বিদেশ যাওয়ার তাড়া আছে? পাসপোর্টের জন্য মাস খানেক অপেক্ষার ভাবনাটা এবার বাদ দিন। তৎকাল পাসপোর্টে মাত্র ১ থেকে ৩ কার্যদিবসেই হাতে। নিশ্চিন্ত থাকুন, পাসপোর্ট পেয়ে যাবেন। জরুরি কাজ, চাকরির ইন্টারভিউ বা পড়াশোনার ডাক, যেটাই হোক।
খরচটাও নাগালের মধ্যে। নতুন নিয়মে ঝামেলাও কমেছে, গেজেটেড অফিসারের সার্টিফিকেট আর লাগে না। কারা আবেদন করতে পারবেন, ফি কত, কী কী নথি লাগবে, সব মিলিয়ে জেনে নিন খুঁটিনাটি।
তৎকাল পাসপোর্ট আসলে কী?
সাধারণ পাসপোর্টে আগে পুলিশ ভেরিফিকেশন, পরে পাসপোর্ট। তৎকালে উল্টো চিত্র। পাসপোর্ট আগে হাতে পান। ভেরিফিকেশন পরে হয়। সত্যি কথা। এই পদ্ধতির নাম পোস্ট পুলিস ভেরিফিকেশন।
আগে তৎকালে নিতে হতো গেজেটেড অফিসারের সার্টিফিকেট। সেই নিয়ম এবার উঠে গেছে। নিজের ঘোষণাপত্রই যথেষ্ট। পুরো নিয়মের সরকারি তালিকা আছে পাসপোর্ট সেবার দাপ্তরিক ওয়েবসাইটে।
কোন কোন ক্ষেত্রে তৎকালে আবেদন করবেন?
জরুরি প্রয়োজনের তালিকা খোলা। চাকরির ইন্টারভিউ, বাইরে চিকিৎসা, পড়াশোনার ভর্তি, কিংবা পরিবারের দরকার, কারণ যেকোনো একটি হলেই চলবে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আলাদা জরুরি প্রমাণও চাওয়া হয় না।
একটা কথা মনে রাখুন। ছেঁড়া বা নষ্ট অবস্থায় থাকা পাসপোর্টে তৎকালে আবেদন চলে না। এমন পাসপোর্ট থাকলে হাতের কাছে রাখুন, যাওয়ার সময় নথি দেখাতে হবে।

ফি কত? সাধারণ আর তৎকালের দামে ফারাক কত?
সাধারণ প্রক্রিয়ায় ৩৬ পৃষ্ঠার পাসপোর্টে ১,৫০০ টাকা, ৬৪ পৃষ্ঠায় ২,০০০ টাকা। তৎকালে বাড়তি চার্জ মেলায় দামটা এমন দাঁড়ায়।
| ধরন | সাধারণ পদ্ধতি | তৎকাল পদ্ধতি |
|---|---|---|
| ৩৬ পৃষ্ঠার পাসপোর্ট | ১,৫০০ টাকা | ৩,৫০০ টাকা |
| ৬৪ পৃষ্ঠার পাসপোর্ট | ২,০০০ টাকা | ৪,০০০ টাকা |
অ্যাপয়েন্টমেন্টের দিন কাউন্টারে টাকার ঝক্কি নেই। পুরো ফি অনলাইনেই মেটানো যায়। টেনশন নেই।
আবেদনের পদ্ধতি কী কী?
- পাসপোর্ট সেবার ওয়েবসাইটে নতুন নিবন্ধন করুন
- আবেদন ফর্মে নিজের তথ্য আর ঠিকানা দিন
- তৎকাল অপশনটি বেছে নিয়ে ফি অনলাইনে দিন
- নিকটবর্তী পাসপোর্ট সেবা কেন্দ্রে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করুন
- দিনক্ষণ মতো কেন্দ্রে গিয়ে বায়োমেট্রিক দিন, নথি জমা দিন
- ১ থেকে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে পাসপোর্ট ডিসপ্যাচ হয়ে বাড়ি চলে আসবে
মোবাইল দিয়েও কাজ চলে। ওয়েবসাইটের মোবাইল সংস্করণে বসেই ফর্ম ভরতে পারেন, অ্যাপয়েন্টমেন্টও নিতে পারেন।
কী কী নথি লাগবে?
- জন্মতারিখের প্রমাণ, যেমন জন্মসনদ বা স্কুলের সার্টিফিকেট
- ঠিকানার প্রমাণ, আধার, ভোটার কার্ড বা রেশন কার্ড
- জাতীয় পরিচয়ের জন্য আধার, ভোটার বা প্যান কার্ড
- সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে পাসপোর্ট সাইজের ছবি
- নবায়নের ক্ষেত্রে পুরনো পাসপোর্ট
- নিজের ঘোষণাপত্র, তৎকালের জন্য বাধ্যতামূলক
নথির কথা উঠতেই আরেকটা টিপস। আধার কার্ডে ভুল তথ্য থাকলে সেটা জট বাঁধাতে পারে আবেদনের সময়। কথাটা একবার ভাবুন। ফ্রি আধার আপডেটের সুবিধা নিয়ে আগেই সেটা সেরে নেওয়াই ভালো।
কোথায় যাবেন? কত দিনে পাসপোর্ট?
বাংলার বড় শহরগুলোতেই দরজা খোলা। কলকাতা, হাওড়া, শিবপুরসহ একাধিক জায়গায় পাসপোর্ট সেবা কেন্দ্র আছে। ঘরের কাছের কেন্দ্রটাই বেছে নিতে পারবেন, আবেদনের সময়। পাসপোর্টের নানা খুঁটিনাটি। জানতে চাইলে উইকিপিডিয়ার ভারতীয় পাসপোর্ট পাতা দেখে নিতে পারেন।
তৎকালে ১ থেকে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে পাসপোর্ট ডিসপ্যাচ হয়। পুলিশ ভেরিফিকেশন পরে হয় বলে দেরির ভয় নেই।
পাসপোর্টের আবেদনে ভয়ের কিছু নেই, তৎকাল এনেছে গতি। টাকা একটু বেশি, কিন্তু সময়ই আসল সম্পদ। উৎসবের মরসুমে কেন্দ্রে ভিড় বাড়ে, তাই ইচ্ছে থাকলে অন্তত ২ সপ্তাহ আগেই আবেদন সেরে ফেলুন। তাড়াতাড়ি ভালো।
আরও পড়ুন: প্যান কার্ডের নতুন নিয়ম ২০২৬








