সংক্ষেপে

  • কমলা লাইন (নতুন গড়িয়া থেকে বিমানবন্দু) ২০২৬ সালে চিঙ্গড়িখাটা গ্যাপ বন্ধ হলে সেক্টর ভি পর্যন্ত চালু হতে পারে
  • জামুনি লাইন (জোকা থেকে এসপ্ল্যানেড) আন্ডারগ্রাউন্ড টানেল তৈরির তীব্র গতিতে চলছে, ২০২৬ সালে ব্রেকথ্রু আশা করা হচ্ছে
  • সবুজ লাইন (সেক্টর ভি থেকে হাওড়া মৈদান) সম্পূর্ণ চালু এবং রক্ষণাবেক্ষণে বাজেট বেড়েছে
  • হলুদ লাইন (নোয়াপাড়া থেকে বারাসাত) বাংলা বছরের আগস্ট পর্যন্ত নতুন ব্যারাকপুর পর্যন্ত সম্প্রসারিত হবে
  • ২০২৬-২৭ বাজেটে কমলা লাইন পেল ৭০৫.৫ কোটি, জামুনি লাইন ৯০৬ কোটি, সবুজ লাইন ৫২৯ কোটি টাকা

কলকাতা মেট্রো ভারতের প্রথম মেট্রো রেল সেবা হিসেবে ইতিহাসে তার স্থান দখল করেছে। ১৯৮৪ সালে শুরু হওয়া যাত্রা আজ একাধিক রঙের রুটে লাভ-অলাভের চিন্তা ছাড়া শহরবাসিদের সেবায় দাঁড়িয়েছে। ২০২৬ সালে এই নেটওয়ার্ক আরও বড় ও শক্তিশালী হতে চলেছে, যা প্রতিদিন লাখ লাখ যাত্রীর জীবন সহজ করতে যাচ্ছে।

দুই বছর আগে সবুজ লাইনের আন্ডারওয়াটার সেকশন চালু হওয়ার পর কলকাতা মেট্রোর একটি নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। এবার ব Kolkata বছরে কমলা লাইন, জামুনি লাইন এবং হলুদ লাইন-এ বড় বড় পরিবর্তন আসছে। আজকের এই নিবন্ধে আমরা জানব ২০২৬ সালের আপডেট, বাজেট বরাদ্দ, নির্মাণের অগ্রগতি এবং যাত্রীদের জন্য কী কী সুবিধা আসছে।

লাইনরঙকরিডোরদৈর্ঘ্য২০২৬-২৭ বাজেটস্থিতি
কমলা লাইনকমলানতুন গড়িয়া – বিমানবন্দু৩২ কিমি৭০৫.৫ কোটিআংশিক চালু, সেক্টর ভি পর্যন্ত কাজ চলছে
জামুনি লাইনজামুনিজোকা – এসপ্ল্যানেড১৪ কিমি৯০৬ কোটিজোকা-মাঝেরহাট চালু, আন্ডারগ্রাউন্ড কাজ চলছে
সবুজ লাইনসবুজসেক্টর ভি – হাওড়া মৈদান১৬.৬ কিমি৫২৯ কোটি সম্পূর্ণ চালু, ভারতের প্রথম আন্ডারওয়াটার মেট্রো
হলুদ লাইনহলুদনোয়াপাড়া – বারাসাত১৮ কিমিসোভারেন গ্রীন ফান্ডনোয়াপাড়া-নতুন ব্যারাকপুর আগস্ট ২০২৬-এ লক্ষ্য

কমলা লাইন: নতুন গড়িয়া থেকে বিমানবন্দু – সবচেয়ে বড় অপেক্ষা

কলকাতা মেট্রোর কমলা লাইন বা অরেঞ্জ লাইন বর্তমানে শহরবাসিদের সবচেয়ে বড় আশার কেন্দ্র। নতুন গড়িয়া থেকে বিমানবন্দু পর্যন্ত প্রায় ৩২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই লাইনে ২৪টি স্টেশন থাকবে। কवि সুভাষ থেকে বিমানবন্দু পর্যন্ত যাত্রার সময় হবে প্রায় ৫৬ মিনিট।

