সময়ের সাথে হাত মিলিয়ে

Advertisement

প্রচুর কর্মী নিয়োগ করতে চলেছে রাজ্য সরকার; নুন্যতম যোগ্যতা মাধ্যমিক পাশ

0

বং দুনিয়া ওয়েব ডেস্কঃ বেশ কয়েকদিন ধরেই আলোচনার পর অবশেষে জট কাটিয়ে উঠে নবান্ন থেকে সবুজ সংকেত পাওয়া গেল রাজ্যে লোয়ার ডিভিশন ক্লার্ক নিয়োগের ক্ষেত্রে । রাজ্য সরকারের পাবলিক সার্ভিস কমিশন (PSC) – পরীক্ষার মাধ্যমে নতুন কর্মী নিয়োগ করবে । পরীক্ষায় বসতে গেলে নুন্য তম শিক্ষাগত যোগ্যতা মাধ্যমিক পাশ হলেই চলবে ।

অনেক দিন ধরেই রাজ্য সরকারের LDC (lower Division Clerk) পদের জন্য কোন পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছিল না । কিন্তু অবশেষে অনেক প্রতীক্ষার অবসান ঘটল । শেষ পর্যন্ত নবান্ন থেকে জানানো হল, আপাতত পরীক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে জটিলতা কেটে গেছে এবং রাজ্য পাবলিক সার্ভিস কমিশন(পিএসসি)-র মাধ্যমে পরীক্ষা নিয়ে নতুন কর্মী নিয়োগ হবে । উল্লেখ্য, প্রায় এক দশকেরও  বেশি সময় পরে ক্লার্কশিপ পরীক্ষার দায়িত্ব পেল পিএসসি।

এই বছরের প্রথম দিকে ২২ শে ফেব্রুয়ারি রাজ্য সরকার PSC-র মাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে । সব মিলিয়ে শুন্য পদের সংখ্যা ছিল ৪০০০ । কিন্তু অপ্রত্যাশিতভাবে প্রায় সাত লাখেরও বেশি আবেদন জমা পড়ায় কিভাবে এবং কোন সংস্থার মাধ্যমে পরীক্ষা নেওয়া হবে সেটা নিয়েই জটিলতার সুত্রপাত শুরু হয় । সেক্ষেত্রে সমস্যা হয় SSC না PSC কার মাধ্যমে পরীক্ষা নেওয়া হবে তা নিয়েই বিতর্ক শুরু হয় । সেই সিদ্ধান্ত নিতেই সময় লেগে গেল প্রায় ১০ মাস । অবশেষে,  পুরোপুরিভাবে পিএসসির হাতে এই পরীক্ষার দায়িত্বভার তুলে দিয়েছে রাজ্য সরকার।

মোটামুটিভাবে জানা গেছে, আগামী বছরের শুরুর দিকে এই আবেদন পত্র জমা নেওয়ার কাজ শুরু হবে । পরীক্ষা হবে সম্পূর্ণ অন লাইন পদ্ধতিতে । নুন্য তম শিক্ষাগত যোগ্যতা মাধ্যমিক পাশ হতে হবে । সেই সাথে কম্পিউটারের বেসিক জ্ঞান থাকা বাধ্যতামূলক । পরীক্ষা হবে দুটি ধাপে ।  দু’টি পর্যায়ে লিখিত পরীক্ষায় শেষে থাকবে কম্পিউটারে বাংলা এবং ইংরেজিতে টাইপিং টেস্ট । প্রথম পর্বের লিখিত পরীক্ষা হবে দেড় ঘণ্টার। ইংরেজি ও পাটিগণিতের উপর ৩০ নম্বর করে মোট ৬০ নম্বরের প্রশ্ন থাকবে। বাকি ৪০টি প্রশ্ন থাকবে জেনারেল স্টাডিসের উপর। পুরো পরীক্ষাটি হবে মাল্টিপল চয়েজের ওপর। এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে দ্বিতীয় পর্যায়ের পরীক্ষা হবে ।

দ্বিতীয় পর্যায়ে থাকবে ৫০ নম্বরের ইংরেজি এবং ৫০ নম্বরের বাংলা অথবা অন্যান্য মাতৃভাষা (হিন্দি, উর্দু, নেপালি, সাঁওতালি) উপর ।  দ্বিতীয় পর্যায় সফল প্রার্থীদের কম্পিউটার টাইপিং টেস্ট নেওয়া হবে। সেখানে এক মিনিটের ভিত্তিতে ইংরেজিতে ২০টি এবং বাংলায় ১০টি করে শব্দ টাইপ করতে হবে। টাইপিং টেস্ট সহ এই তিনটি পরীক্ষার নম্বর মিলিয়ে তৈরি হবে মেধা তালিকা। এরই ভিত্তিতে ভিত্তিতেই সফল প্রার্থীদের পদে নিযুক্ত করা হবে। পরীক্ষার সার্বিক স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে, একইসঙ্গে পরীক্ষা কেন্দ্রে উত্তরপত্র নকল কিংবা অন্যান্য অসত্‍ উপায় অবলম্বনের ক্ষেত্রেও বেশ কয়েকটি কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কমিশন।

পি এস সি পরীক্ষা হবে সে সব কেন্দ্রে সেগুলি হল,  কলকাতা উত্তর, কলকাতা দক্ষিণ, বারুইপুর, ডায়মন্ডহারবার, বারাকপুর, বারাসত, কৃষ্ণনগর, হাওড়া, চুঁচূড়া, বর্ধমান, আসানসোল, পুরুলিয়া, মেদিনীপুর, তমলুক, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, সিউড়ি, বহরমপুর, মালদহ, বালুরঘাট, রায়গঞ্জ, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, শিলিগুড়ি, কালিম্পং, দার্জিলিং।

মন্তব্য
Loading...