ধানসিঁড়ির তীরে ফিরে আসার প্রতিশ্রুতি, শঙ্খচিল হয়ে, শালিক হয়ে, হাঁস হয়ে। জীবনানন্দ দাশের সেই কবিতা, ‘আবার আসিব ফিরে’। বাংলার নদী মাঠ ক্ষেত ভালোবাসার এক অমর দলিল।
কুয়াশার ভোর, কার্তিকের নবান্ন, কলমীর গন্ধ ভরা জল, সবুজ করুণ ডাঙ্গা। ফিরে আসার রূপ বদলায়, ভালোবাসা বদলায় না।
এই লেখায় থাকছে কবিতার পুরোটা, রূপসী বাংলা প্রসঙ্গ আর ভেতরের ছবিগুলো।
জীবনানন্দ দাশ: রূপসী বাংলার কবি
জন্ম ১৭ ফেব্রুয়ারি ১৮৯৯, বরিশালে। প্রেসিডেন্সি কলেজে ইংরেজিতে এমএ, তারপর অধ্যাপনার চাকরি। জীবনের বেশির ভাগ কেটেছে লেখালেখি আর নির্জনতায়।
ঝরা পালক, ধূসর পাণ্ডুলিপি, বনলতা সেন, সাতটি তারার তিমির, প্রতিটি কাব্যে আলাদা জগৎ। ‘নির্জনতার কবি’ বলেই তাঁর পরিচিতি।
রূপসী বাংলা কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়েছে মৃত্যুর পর, ১৯৫৭ সালে, বিস্তারিত জানতে দেখুন উইকিপিডিয়ার জীবনানন্দ দাশ পাতা।
আবার আসিব ফিরে: কবিতার ভেতরের কথা
শুরু হয় ধানসিঁড়ির তীরে ফেরার ঘোষণায়। ফিরে এসে তিনি মানুষও হবেন, আবার পাখিও। শঙ্খচিল, শালিক, ভোরের কাক, হাঁস, রূপ বদলে বদলে একই বাংলায়। মায়ার টান।
সুদর্শন, লক্ষ্মীপেঁচা, খই ছড়ানো শিশু, রূপসার ঘোলা জলে ডিঙা বাওয়া কিশোর, ধবল বক। চেনা সব।
পঠিত হয়েছে প্রায় ১০ লাখ বার এই কবিতা।
শেষে সেই আশ্বাস, ‘আমারেই পাবে তুমি ইহাদের ভীড়ে’। পড়ুন কবিতাটি, বাংলাকে ভেসে ভেসে চেনার ছন্দে।

আবার আসিব ফিরে: পুরোটা পড়ুন
আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে – এই বাংলায়
হয়তো মানুষ নয় – হয়তো বা শঙ্খচিল শালিকের বেশে;
হয়তো ভোরের কাক হয়ে এই কার্তিকের নবান্নের দেশে
কুয়াশার বুকে ভেসে একদিন আসিব এ কাঁঠাল-ছায়ায়;
হয়তো বা হাঁস হবো – কিশোরীর – ঘুঙুর রহিবে লাল পায়,
সারা দিন কেটে যাবে কলমীর গন্ধ ভরা জলে ভেসে ভেসে;
আবার আসিব আমি বাংলার নদী মাঠ ক্ষেত ভালোবেসে
জলাঙ্গীর ঢেউয়ে ভেজা বাংলার এ সবুজ করুণ ডাঙ্গায়;
হয়তো দেখিবে চেয়ে সুদর্শন উড়িতেছে সন্ধ্যার বাতাসে;
হয়তো শুনিবে এক লক্ষ্মীপেঁচা ডাকিতেছে শিমুলের ডালে;
হয়তো খইয়ের ধান ছড়াতেছে শিশু এক উঠানের ঘাসে;
রূপসার ঘোলা জলে হয়তো কিশোর এক শাদা ছেঁড়া পালে
ডিঙা বায়; – রাঙ্গা মেঘ সাঁতরায়ে অন্ধকারে আসিতেছে নীড়ে
দেখিবে ধবল বক; আমারেই পাবে তুমি ইহাদের ভীড়ে –
কেমন লাগল? বাংলার যে ছবি মন থেকে মুছে যায় না, সেই ছবিই তো ফুটে আছে। পাঠকের চোখ ভিজে ওঠে।
কেন আজও অমর?
কারণ এখানে দেশপ্রেম নেই স্লোগানে, আছে মমতায় ভেজা জলের গন্ধ। ফেরার টান।
উপসংহার
আবার আসিব ফিরে শুধু কবিতা নয়, বাংলার বুকের মায়া। যে যত দূরেই থাকুক, এই কবিতা পড়লে ছুটে আসে নদী মাঠ ক্ষেতের ছবি। জলের শব্দ, নবান্নের গন্ধ, সব যেন জীবন্ত। পড়ুন, আবৃত্তি করুন।
আরও পড়ুন: সুকান্ত ভট্টাচার্যের অমর কাব্যকথা এবং আশাপূর্ণা দেবীর জীবনী