এই লাইনের নতুন গড়িয়া থেকে বেলেঘাটা সেকশন ইতিমধ্যে চালু হয়েছে। কিন্তু চিঙ্গড়িখাটায় প্রায় ৩৬৬ মিটার ভায়াডাক্টের কাজ এক বছরের বেশি ধরে আটকে আছে। এই গ্যাপ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত রুবি ক্রসিং-এর পর সেক্টর ভি পর্যন্ত প্রায় ৮.৮ কিলোমিটার তৈরি থাকা সত্ত্বেও সেবা চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। ২০২৫ সালের জুনে এই ফেজ চালু করার লক্ষ্য ছিল, কিন্তু তা মেনে চলা যাইনি।

২০২৬-২৭ বাজেটে এই লাইনের জন্য ৭০৫.৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যা গত বছরের ৭২০ কোটির চেয়ে ১৪.৫ কোটি কম। রেলওয়ে अधिकारীদের মতে, অর্থ বরাদ্দ নির্মাণের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে। নিউ টাউনের ভায়াডাক্ট প্রায় তৈরি, কিন্তু প্রায় ৪ কিমি পথ এবং ২-৩টি স্টেশন বাকি। কবি সুভাষ স্টেশনের পুনর্নির্মাণও ২০২৬ সালের মাঝপথে শেষ করার লক্ষ্য রেখে কাজ চলছে।

কলকাতা মেট্রো ২০২৬: নতুন লাইন, সম্প্রসারণ

জামুনি লাইন: জোকা থেকে এসপ্ল্যানেড – আন্ডারগ্রাউন্ড সংগ্রাম

জামুনি লাইন বা পার্পল লাইন জোকা থেকে এসপ্ল্যানেড পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ। এর মধ্যে জোকা থেকে মাঝেরহাট সেকশন ইতিমধ্যে চালু। কিন্তু বাকি ৬ কিলোমিটার আন্ডারগ্রাউন্ড অংশটি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

২০২৬ সালে এই লাইনের জন্য ৯০৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। দুটি টানেল বোরিং মেশিন (টিএম) – ‘দুর্গা’ এবং ‘দিব্য’ – এই আঠা কাজে লেগে আছে। কিডারপুর, ভিক্টোরিয়া, পার্ক স্ট্রিট পর্যন্ত টানেল ব্রেকথ্রু আশা করা হচ্ছে ২০২৬ সালের মধ্যে। কিন্তু এসপ্ল্যানেডে বিবি রয় মার্কেটের ৫২৮টি অনধিকার দোকান জমি দখলে রেখেছে, যা টার্মিনাল স্টেশন তৈরির প্রধান বাধা। গত বছরের মূল্যায়ন অনুযায়ী প্রায় ১,৪০০ কোটি টাকা দরকার ছিল, কিন্তু বাজেটে পেলো ৯০৬ কোটি মাত্র।

সবুজ লাইন: সাফল্য গাঁথা, এখন রক্ষণাবেক্ষণ

সবুজ লাইন বা গ্রিন লাইন ইস্ট-ওয়েস্ট করিডোর হিসেবে সেক্টর ভি থেকে হাওড়া মৈদান পর্যন্ত ১৬.৬ কিলোমিটার পূরণ করেছে। এটি ভারতের প্রথম আন্ডারওয়াটার মেট্রো সেকশন। ২০২৬-২৭ বাজেটে এই লাইনের জন্য ৫২৯ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যা গত বছরের চেয়ে ২৯ কোটি বেশি। এই টাকা প্রধানত রক্ষণাবেক্ষণ এবং অপারেশনের জন্য। প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী এই লাইন ব্যবহার করছেন। এখানে থেকে কলকাতার ইতিহাস এবং পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন কেন্দ্র সম্পর্কে জানতে পারেন।

