পুজো মানেই ঠাকুর দেখা, ভিড়, আর শেষে মিষ্টিমুখ। কলকাতার হাজারো বাড়িতে বিজয়ার সন্ধেটা নারকেল নাড়ু ছাড়া সম্পূর্ণ হয় না। মিষ্টিমুখ। ঘরের নাড়ুর সামনে দোকানের মিষ্টি টেকে না, যাঁরা খেয়েছেন তিনিই জানেন।
আর এবার সেই নাড়ু আপনিই বানিয়ে ফেলুন। উপকরণ সামান্য, পদ্ধতিটাও সোজা। ঠাকুমার পুরনো রেসিপিটা হুবহু মানলে ২০ মিনিটেই গোল গোল নাড়ু হাতে আসবে।
উপকরণ কী কী লাগবে?
মোট কথা, রান্নাঘরে যা যা থাকে, তারই জোগাড়। নারকেলটা সতেজ হোক।
- নারকেল ২-৩টি (মাঝারি মাপের, শাঁস কোরা)
- চিনি ১টি নারকেল পিছু ২৫০-৩০০ গ্রাম
- ছোট এলাচ গুঁড়ো ১ চা চামচ
- ঘি ১ টেবিল চামচ
- গুড় ১ কাপ (চিনির বদলে চাইলে)
চিনির বদলে গুড় দিলে নাড়ুর রং হালকা বাদামি আসবে। স্বাদে বদল। গুড়ে কম সময়ে পাক ধরে, সেটা মাথায় রাখুন। ঘ্রাণ বাড়াতে দিন একটু এলাচ গুঁড়ো।

নারকেল নাড়ু বানানোর পদ্ধতি
পুরো ব্যাপারটাই ধৈর্যের খেলা। তাড়াহুড়ো করলে পুড়ে যায়, তেতো হয়ে যায়। ধাপগুলো ঠিকমতো মানলেই টানা নিখুঁত নাড়ু বেরোবে।
- প্রথমে নারকেল ভেঙে শাঁস কুরে নিন। ভিতরের কালো ত্বকটা যেন না লাগে।
- এরপর বড় কড়ায় নারকেল কোরা আর চিনি একসঙ্গে মেশান।
- তারপর হালকা আঁচে মিশ্রণটা নাড়তে থাকুন। প্রায় ৩০ মিনিট ধৈর্য রাখুন।
- আঁচ এবার মাঝারি করুন। মিশ্রণ আঠালো হয়ে না আসা পর্যন্ত টানা নাড়ুন।
- মিশ্রণ শুকিয়ে এলে কড়া থেকে ধোঁয়া উঠবে। এমন সময় নামিয়ে নিন।
- সবশেষে হালকা গরম অবস্থাতেই হাতে অল্প অল্প নিয়ে গোল গোল নাড়ু পাকান। হাতে ঘি মাখা ভুলবেন না।
নাড়ু পারফেক্ট করার কয়েকটা টিপস
আঁচের দিকেই সবার নজর রাখুন। বেশি আঁচে নারকেল পুড়বে, স্বাদ তেতো।
কোরা যত মিহি হবে, নাড়ু তত মসৃণ হবে। মেশানো ভালো না হলে নাড়ু শক্ত ধরে না, শুকিয়ে টুকরো হয়ে যায়। পাতিলে ভরে শুকনো জায়গায় রাখলে অনেক দিন তাজা থাকে।
আর একটা কথা, ছোটদের হাতেও মাখান ঘি। নিজের হাতে গড়া নাড়ু খাওয়ার আনন্দটাই আলাদা। সেটাই বাঙালির পুজোর আসল স্বাদ। ঘরের ছোঁয়া।
উপসংহার
বিজয়ার মিষ্টিমুখে এই নাড়ু বাঙালির চিরকালের রেওয়াজ। আরও পড়ুন: মিষ্টি দই রেসিপি এবং লুচি ও ছোলার ডাল।
পুজোয় মিষ্টি বানানোর সময় এই নিয়মগুলো মেনে চললেই হবে। পুরনো দিনের পদ্ধতিটা বিস্তারিত পাবেন আনন্দবাজারের রান্নার পাতায়। সবার আগে তবে নারকেলটা সতেজ কিনুন। ব্যস, এটুকুই।








