৭ অক্টোবর আসতে আর মাত্র ১১ দিন। তারিখটা টলিউডপ্রেমীদের ক্যালেন্ডারে গোল দাগ দেওয়ার মতো। কারণ ওই দিন জন্মেছিলেন অনির্বাণ ভট্টাচার্য। ১৯৮৬ সালের মেদিনীপুর শহরে।
জন্মদিনের আগে তাঁর গল্পটা বলে নেওয়া যাক, মঞ্চ থেকে সিনেমা, পরিচালনার চেয়ার, গান। সব মিলিয়ে যে পথটা তিনি পেরিয়েছেন, পড়লে অবাক হতে হয়। সত্যি কথা।
| জন্ম তারিখ | ৭ অক্টোবর ১৯৮৬ |
| জন্মস্থান | মেদিনীপুর, পশ্চিমবঙ্গ |
| পেশা | অভিনেতা, পরিচালক, গায়ক, নাট্যকার |
| শিক্ষা | রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, নাট্যতত্ত্বে স্নাতকোত্তর |
| স্ত্রী | মধুরিমা গোস্বামী (২০২০) |
| উল্লেখযোগ্য কাজ | ইগলের চোখ, ভিঞ্চি দা, গুমনামি, দশম অবতার, বল্লভপুরের রূপকথা |
| পুরস্কার | ফিল্মফেয়ার ইস্ট, সেরা বাংলা সম্মান, মঞ্চের সেরা অভিনেতা |
| সামাজিক মাধ্যম | ইনস্টাগ্রাম, উইকিপিডিয়া |
থিয়েটার থেকে বড় পর্দা: শুরুটা যেখানে
মেদিনীপুরের স্কুলপড়ুয়া থেকে কলকাতার পথটা ছোট নয়। ২০০৪-এ রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে নাট্যতত্ত্ব পড়তে চলে এলেন। মঞ্চ সেখানেই হাত ধরে টানে। প্রথম সফল নাটক ‘দেবী সর্পমস্তা’, লেখা মণীশ মিত্রের। মঞ্চই ডাক দিয়েছিল।
এরপর একে একে ‘নাগমণ্ডল’, ‘বিসর্জন’, ‘অদ্য শেষ রজনী’। ২০১৭-তে ‘অদ্য শেষ রজনী’ অভিনয়ের জন্য মঞ্চের সেরা অভিনেতার পুরস্কারও এল। মঞ্চই তাকে বানিয়েছিল।
আসলে মঞ্চই পাঠশালা।
‘ইগলের চোখ’ আর ফিল্মফেয়ার: যখন সবাই চিনল
বড় পর্দায় হাতেখড়ি অপরণা সেনের ‘আড়শিনগর’-এ। কিন্তু চেনা নাম হয়ে ওঠা ২০১৬-র ‘ইগলের চোখ’ দিয়ে। বিষাণ রায় চরিত্রটাই দর্শকের মনে গেঁথে গেল। ফিল্মফেয়ার ইস্টে সেরা পার্শ্ব অভিনেতার পুরস্কার এল, সঙ্গে চলচ্চিত্র সাংবাদিকদের সম্মানও।
এরপর ‘ঘরে বাইরে আজ’-এ নিখিলেশ চৌধুরী। সেই ছবিতেই প্রথম সেরা অভিনেতার পুরস্কার। ‘গুমনামি’-তে চন্দ্রচূড় ধর, রহস্য, থ্রিলার, ড্রামা, সব ঘরেই নিজের জায়গা করে নিলেন।
পরিচালকের চেয়ারেও অনির্বাণ ভট্টাচার্য

অভিনয় চলেছে, কিন্তু আড়ালে তৈরি হচ্ছিল আরেক কিছু। ম্যাকবেথ-অনুপ্রাণিত ওয়েব সিরিজ ‘মান্দার’ দিয়ে পরিচালনায় হাতেখড়ি। ২০২২-এ এল ‘বল্লভপুরের রূপকথা’। লেখালেখি, গান, সুর। সত্যিই এক ব্যস্ত মানুষ।
২০২০ সালে সেরা নেপথ্য গায়কের পুরস্কারও ঘরে ওঠে। নাটক লিখছেন, আবার গলাও ভরিয়েছেন।
পুরস্কার আর মানুষের ভালোবাসা
২০২২-এ ‘সেরা বাংলা’ সম্মান। ইনস্টাগ্রামে তাঁর অনুগামী ৪৮৩ হাজারের বেশি। সংখ্যাটা ভালোবাসারই।
অনুরাগীদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কটা অন্য রকম। সিনেমা হল হোক বা মঞ্চ, অনির্বাণ মানেই ভিড়, চলতি বছর ইউটিউবে এল তাঁর নতুন শর্ট ফিল্ম ‘নয়ে নয়ে তারা’।
উপসংহার
৭ অক্টোবর এবার তাঁর জন্মের ৪০ বছর পূর্ণ হওয়ার দিন। মেদিনীপুরের ছেলে থেকে বাংলার পর্দার জনপ্রিয় মুখ, পথটা নানা রঙে ভরা। বিস্তারিত জানতে উইকিপিডিয়া পাতা দেখুন। জন্মদিনের আগে তাঁর কাজগুলো একবার দেখে নেওয়াই ভালো। আর কী!
আরও পড়ুন: প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের জন্মদিনের গল্প, আবীর চট্টোপাধ্যায়ের জীবনী