হলুদ লাইন: নোয়াপাড়া থেকে বারাসাত – আংশিক সাফল্য

হলুদ লাইন বা ইয়েলো লাইন নোয়াপাড়া থেকে বারাসাত পর্যন্ত ১৮ কিলোমিটার। ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত নোয়াপাড়া থেকে নতুন ব্যারাকপুর পর্যন্ত সেকশন চালু করার লক্ষ্য। কিন্তু নতুন ব্যারাকপুর থেকে বারাসাত পর্যন্ত জমি অধিগ্রহণের সমস্যায় এই অংশটি অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিলম্বিত। এই লাইনের বাজেট বরাদ্দ স্পষ্ট নয়, সোভারেন গ্রীন ফান্ড-এর অধীনে একীভূত।

যাত্রীদের জন্য কী কী সুবিধা

  • ইন্টারচেঞ্জ সুবিধা: কবি সুভাষে ব্লু লাইন, জাই হিন্দে সবুজ ও হলুদ লাইনসহ ইন্টারচেঞ্জ
  • কম সফরের সময়: বিমানবন্দু যেতে ৫৬ মিনিট, এড়িয়ে যাচ্ছে ট্রাফিক জ্যাম
  • সুরক্ষিত ও আরামদায়ক: এসি কোচ, সিসিটি ভি, নারী মাত্রা নিরাপত্তা
  • বাস ফিডার সেবা: স্টেশন থেকে বাস ফিডার সেবা যাত্রীদের সুবিধার্থে

রিয়েল এস্টেট ও অর্থনীতির প্রভাব

মেট্রো বিস্তারের কারণে গড়িয়া, জোকা, এসপ্ল্যানেড, সেক্টর ভি এলাকাতে বাসা ও কোমার্শিয়াল সম্পত্তির চাহিদা বেড়েছে। ফ্ল্যাটের দাম ও ভাড়া উঁচু হচ্ছে। মুর্শিদাবাদ পর্যটন এবং মায়াপুর-নবদ্বীপ ভ্রমণ গ এবং মেট্রো সংযোগের অর্থনৈতিক পাওয়ার আশা রয়েছে।

উপসংহার

কলকাতা মেট্রো ২০২৬ সালে একটি বড় পরিবর্তনের দ হালীতে দাঁড়িয়েছে। কমলা লাইনের চিঙ্গড়িখাটা গ্যাপ বন্ধ হলে সেক্টর ভি পর্যন্ত সেবা শুরু হতে পারে। জামুনি লাইনের আন্ডারগ্রাউন্ড টানেল ব্রেকথ্রু হলে এসপ্ল্যানেড পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম হবে। সবুজ লাইন ইতিমধ্যে সফলতার গাঁথা বাঁধেছে। হলুদ লাইন আংশিকভাবে ফলপ্রসূ হবে। যদিও জমি অধিগ্রহণ ও অনধিকার নির্মাণ বাধা রয়েছে, কিন্তু কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার যৌথ প্রচেষ্টায় এই সমস্যাগুলো সমাধান করা হচ্ছে। কলকাতাবাসীরা ভবিষ্যতে আরও দ্রুত, সুরক্ষিত ও কম খরচে শহরাঞ্চল ভ্রমণ করতে পারবেন।

প্রয়োজনীয় লিংক ও তথ্যসূত্র

আরও জানতে পড়ুন কলকাতা মেট্রো অফিসিয়াল সাইট-এ। বিস্তারিত বাজেট রিপোর্টের জন্য Magicbricks ২০২৬ রিপোর্ট এবং Swarajya ম্যাগাজিন রিপোর্ট দেখুন।

Nitya is a co-founder of BongDunia.com, a popular Bengali news and entertainment portal. He began his journey in content writing over 15 years ago. Currently, he contributes to various news portals, including BongDunia, delivering engaging and informative content for Bengali-speaking readers worldwide.

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.