আয় শংসাপত্র লাগবে, অথচ ব্লক অফিসে গিয়ে লাইনে দাঁড়ানোর সময় নেই? বাড়ি বসেই কয়েক মিনিটে আবেদন সেরে ফেলার পদ্ধতি জেনে নিন, ফি পর্যন্ত লাগবে না।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ই-ডিস্ট্রিক্ট পোর্টালে আয় শংসাপত্রের অনলাইন আবেদন চলে। কোথাও গিয়ে কাগজ জমা দিতে হয় না, ডাউনলোডও হয় ঘরে বসেই। জ্বী, ঠিক শুনেছেন।
আয় শংসাপত্র কাদের দরকার?
স্কলারশিপের ফর্মেই প্রথমে চোখে পড়ে এই কাগজটার নাম। কন্যাশ্রী, রূপশ্রী কিংবা শিক্ষাশ্রীর আবেদনে পরিবারের আয়ের প্রমাণ চাওয়া হয়, সেখানেই লাগে আয় শংসাপত্র। কলেজে ভর্তি, সরকারি চাকরির ফর্ম, এমনকি ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার সময়ও এই নথি চাওয়া হয়। যাঁদের আয় কম, তাঁদের হাতেই এই সার্টিফিকেট কাজটা অনেক সহজ করে দেয়।
শুধু বড়দের নয়। পড়ুয়াদের জন্যও দরকারি এই কাগজ।
কি কি নথি লাগবে?
- আধার কার্ডের ছবি বা পিডিএফ, ১৫০ কেবির মধ্যে
- পাসপোর্ট সাইজের ছবি, ১ মেগাবাইটের মধ্যে
- পঞ্চায়েত থেকে পাওয়া আয় শংসাপত্র
- পঞ্চায়েতের অনুসন্ধান রিপোর্ট
পঞ্চায়েতের মাসিক আয়ের কাগজটা আগে থেকে করে রাখলে কাজটা দ্রুত হয়। অনেক জায়গায় অনুসন্ধান রিপোর্ট ছাড়া আবেদনটাই এগোয় না।

অনলাইনে আবেদনের ধাপ
- প্রথমে ই-ডিস্ট্রিক্ট পোর্টালে গিয়ে লগইন করুন। অ্যাকাউন্ট না থাকলে সাইন আপ করে নিন।
- এরপর মোবাইল বা ইমেলে আসা ওটিপি বসিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলুন।
- তারপর সার্ভিস থেকে সার্টিফিকেট বিভাগে গিয়ে আয় শংসাপত্র বেছে নিন।
- নিজের নাম, জন্মতারিখ, স্থায়ী ঠিকানা আর মোবাইল নম্বর দিন। নম্বরটা ওটিপি দিয়ে যাচাই করুন।
- পড়ুয়া হলে নিজের আয় নয়, বাড়ির মোট মাসিক আয় লিখুন।
- পঞ্চায়েতের সার্টিফিকেটে বছরের আয় থাকে। সেটাকে ১২ দিয়ে ভাগ করে মাসিক আয় বসান।
- নথিগুলো আপলোড করে প্রিভিউ দেখুন, ভুল না থাকলে সাবমিট করুন।
- সাবমিট করলেই এআইএন নম্বর আসবে। নম্বরটা ছবি তুলে বা নোট করে রাখুন।
স্ট্যাটাস চেক আর সার্টিফিকেট ডাউনলোড
আবেদনের পর ড্যাশবোর্ডে এআইএন নম্বর দিয়ে স্ট্যাটাস দেখা যায়। চলছে, ফেরত এসেছে, নাকি মঞ্জুর হয়েছে, সব লেখা থাকে সেখানে। ফেরত এলে কারণটাও দেখতে পাবেন, ভুল ঠিক করে আবার পাঠিয়ে দিন। চিন্তার কিছু নেই।
মঞ্জুর হলেই ডাউনলোড বাটন খুলে যায়।
উপসংহার
সাধারণত ১ দিনেই সার্টিফিকেট পাওয়া যায়, ব্যস্ত সময়ে ২-৭ দিনও লাগে। সার্টিফিকেটে থাকবে নম্বর, ছবি আর ডিজিটাল সই। অফিসিয়াল ই-ডিস্ট্রিক্ট পোর্টাল থেকে সরাসরি আবেদন করা যায়, বলে কথা!
আরও পড়ুন: কন্যারত্ন প্রকল্প ২০২৬: এককালীন ২৫ হাজার টাকার খুঁটিনাটি, শিক্ষাশ্রী-মেধাশ্রী স্কলারশিপ ২০২৬-২৭








