওঠা শুরু করেছে, আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বরের টাকা তাহলে কবে?
অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকেছে কি না, চেক করার নিয়ম
এবার কাজে ফিরি। রাজ্যের সোশ্যাল রেজিস্ট্রি পোর্টালে ঢুকুন। সেখানে জেলা, মোবাইল নম্বর দিয়ে ওটিপি যাচাই করলেই নিজের হিসেব খুলে যাবে, আবেদনের আইডি হাতে থাকলে ট্র্যাক অ্যাপ্লিক্যান্ট স্টেটাসেও দেখা যায় কিস্তি প্রসেসে আছে, নাকি অ্যাকাউন্টে ঢুকে গেছে।

মজার ব্যাপার, পোর্টাল ছাড়াও সরাসরি একটা উপায় আছে। আধার-লিঙ্কড অ্যাকাউন্টে ডিবিটির টাকা ঢুকলে ব্যাঙ্ক থেকে এসএমএস আসে, মেসেজ বক্সে খোঁজ করলেই শেষ কিস্তির ইতিহাস মিলে যাবে। যাঁদের পাসবুক আপডেটের অভ্যেস আছে, তাঁদের উপায় আলাদা। শাখাতেই হবে, অন্য কোথাও নয়।
৩,০০০ টাকার হিসেব, নাম বদলের গল্প
টাকার কথা এলে হিসেবটা আগে জেনে নিন। মাসে পাওয়া যায় ৩,০০০ টাকা। বছরে হিসেব দাঁড়ায় তখন ৩৬,০০০ টাকা। টাকাটা ঢোকে আধার-লিঙ্কড ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টেই। এজেন্টের দরকার নেই।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| স্কিমের নাম | অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার (আগে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার) |
| মাসিক সহায়তা | সবার জন্য ৩,০০০ টাকা |
| প্রথম কিস্তি | ৩ জুন, ২৮,২৫,৭৬৯ জন সুবিধাভোগী |
| দ্বিতীয় কিস্তি | ১ জুলাই, প্রায় ১ কোটি সুবিধাভোগী |
| স্টেটাস চেক | সোশ্যাল রেজিস্ট্রি পোর্টাল, ওটিপি যাচাই |
| হেল্পলাইন | ১৮০০ ৩৪৫ ৬৭৮৯ |
নাম পাল্টেছে, শর্তেও বদল এসেছে। আয়কর দেন এমন মহিলা, সরকারি চাকরিজীবী কিংবা পেনশনভোগী পরিবারের সদস্যরা এখন আর এই সুবিধার আওতায় আসেন না। বয়সসীমা ২৫ থেকে ৬০ বছর।
আর যাঁদের নাম ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় বাদ পড়ে গিয়েছিল, তাঁদের জন্য জেলা অফিস কিংবা বিডিও অফিসে আবেদন জমা রাখার রাস্তা খোলা আছে। পুরোনো লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধাভোগীদের বড় অংশ এমনিতেই নতুন তালিকায় ঢুকে গেছেন।
টাকা আসেনি? এই কাজগুলো আজই করুন
- অ্যাকাউন্ট আধার-লিঙ্কড কি না দেখে নিন, ডিবিটির জন্য এটাই সবচেয়ে বড় শর্ত।
- নমিনি ঠিক আছে কি না মিলিয়ে নিন, শাখায় গেলেই করা যায়।
- আবেদনের আইডি সাবধানে সাঁজোয়ে রাখুন, স্টেটাস দেখতে বারবার লাগবে।
- হেল্পলাইন ১৮০০ ৩৪৫ ৬৭৮৯ নম্বরে ফোন করুন, কথা বলার সময় আধার হাতের কাছে রাখুন।
- কোনও এজেন্টকে টাকা দিয়ে স্টেটাস চেক করাবেন না, পোর্টালই যথেষ্ট।
সত্যি কথা। টাকা আটকে যাওয়ার পেছনে বেশিরভাগ সময় দায়ী ছোট ছোট ভুল। আধার লিঙ্ক না থাকা, নমিনির তথ্যে গরমিল, কিংবা মোবাইল নম্বর বদলে যাওয়া। এগুলো ঠিক করতে একটু ধৈর্য চাই, ধীরে ধীরে করলেই হয়।
সমাপ্তি
লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের জায়গা এখন অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নিয়েছে, আর তৃতীয় কিস্তির অপেক্ষায় রাজ্যের মহিলারা। আজই পোর্টালে ঢুকে নিজের স্টেটাস মিলিয়ে নিন, তাহলে টাকা ঢোকার দিন কোনও অবাক খবর নয়, নিশ্চিন্তে সামনে রাখা একটা কাজ।
আরও পড়ুন:
- অন্নপূর্ণা যোজনা ২০২৬: মাসিক ৩,০০০ টাকা পাবেন কীভাবে? যোগ্যতা ও নিয়ম
- জন কল্যাণ শিবির ২০২৬: ১৫-১৭ জুন পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে সরকারি প্রকল্পের মেলা








