পুজোর ছুটিতে বাড়ি ফেরা মানেই টিকিটের লড়াই, তাই না? এবার সেই লড়াইটা একটু সহজ হবে। দুর্গাপুজো, দীপাবলি আর ছটপুজোর ভিড় সামলাতে ১০ জোড়া পুজোর স্পেশাল ট্রেন চালানোর ঘোষণা করেছে পূর্ব রেল। হাওড়া, শিয়ালদহ, কলকাতা, আসানসোল, মালদহ টাউন থেকে পাটনা, রক্সৌল, গোরক্ষপুর, মধুবনী, দিঘা-সহ নানা রুটে চলবে এই ট্রেনগুলো। বড় সুখবর বটে।
বাড়ি ফিরতে হবে, নাকি পুজোর ছুটিতে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার শখ আছে? তালিকাটা আপনার জন্যই। ১৩ অক্টোবর ২০২৬ থেকে নভেম্বরের শেষ পর্যন্ত নির্দিষ্ট দিনে চলবে অতিরিক্ত ট্রেনগুলো। কোন রুটে কোন দিন, কবে থেকে টিকিট মিলবে, সব জেনে নেওয়া যাক।
কোন কোন রুটে চলবে পুজোর স্পেশাল ট্রেন?
পূর্ব রেল যে তালিকা প্রকাশ করেছে, সেখানে আটটি আলাদা রুটের কথা আছে। চলুন দেখে নিই।

- হাওড়া-রক্সৌল: চলবে দু’জোড়া ট্রেন। ০৩০৪১ প্রতি বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর থেকে ২৬ নভেম্বর। ফিরতি ০৩০৪২ প্রতি শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর থেকে ২৭ নভেম্বর। বাকি জোড়া ০৩০৪৩/০৩০৪৪ শনি ও রবিবার, শুরু ১৭ অক্টোবর।
- শিয়ালদহ-পাটনা: ০৩১৩৫ প্রতি মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর থেকে ২৪ নভেম্বর। ফিরতি ০৩১৩৬-ও মঙ্গলবারই।
- শিয়ালদহ-সীতামাঢ়ি: ০৩১৩৩ প্রতি শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর থেকে ২৭ নভেম্বর। ফিরতি শনিবার।
- শিয়ালদহ-গোরক্ষপুর: ০৩১৩১ প্রতি মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার, ১৩ অক্টোবর থেকে ২৬ নভেম্বর। মোট ১৪টি ট্রিপ।
- কলকাতা-মধুবনী: দু’জোড়া ট্রেন। মঙ্গলবার কলকাতা থেকে, বুধবার মধুবনী থেকে, ১৩ অক্টোবর থেকে ২৪ নভেম্বর। দ্বিতীয় জোড়া শুক্রবার-শনিবার, ১৬ অক্টোবর থেকে ২৭ নভেম্বর।
- আসানসোল-পাটনা: প্রতি রবিবার। পথে চিত্তরঞ্জন, জামতাড়া, মধুপুর, জসিডি-সহ স্টপেজ।
- আসানসোল-গোরক্ষপুর: প্রতি শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর থেকে ২৭ নভেম্বর। ফিরতি শনিবার।
- মালদহ টাউন-দিঘা: প্রতি শনিবার, ১৭ অক্টোবর থেকে ২৮ নভেম্বর। পথে নিউ ফরাক্কা, রামপুরহাট, সাঁইথিয়া, বোলপুর শান্তিনিকেতন, বর্ধমান, ডানকুনি।
শুধু বড় শহরেই থামছে না, ছোট স্টেশনও বাদ পড়েনি। বোলপুর শান্তিনিকেতন হয়ে দিঘা পর্যন্ত চলবে মালদহ টাউনের ট্রেন। পুজোর ছুটিতে ঘোরার প্ল্যান থাকলে এটা ভালো বিকল্প। হাওড়া-নিউ জলপাইগুড়ি কিংবা আনন্দ বিহার-হাওড়া রুটেও স্পেশাল ট্রেনের পরিকল্পনা চলছে।
উত্তরবঙ্গ বা আসামের পথে কী কী স্পেশাল আছে?
উত্তরবঙ্গ আর আসামের পথেও স্পেশাল আছে। হাওড়া-লামডিং ট্রেন ০৩০০৫ চলবে প্রতি শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর থেকে ২৭ নভেম্বর, মোট ৭টি ট্রিপ। এই রুটের টিকিট আর ওয়েটিং লিস্টের খবর আছে আমাদের আগের প্রতিবেদনে।
রাঁচি বা আজমীর যাবেন কী করে?
আর ঝাড়খণ্ড বা রাজস্থানের পথে যাত্রীদের জন্য খবর দক্ষিণ-পূর্ব রেলের। ৪ অক্টোবর ২০২৬ থেকে হাওড়া-রাঁচি ও হাওড়া-আজমীর রুটে চলবে পুজোর স্পেশাল ট্রেন। খবরটা ভালোই, তাই না? রুটের তালিকা বাড়লে এখানেই জানানো হবে।
টিকিট বুকিং কবে শুরু হবে?
পূর্ব রেলের তরফে জানানো হয়েছে, স্পেশাল ট্রেনের টিকিট বুকিং শুরুর নির্দিষ্ট তারিখ এখনও ঘোষণা হয়নি। ঘোষণা হলেই খবর মিলবে রেলের দাপ্তরিক সাইটে, আর পূর্ব রেল জোন সম্পর্কে আরও জানতে দেখে নিতে পারেন উইকিপিডিয়ার পূর্ব রেল পাতা। আপাতত এটুকুই জানা।
যে রুটে ট্রেন বাড়ছে, তার মানে এই নয় ভিড় কমবে। উল্টে, পুজোর আগে টিকিটের চাহিদা বাড়তেই থাকে। বুকিং খুললেই দেরি না করা ভালো। দেরি করলে ওয়েটিং লিস্টে নাম ওঠার আশঙ্কা থেকে যায়।
ট্রেন নাকি ফ্লাইট, কোনটা বেশি সাশ্রয়ী?
পুজোর মরশুমে আকাশপথের ভাড়া হু হু করে বাড়ে, এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। উল্টোদিকে ট্রেনের ভাড়া আগের মতোই, স্পেশাল ট্রেনে জেনারেল সেকেন্ড, স্লিপার আর এসি, তিন রকমের কোচই আছে। পুজোর ফ্লাইট ভাড়া কতটা বাড়ল, আমরা আগেই হিসেব করে দিয়েছিলাম সেই প্রতিবেদনে। মনে পড়ছে? পরিষ্কার হিসেব।
বুকিং আর যাত্রার আগে কী কী মাথায় রাখবেন?
টিকিট কাটতে হবে আইআরসিটিসি অ্যাপ বা সাইটে, স্পেশাল ট্রেনের জন্য আলাদা নিয়ম নেই। ৬০ দিন আগে থেকে অ্যাডভান্স বুকিং চালু থাকে রেলের। ভুলে গেলে না কি, বুকিং খুললে ভালো সিট তাড়াতাড়ি শেষ হয়।
পুজোর ভিড়ে স্টেশনে ঠাসাঠাসি অবস্থা থাকবেই। তাই ট্রেন ছাড়ার প্ল্যাটফর্ম আর সময় দেখে নিন রেলের সরকারি অ্যাপ বা সাইটে। টিকিটহীন যাত্রা নয়। জরিমানার ঝামেলা এড়িয়ে চলুন।








