সংক্ষেপে
- বাংলাদেশী চলচ্চিত্র ও টিভির বহু তারা এখন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ায় থাকেন
- শাবানা, শাবনূর, কাদেরী কিবরিয়া, টনি ডায়াসসহ প্রায় ৩০ জন তারকা দেশ ছেড়েছেন
- কেউ সাংস্কৃতিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, কেউ ব্যবসা আর পড়াচ্ছেন
- বিদেশে থেকেও বাংলাদেশী সংস্কৃতি ধরে রেখেছেন তারা
- নিয়মিত দেশে আসেন আর সামাজিক মাধ্যমে ভক্তদের সাথে থাকেন
বাংলাদেশি বিনোদন জগতের অনেক জনপ্রিয় মুখ এখন আর দেশে নেই। অভিনয়, গান আর টিভির নানা পরিচিত তারকা নানা কারণে দেশ ছেড়েছেন। কেউ ভালো জীবনের আশায়, কেউ পরিবার নিয়ে থাকতে, কেউ নতুন কাজ শিখতে। কিন্তু বিদেশের মাটিতেও তারা বাংলাদেশী সংস্কৃতি ছাড়েননি।
দ্য ডেইলি স্টারের এক প্রতিবেদন বলছে, এখন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা আর অস্ট্রেলিয়ায় প্রায় তিন ডজন বাংলাদেশি তারকা থাকছেন। তালিকায় আছেন শাবানা, শাবনূর, কাদেরী কিবরিয়া, টনি ডায়াসরা। চলুন দেখি, কোথায় কে আছেন আর কী করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত তারকারা
যুক্তরাষ্ট্রেই সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি তারকা থাকেন। এদের মধ্যে অন্যতম শাবানা, যাকে বলা হয় বাংলা সিনেমার সৌন্দর্যের রানি। তিনি এখন পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে শান্তিতে দিন কাটান আর মাঝে মাঝে দেশে বেড়াতে আসেন। সংগীতশিল্পী কাদেরী কিবরিয়াও দুই দশকের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে আছেন। ২০২৩ সালে তিনি একুশে পদক পেয়েছেন।
অভিনেতা টনি ডায়াস ও তার স্ত্রী প্রিয়া ডায়াস ১৫ বছরের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে। টনি সেখানে বাংলাদেশি পণ্য বিক্রি করেন আর একটি স্কুলে নাটক শেখান। তার মেয়ে অহনা লেখাপড়া আর পারফর্ম করছে। অভিনেতা শামীম শাহেদ রেডিও করছেন আর তিনটি ইংরেজি সিনেমা বানানোর পরিকল্পনা করছেন।
চলচ্চিত্র নির্মাতা তৌকির আহমেদ ও অভিনেত্রী বিপাশা হায়াতও যুক্তরাষ্ট্রে। তৌকির থিয়েটার ও সিনেমা নিয়ে কাজ করছেন। বিপাশা এখন ছবি আঁকেন, সেখানেও নাম করেছেন। টিভি উপস্থাপিকা নওশীন নাহরীন মৌ ও হিলোল যুক্তরাষ্ট্রে বসতি বানিয়েছেন। নওশীন একটি মাইগ্রেশন এজেন্সি চালান আর নিয়মিত বাংলাদেশি শিল্পীদের নিয়ে আড্ডার আয়োজন করেন।

কানাডা আর অস্ট্রেলিয়ায় তারকারা
কানাডায় আছেন ‘ওরে আমার পাগল মন’ গানের গায়ক আশিকুজ্জামান টুলু। এছাড়াও সেখানে আছেন অভিনেতা আরিফুল হক ও কাজী উৎপল আর সাবেক অভিনেত্রী অগ্নিলা। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ায় আছেন বাংলাদেশি সিনেমার প্রিয় নায়িকা শাবনূর। তিনি মাঝে মাঝে দেশে যান আর ভক্তদের মনে এখনও তার জায়গা আছে।
কে কোথায় আছেন: একটি তালিকা
| নাম | পেশা | দেশ | এখন কী করছেন |
|---|---|---|---|
| শাবানা | অভিনেত্রী | যুক্তরাষ্ট্র | পরিবার নিয়ে শান্তিতে আছেন, মাঝেমধ্যে দেশে যান |
