সংক্ষেপে
- UIDAI আধার কার্ডের জন্য নথির তালিকা বাড়িয়েছে — e-ভোটার আইডি, e-রেশন কার্ড, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, পেনশন অর্ডার, বিয়ের সার্টিফিকেট এখন গ্রহণযোগ্য।
- ৫ বছরের নিচে শিশুদের জন্য হেড অফ ফ্যামিলি (HoF) ভিত্তিক নথিভুক্তি বাধ্যতামূলক; ৫-১৮ বছর পর্যন্ত HoF বা ডকুমেন্ট ভিত্তিক নিবন্ধন চলবে।
- বিদেশি নাগরিক, OCI ও LTV ধারকদের জন্য আধার কার্ডের মেয়াদ নির্দিষ্ট করা হয়েছে — OCI-র জন্য ১০ বছর, LTV-র জন্য ভিসার মেয়াদ পর্যন্ত।
- ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিদের জন্য ট্রান্সজেন্ডার আইনে জারি করা পরিচয়পত্র এখন আধার আপডেটের জন্য গ্রহণযোগ্য।
- অনলাইনে নথি আপডেট ফ্রি চলবে ১৪ জুন ২০২৭ পর্যন্ত — myAadhaar পোর্টালে বিনামূল্যে PoI ও PoA ডকুমেন্ট আপডেট করা যাবে।
আধার কার্ড এখন ভারতীয় নাগরিকদের জীবনের অপরিহার্য অংশ। সরকারি থেকে বেসরকারি — প্রায় সব জায়গাতেই আধার কার্ডের প্রয়োজন হয়। আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ খবর হলো, UIDAI সম্প্রতি আধার কার্ডের জন্য নথির তালিকা বাড়িয়েছে। ফলে এখন অনেক নতুন ডকুমেন্ট দিয়ে আধার কার্ড তৈরি বা আপডেট করাতে পারবেন।
আপনিও যদি আধার কার্ড তৈরি করাতে চান বা পুরনো তথ্য আপডেট করতে চান, তাহলে এই নতুন নিয়মগুলি আপনার খুব কাজে আসবে। চলুন, UIDAI-র আধার (এনরোলমেন্ট ও আপডেট) প্রথম সংশোধনী রেগুলেশন ২০২৬-এ কী কী বদল এসেছে, তা বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
UIDAI-র নতুন নিয়মে কী কী বদল এসেছে?
ভারতীয় স্বতন্ত্র পরিচয় কর্তৃপক্ষ (UIDAI) ২০২৬ সালের মে মাসে আধার (এনরোলমেন্ট ও আপডেট) প্রথম সংশোধনী রেগুলেশন ২০২৬ জারি করে। এই নতুন নিয়মে আধার কার্ডের জন্য গ্রহণযোগ্য নথির তালিকা ব্যাপকভাবে বাড়ানো হয়েছে। ফলে নাগরিকদের জন্য আধার তৈরি ও আপডেট করা এখন অনেক সহজ হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই পদক্ষেপ আধার সিস্টেমকে আরও আধুনিক ও সহজলভ্য করে তুলবে।
কোন কোন নতুন ডকুমেন্ট যুক্ত হয়েছে?
UIDAI-র নতুন তালিকায় বেশ কিছু ডিজিটাল ও আর্থিক নথি যুক্ত হয়েছে। e-ভোটার আইডি, e-রেশন কার্ড, পেনশন পেমেন্ট অর্ডার, বিয়ের সার্টিফিকেট, ডিভোর্স ডিক্রি, ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও পাসবুক, ইন্স্যুরেন্স পলিসি, CGHS/ECHS/ESIC কার্ড, NREGA জব কার্ড, ইউটিলিটি বিল, রেজিস্টার্ড রেন্ট এগ্রিমেন্ট, এবং শিক্ষাগত সার্টিফিকেট/মার্কশিট-এর মতো নথি এখন আধার এনরোলমেন্ট ও আপডেটের জন্য গ্রহণযোগ্য।
বিভাগ অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য নথির তালিকা
| বিভাগ | নথির উদাহরণ |
|---|---|
| ডিজিটাল/রাজ্য ID | e-ভোটার আইডি, e-রেশন কার্ড |
| আর্থিক/জীবন ঘটনা | পেনশন পেমেন্ট অর্ডার, বিয়ের সার্টিফিকেট, ডিভোর্স ডিক্রি, ব্যাংক স্টেটমেন্ট/পাসবুক, ইন্স্যুরেন্স পলিসি |
| স্বাস্থ্য/কর্মসংস্থান | CGHS/ECHS/ESIC কার্ড, NREGA জব কার্ড |
| আবাসিক | ইউটিলিটি বিল (বিদ্যুৎ/জল/গ্যাস), রেজিস্টার্ড রেন্ট এগ্রিমেন্ট |
| শিক্ষা | শিক্ষাগত সার্টিফিকেট ও মার্কশিট |
| বিশেষ পরিস্থিতি | বন্দি আইডি ডকুমেন্ট, শেল্টার হোম সার্টিফিকেট |
নথি গ্রহণের জন্য কিছু শর্তও রয়েছে। ডকুমেন্টটি অবশ্যই বৈধ, অমেয়াদি এবং আবেদনকারীর নিজস্ব হতে হবে। নথির বিবরণ জারিকারী কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে যাচাইযোগ্য হতে হবে। পরিচয় প্রমাণের জন্য নথিতে নাম ও ছবি থাকা বাধ্যতামূলক।
বিভিন্ন বয়সীদের জন্য কী কী নিয়ম প্রযোজ্য?
