বড় খবর। পুজোর ঠিক আগে বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ এবার শক্তি বাড়াতে শুরু করেছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, সামনের কয়েকদিন দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টির দাপট থাকবে।
আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নিম্নচাপটি প্রথমে ডিপ্রেশন, তারপর গভীর নিম্নচাপে রূপ নিতে পারে। ২৩ সেপ্টেম্বর নাগাদ তা দক্ষিণ ওড়িশা আর উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছতে পারে। ফলে বাংলায় বৃষ্টি বাড়ার সম্ভাবনাই বেশি। জেনে নিন।
বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের বর্তমান অবস্থা কোথায়?
বিশেষ বুলেটিনে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর, পশ্চিম-মধ্য ও সংলগ্ন পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরের ওপর সুস্পষ্ট নিম্নচাপ অঞ্চলটি তৈরি। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সেটি প্রথমে ডিপ্রেশন, পরে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা।

কোন কোন জেলায় ভারী বৃষ্টি হবে?
এই নিম্নচাপের প্রভাবে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে পশ্চিমবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়বে। আর উপকূলবর্তী জেলাগুলিতেই দাপট বেশি। কোথায় বৃষ্টি হবে? আগামী কয়েকদিনের খবর রাখুন চোখে।
২২ সেপ্টেম্বর উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর আর পশ্চিম মেদিনীপুরে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা, ২৩ সেপ্টেম্বরও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর আর ঝাড়গ্রামের কিছু অংশে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ আর ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া।
২৪ সেপ্টেম্বর ভারী বৃষ্টি পৌঁছতে পারে বীরভূম আর মুর্শিদাবাদের কিছু জায়গায়ও। সেদিন ঝোড়ো হাওয়ার গতি ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে। ২৫ সেপ্টেম্বরেও কয়েকটি জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
কলকাতায় কী অবস্থা হবে?
শুধু জেলা নয়, কলকাতাতেও প্রভাব পড়তে পারে। আগামী কয়েকদিন শহরের আকাশ মেঘে থাকবে বলেই IMD-র পূর্বাভাস। মাঝে মাঝে বৃষ্টি নামবে, কোথাও বজ্রবিদ্যুৎও। মেঘলা দিন।
বৃষ্টির জেরে শহরের নিচু এলাকায় জল জমার আশঙ্কা আছে। তাই বেরোনোর আগে আকাশটা একবার দেখে নিন। সাবধানে থাকুন।
উত্তরবঙ্গে ঝুঁকি কতটুকু?
দক্ষিণবঙ্গের সঙ্গে উত্তরবঙ্গেও বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার আর কোচবিহারে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। পাহাড়ি এলাকায় ধস নামার আশঙ্কা। তাই সাবধান।
উত্তরের দিকে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে পাহাড়ি রাস্তা আর নদনদীর জলস্তর নিয়ে আগে থেকেই খোঁজ নিয়ে নেওয়া ভালো।
মৎস্যজীবীদের জন্য সতর্কবার্তা
নিম্নচাপের কারণে বঙ্গোপসাগর উত্তাল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে দফতর।
তবে এই মুহূর্তে ঘূর্ণিঝড়ের কোনও পূর্বাভাস নেই। নিম্নচাপটি কতটা শক্তি পাবে, কোন পথে এগোবেই বা? তার উপরই বাংলায় বৃষ্টির তীব্রতা অনেকটা নির্ভর করছে।
এমন পরিস্থিতিতে কী কী মাথায় রাখবেন?
আবহাওয়ার এমন খবর এবার প্রথম নয়। মনে আছে তো? গতবারও নিম্নচাপের জেরে বাংলার একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টি হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা আর এই বারের পূর্বাভাস মিলিয়ে ছাতা হাতে রাখাই শ্রেয়।
গতবারের নিম্নচাপের কারণে পশ্চিমবঙ্গে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা কেমন ছিল, সেটা পড়ে নিতে পারেন, আর বর্ষাকালে গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের ১০টি টিপস জেনে রাখলে রাস্তাঘাটে সমস্যায় পড়তে হবে না।
সরকারি আপডেট আর দাপ্তরিক বিজ্ঞপ্তি? IMD-র দাপ্তরিক ওয়েবসাইটে দেখে নিন।
উপসংহার
সংক্ষেপে বললে, বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপ ঘনিয়ে এলে বাংলার আকাশ থিতু হবে না আরও কয়েকদিন। দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা, সঙ্গে দমকা হাওয়া। আবহাওয়া দফতরের পরামর্শ মেনে চললে ঝুঁকিটা অনেকটাই কমে যাবে। খবর রাখুন।