| কাদেরী কিবরিয়া | গায়ক | যুক্তরাষ্ট্র | একুশে পদক পেয়েছেন, সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করেন |
| টনি ডায়াস | অভিনেতা | যুক্তরাষ্ট্র | পণ্য বিক্রি করেন আর স্কুলে নাটক শেখান |
| প্রিয়া ডায়াস | নৃত্যশিল্পী | যুক্তরাষ্ট্র | বাংলাদেশি নাচ শেখান |
| শামীম শাহেদ | অভিনেতা | যুক্তরাষ্ট্র | রেডিও আর সিনেমা বানানোর পরিকল্পনা |
| তৌকির আহমেদ | নির্মাতা | যুক্তরাষ্ট্র | থিয়েটার ও সিনেমা নিয়ে কাজ |
| বিপাশা হায়াত | অভিনেত্রী | যুক্তরাষ্ট্র | ছবি আঁকেন |
| নওশীন নাহরীন মৌ | টিভি ব্যক্তিত্ব | যুক্তরাষ্ট্র | মাইগ্রেশন এজেন্সি চালান |
| মোনালিসা | অভিনেত্রী | যুক্তরাষ্ট্র | নতুন জীবন গড়েছেন |
| লুৎফুন নাহার লতা | অভিনেত্রী | যুক্তরাষ্ট্র | সংসার নিয়ে ব্যস্ত |
| শাবনূর | অভিনেত্রী | অস্ট্রেলিয়া | কখনো দেশে যান |
| আশিকুজ্জামান টুলু | গায়ক | কানাডা | গান নিয়েই আছেন |
বিদেশে কী করছেন তারকারা
নিজেদের ব্যস্ত রাখছেন যেভাবে
বিদেশে থেকেও তারকারা অলস হয়ে বসে থাকেননি। কেউ ব্যবসা করছেন, কেউ পড়াচ্ছেন, কেউ শিল্পচর্চা করছেন। টনি ডায়াস বাংলাদেশি পণ্য আমেরিকায় বিক্রি করেন আর স্কুলে নাটক শেখান। তার স্ত্রী প্রিয়া বাংলাদেশি নাচের প্রচার করেন। নওশীন নাহরীন মৌ মাইগ্রেশন নিয়ে কাজ করেন আর নিজের বাড়িতে নিয়মিত শিল্পীদের ডেকে আড্ডা দেন।
বাংলাদেশের সাথে যোগাযোগ
বিদেশে থেকেও তারা বাংলাদেশি সংস্কৃতি ভোলেননি। নওশীনের বাড়িতে নিয়মিত বাংলাদেশি শিল্পীদের আড্ডা হয়। আসেন নাদিয়া আহমেদ, রোমানা, তমালিকা কর্মকাররা। তমালিকা ‘কথাও কেউ নাই’ সিরিজের জন্য পরিচিত। তার বাড়িতেও শিল্পীদের নিয়ে আয়োজন হয়।
মোনালিসা বলেন, “এখানে নতুন জীবন বানিয়েছি। কিন্তু মায়ের কথা আর দেশের মাটি প্রতিদিন মনে পড়ে।” অনেক তারকাই ফেসবুকে সক্রিয় থাকেন। বাংলাদেশি উৎসবগুলো নিজের মতো করে পালন করেন আর দেশের খবর রাখেন।
আরও যারা আছেন
এছাড়াও আরও অনেকে বিদেশে আছেন। প্রমিথিউস ব্যান্ডের বিপ্লব, এস আই তুতুল, ক্লোজ-আপ খ্যাত সোনিয়ারা নিজের ক্যারিয়ার গড়েছেন। অভিনেত্রী সবিনা বারী লাকী, মজনু মিজান, খাইরুল ইসলাম পাখি, আনিসুর রহমান মিলন, বিংদু, রিয়া, রোমানা ও তামান্নাও দেশ ছেড়েছেন। কেউ সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করেন, কেউ সংসার নিয়ে ব্যস্ত।
উপসংহার
বাংলাদেশি তারকাদের বিদেশে চলে যাওয়া বাস্তবতা। তবে ভালো লাগে যে, দূরে থেকেও তারা নিজেদের সংস্কৃতি ভোলেননি। ফেসবুকে কথা বলেন, দেশে বেড়াতে যান, ভক্তদের সাথে থাকেন। নতুন প্রজন্মের জন্য এটাই বড় কথা যে, বাংলাদেশি প্রতিভা পৃথিবীর যেকোনো জায়গাতেই জ্বলতে পারে।
আরও পড়ুন: পুরানো দিনের বাংলা সিনেমার লিস্ট | অভিনেত্রী রানী মুখার্জির জীবন | শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়ের অজানা কথা | তাপস পালের শেষ জীবন