UIDAI বিভিন্ন বয়স গোষ্ঠীর জন্য আলাদা নিয়ম নির্ধারণ করেছে। ৫ বছরের নিচে শিশুদের জন্য হেড অফ ফ্যামিলি (HoF) ভিত্তিক নথিভুক্তি বাধ্যতামূলক — জন্ম সার্টিফিকেট প্রাথমিক ডকুমেন্ট এবং পিতা-মাতার ডকুমেন্টেশন আবশ্যক। ৫-১৮ বছর বয়সীদের জন্য HoF ভিত্তিক নথিভুক্তি উৎসাহিত করা হয়, তবে HoF না থাকলে ডকুমেন্ট ভিত্তিক নিবন্ধনও অনুমোদিত।
আরও পড়ুন: আধার কার্ড ২০২৬: নতুন নিয়ম, আপডেট পদ্ধতি ও সম্পূর্ণ গাইড
বিদেশি নাগরিক ও OCI ধারকদের জন্য কী নিয়ম?
বিদেশি নাগরিক, OCI (Overseas Citizen of India) ও LTV (Long Term Visa) ধারকদের জন্যও নতুন নিয়ম চালু হয়েছে। যাঁরা গত ১২ মাসে ভারতে ১৮২ দিনের বেশি অবস্থান করেছেন, তাঁরাই কেবল আধার কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন। OCI কার্ডধারীদের জন্য আধারের মেয়াদ ১০ বছর, LTV ধারকদের জন্য ভিসার মেয়াদ পর্যন্ত, এবং নেপাল/ভুটানের নাগরিকদের জন্যও ১০ বছর মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে।
ট্রান্সজেন্ডার ও দুর্বল গোষ্ঠীর জন্য কী সুবিধা এসেছে?
ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিদের জন্য ট্রান্সজেন্ডার পারসন্স (প্রটেকশন অফ রাইটস) অ্যাক্ট ২০১৯-এর অধীনে জারি করা পরিচয়পত্র এখন আধার আপডেটের জন্য গ্রহণযোগ্য। এই ডকুমেন্টগুলি পরিচয়, ঠিকানা, সম্পর্ক, জন্ম তারিখ ও লিঙ্গ/নাম পরিবর্তনের জন্য ব্যবহার করা যাবে। এছাড়া, ন্যাশনাল ট্রাস্ট অ্যাক্ট ও RPWD অ্যাক্ট-এর অধীনে অভিভাবকত্বের ডকুমেন্টগুলিও আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত — যা অনাথ শিশু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও আদালত-নিযুক্ত অভিভাবকদের জন্য বিশেষভাবে সহায়ক।
কীভাবে অনলাইনে আধার আপডেট করবেন?
নথি আপডেটের জন্য myAadhaar পোর্টাল (myaadhaar.uidai.gov.in) ব্যবহার করুন। প্রথমে পোর্টালে লগইন করে ১২ ডিজিটের আধার নম্বর দিন। OTP যাচাইয়ের পর PoI ও PoA ডকুমেন্টের স্ক্যান কপি আপলোড করুন। এই অনলাইন পরিষেবা ১৪ জুন ২০২৭ পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। আবেদন জমা দেওয়ার পর ১৪ ডিজিটের URN (Update Request Number) সংরক্ষণ করুন — এটির মাধ্যমে আপনার আবেদনের অবস্থা ট্র্যাক করতে পারবেন।
আরও পড়ুন: আধার কার্ডে নাম সংশোধন ২০২৬: অনলাইন ও অফলাইনে সম্পূর্ণ গাইড
উপসংহার
UIDAI-র এই নতুন নিয়ম ভারতের নাগরিকদের জন্য আধার কার্ড তৈরি ও আপডেট প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তুলেছে। নতুন ডকুমেন্ট তালিকায় e-ভোটার আইডি, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, পেনশন অর্ডার, শিক্ষাগত সার্টিফিকেট-সহ আরও অনেক নথি যুক্ত হওয়ায় এখন আরও বেশি মানুষ সহজেই আধার কার্ড পাবেন। আপনার যদি আধার কার্ড আপডেট করানোর প্রয়োজন থাকে, তাহলে এখনই myAadhaar পোর্টালে গিয়ে বিনামূল্যে নথি আপডেট করে ফেলুন।
প্রয়োজনীয় লিংক ও তথ্যসূত্র
UIDAI-র সরকারি ওয়েবসাইটে আধার (এনরোলমেন্ট ও আপডেট) প্রথম সংশোধনী রেগুলেশন ২০২৬-এর সম্পূর্ণ টেক্সট দেখা যাবে।
আরও বিস্তারিত জানতে CAalley-র প্রতিবেদনটি পড়তে পারেন।
আরও পড়ুন: ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন ২০২৬: অনলাইনে সম্পূর্ণ গাইড
আরও পড়ুন: PM Surya Ghar Muft Bijli Yojana ২০২৬: সোলার প্যানেল সাবসিডি গাইড







