প্রকৃতই কি সুরক্ষিত কাশ্মীরবাসী? শ্রীনগর হাসপাতাল দেখাচ্ছে অন্য ছবি

0

বং দুনিয়া ওয়েব ডেস্ক: সম্প্রতি ভারত সরকার কতৃক ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ এবং ৩৫এ অনুচ্ছেদ দুটি বাতিল করবার পর সারা দেশ জুড়ে, এমনকি গোটা পৃথিবীতে তা এখন আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারত সরকারের এই সিদ্ধান্তকে মানতে না পেরে একের পর এক পদক্ষেপ নিয়ে চলেছে প্রতিবেশী রাষ্ট্র পাকিস্তান। এমনকি দেশের অভ্যন্তরেও অনেকে ভারত সরকারের এহেন সিদ্ধান্তকে বেআইনি ঘোষণা করে এর বিরোধিতা করে চলেছে। কিন্তু এতে বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ না করে জম্মু এবং কাশ্মীরকে দুটি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করেছে নরেন্দ্র মোদী’র সরকার।

সেকারণে বর্তমানে ভারত সরকারের কাছে সবথেকে বড়ো চ্যালেঞ্জ হল কাশ্মীরের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। এমনকি সেকারণে ঈদ উপলক্ষেও বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে ভারতীয় প্রশাসন।

ভারত সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য দাবি করা হচ্ছে যে, বর্তমানে কাশ্মীরের পরিস্থিতি একেবারে শান্ত। বলা হচ্ছে যে ‘বিশেষ মর্যাদা’ তুলে নেওয়ার পরে গত ছয় দিনে একটাও গুলি চলেনি কাশ্মীরে, অল্প কিছু জায়গায় বিক্ষোভ হলেও তা হাতে গোণা।

কিন্তু কাশ্মীরের শ্রীনগর হাসপাতালের ভেতরের ছবি এর ঠিক বিপরীত কথা বলছে! জানা যাচ্ছে যে, সেখানে প্রতিদিন কিছু না কিছু কাশ্মীরী যুবক আহত অবস্থায় ভর্তি হচ্ছে। যদি প্রকৃতভাবেই কাশ্মীর শান্ত হয়, তবে এমন ঘটনা কেন ঘটছে?

শ্রীনগরের এসএইচএমএস হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন মহম্মদ ইউসুফ খান, যিনি কাশ্মীরের এক সাধারণ ব্যবসায়ী। জানা যাচ্ছে যে, গত শনিবার যখন তিনি তার দোকানের বাইরে দাঁড়িয়েছিলেন, সেই মুহূর্তে হঠাৎ বাঁ চোখে এসে লাগে একটি ছররা গুলি। সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় ৩০ বছরের যুবক ইউসুফকে। গুলিতে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাঁ চোখ। অস্ত্রোপচার হয়েছে। চোখ বাদেও বাঁ হাতে একাধিক জায়গায় ছররার আঘাতের চিহ্ন।

শুধু ইউসুফ’ই নয়, ইউসুফ এর মতো আরও বহু কাশ্মীরী যুবক ভর্তি রয়েছে শ্রীনগরের এসএইচএমএস হাসপাতালে। তাদের মধ্যে কারও পায়ে আঘাত, কারও পেটে, কারও আবার মাথায়। আজ ঈদের দিন নিজের বাড়িতে পরিবারের সাথে সময় কাটাতে পারছেনা সেই সকল যুবক। হাসপাতালের সূত্রানুযায়ী, বিগত পাঁচ-ছয় দিন ধরে প্রতিদিন গড়ে ১০-১২ জন যুবক হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। তাঁদের প্রত্যেকের গায়েই কোথাও না কোথাও আঘাতের চিহ্ন।

সুতরাং ভারত সরকার কতৃক সংবিধানের ৩৭০ এবং ৩৫এ অনুচ্ছেদ দুটি বাতিল করার পর কাশ্মীরের বাসিন্দা’রা বাস্তবিকই সুরক্ষিত কিনা, তা প্রশ্নচিহ্নের উদ্ব্রে‌গ করছে সকলের মনে।

আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
মন্তব্য
Loading...